Ajker Patrika

কৃষক ও খেতমজুরদের নানা সংকট নিরসনে ৭ দফা দাবি

ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি 
কৃষক ও খেতমজুরদের নানা সংকট নিরসনে ৭ দফা দাবি
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে স্মারকলিপি দেন জাতীয় কৃষক সমিতির নেতারা। ছবি: আজকের পত্রিকা

কৃষক ও খেতমজুরদের সমস্যা ও সংকট নিরসন, কৃষি উৎপাদন ব্যয় কমানো, ফসলের ন্যায্যমূল্য, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নসহ সাত দফা দাবিতে দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে স্মারকলিপি দিয়েছে জাতীয় কৃষক সমিতি। আজ রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) হাতে স্মারকলিপি তুলে দেন সংগঠনের নেতারা।

স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, দেশের কৃষকেরা প্রতিকূল আবহাওয়া, উপকরণের উচ্চমূল্য, বাজারব্যবস্থার অনিয়ম, মধ্যস্বত্বভোগী ও সিন্ডিকেটের সীমাহীন দৌরাত্ম্যসহ নানা সংকটের মধ্য দিয়ে কৃষি উৎপাদন অব্যাহত রেখেছেন। অথচ উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত প্রকৃত কৃষক ও খেতমজুরেরা তাঁদের শ্রম ও উৎপাদনের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত।

দাবিসমূহ হলো—সার, ডিজেল ও বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়ানোর পাশাপাশি মূল্য কমাতে হবে; সারের কালোবাজারি বন্ধ করতে হবে এবং পাটের লাভজনক মূল্য দিতে হবে; কৃষি কার্ড বিতরণে দলীয়করণ বন্ধ করে প্রকৃত কৃষক ও খেতমজুরদের হাতে কার্ড দিতে হবে এবং গ্রামীণ রেশনিং ব্যবস্থা চালু করতে হবে; চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী বন্ধ করে আইনশৃঙ্খলার উন্নতি করতে হবে; ফুলবাড়ীতে কৃষিজমি, প্রাণ-প্রকৃতি ধ্বংস করে উন্মুক্ত কয়লাখনি করা যাবে না।

স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়েছে, একদিকে সার, ডিজেল, বিদ্যুৎ, বীজ ও অন্যান্য কৃষি উপকরণের ব্যয় কৃষকের উৎপাদন খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে, অন্যদিকে উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় কৃষক ঋণগ্রস্ত ও অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত হচ্ছেন। পাটসহ বিভিন্ন বাজারে সিন্ডিকেট ও মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব কৃষকের স্বার্থকে ধ্বংস করছে।

কৃষক সমিতির নেতাদের অভিযোগ, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী, দখলদারসহ বিভিন্ন ধরনের সামাজিক অনাচারের কারণে গ্রামীণ মানুষের স্বাভাবিক জীবন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ব্যাহত হচ্ছে। কৃষক যাতে নিরাপদ পরিবেশে উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বাজারজাত করতে পারেন, সে জন্য আইনশৃঙ্খলার কার্যকর উন্নতি জরুরি ও অপরিহার্য।

স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় কৃষক সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কৃষক নেতা শফিকুল ইসলাম শিকদার, সমিতির ফুলবাড়ী শাখার সদস্য আইয়ুব আলী, সদস্য সুলতান ইসলাম, সদস্য শাহাদাত হোসেন প্রমুখ।

ইউএনও আহমেদ হাছান বলেন, ‘কৃষক সমিতির স্মারকলিপি পেয়েছি, তবে তাদের বিষয়ে আমি তেমন কিছু জানি না। স্মারকলিপিটি আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়ে দেব, বিষয়টি তাঁরা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেবেন।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত