Ajker Patrika

ফরিদগঞ্জে সবুজ ধানখেতে উঁকি দিচ্ছে শিষ, পরিচর্যায় ব্যস্ত কৃষক

ফরিদগঞ্জ (চাঁদপুর) প্রতিনিধি
ফরিদগঞ্জে সবুজ ধানখেতে উঁকি দিচ্ছে শিষ, পরিচর্যায় ব্যস্ত কৃষক
ধানখেতে ওষুধ স্প্রে করছেন কৃষক আব্দুর রাজ্জাক। ফরিদগঞ্জের ভাটিরগাঁও এলাকায়। ছবি: আজকের পত্রিকা

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার যেদিকে চোখ যায়, সেদিকেই শুধু সবুজ ধানখেত। প্রতিটি খেতে উঁকি দিচ্ছে ধানের শিষ। ধানখেতের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন কৃষকেরা। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ধান পেকে যাবে। শূন্য গোলা সোনালি ধানে ভরে তোলার আশায় বুক বাঁধছেন কৃষক। ঘরে ধান তুলতে পারলেই কিষান-কিষানিদের সব কষ্ট সার্থক হবে। তাঁদের মুখে ফুটে উঠবে আনন্দের হাসি।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ফরিদগঞ্জে ১০ হাজার ১৪০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও প্রকৃত আবাদ হয়েছে ১০ হাজার ১৫০ হেক্টর জমিতে—যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১০ হেক্টর বেশি। গত মৌসুমে এ উপজেলায় বোরো আবাদ হয়েছিল ১০ হাজার ১২০ হেক্টর জমিতে। চলতি মৌসুমে ১ হাজার ১৫০ জন কৃষকের মাঝে প্রণোদনাস্বরূপ সার, বীজ ও রোগবালাইয়ের কীটনাশক বিতরণ করা হয়েছে। রোগবালাইয়ের উপদ্রব কম থাকায় এবং যথাসময়ে সেচ ও সারের জোগান নিশ্চিত হওয়ায় এবার ফলন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে মনে করছেন কৃষি সংশ্লিষ্টরা।

ভাটিরগাঁও এলাকার কৃষক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, প্রতিটি ধানখেতে শিষ উঁকি দিচ্ছে। তাঁরা চাষাবাসে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

বড়ালী গ্রামের কৃষক ফারুক হোসেন বলেন, এ বছর তিনি ১০ বিঘা জমিতে বোরো চাষ করেছেন। সুস্থ-সবল ধানগাছ দেখে তাঁর মন খুশিতে ভরে উঠেছে।

তবে ধান চাষ নিয়ে অনেক কৃষক হতাশার কথাও জানান। শাসনমেঘ এলাকার কৃষক মোশারফ হোসেন, সাহেবগঞ্জের কাউসার হোসেনসহ অনেকে বলেন, উৎপাদন খরচ ও পরিশ্রমের তুলনায় ধানের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় অনেক চাষি কৃষিকাজে আগ্রহ হারাচ্ছেন। সরকারের কাছে তাঁদের দাবি, সারের মতো ধানের ন্যায্যমূল্য নির্ধারণ করলে প্রান্তিক কৃষকের দুর্দশা দূর হবে।

গুপ্তের বিল এলাকার কৃষক সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘এখন একটাই প্রার্থনা—শেষ দিনগুলোতে আবহাওয়া শান্ত থাকুক। শিলাবৃষ্টি বা কালবৈশাখী যেন আমাদের কষ্টের ফসল নষ্ট না করে।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কল্লোল কিশোর সরকার বলেন, ‘মাঠপর্যায়ে কৃষকদের নানাভাবে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কৃষকেরা আমাদের পরামর্শ মেনে চলছেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে চলতি মৌসুমে বোরোর লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে। নিবিড় পরিচর্যা ও যথাসময়ে সার-কীটনাশক প্রয়োগে বাম্পার ফলনের আশা করছে কৃষি বিভাগ।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত