চাঁদপুরে ছিনতাইয়ের ৫ দিন পর ‘গরু জাহিদের’ তথ্যে পন্টুনের সুড়ঙ্গে মিলল ১৮ ভরি স্বর্ণালংকার

চাঁদপুর বড় রেলওয়ে স্টেশনে এক নারীর কাছ থেকে ১৯ ভরি স্বর্ণালংকার, ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা ও তিনটি মোবাইল ফোন ছিনতাইয়ের ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তাঁদের কাছ থেকে ছিনতাই হওয়া ১৮ ভরি স্বর্ণালংকার, ৪৮ হাজার টাকা ও একটি স্মার্টফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
আজ রোববার দুপুরে চাঁদপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) নাদিয়া নূর।
পুলিশ জানায়, ৫ নভেম্বর ভোর ৪টা ৫৬ মিনিটে চাঁদপুর বড় রেলওয়ে স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে এ ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। ফরিদগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা ফাতেমা আক্তার চট্টগ্রাম যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়ে চাঁদপুর স্টেশনে পৌঁছালে ছিনতাইকারীরা তাঁর কাছ থেকে ১৯ ভরি স্বর্ণালংকার, ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা ও তিনটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়।
এ ঘটনায় ফাতেমার ভাই মেরাজুল ইসলাম বাদী হয়ে চাঁদপুর রেলওয়ে থানায় মামলা করেন। পরে পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান ঘটনার ছায়া তদন্তের দায়িত্ব জেলা গোয়েন্দা শাখাকে দেন।
পুলিশ সুপার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মজিবুর রহমানের নেতৃত্বে একটি দল তদন্ত শুরু করে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে চাঁদপুরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ঘটনার মূল হোতা হিসেবে চিহ্নিত মো. জাহিদ হোসেন ওরফে গরু জাহিদ (২১) ও রাব্বি হোসেনকে (২৪) গ্রেপ্তার করা হয়।
জাহিদ চাঁদপুর শহরের শ্রমিক কলোনির মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের ছেলে। রাব্বি শহরের জামতলা এলাকার আব্দুল মালেক কুড়ালির ছেলে।
পুলিশ জানায়, পরে ৭ নভেম্বর ভোরে কিশোরগঞ্জ সদর থানার মাইজকান্দি ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মাইজকান্দি গ্রামে এক আসামির বোনের শ্বশুরবাড়ি থেকে জাহিদ ওরফে গরু জাহিদকে (২১) গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাঁর হেফাজত থেকে ছিনতাই হওয়া ৪৮ হাজার টাকা ও একটি স্মার্টফোন উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য, গরু জাহিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন রাত সাড়ে ৯টার দিকে চাঁদপুর বড় স্টেশনের বরফকল ভিআইপি ঘাটের সিঁড়ির নিচে ও নদীর পন্টুনের সুড়ঙ্গ থেকে ছিনতাই হওয়া স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়। তাঁর দেখিয়ে দেওয়া স্থান থেকে তিনি নিজেই স্বর্ণালংকারগুলো বের করে দেন।
উদ্ধার করা স্বর্ণালংকারের মধ্যে রয়েছে সাতটি চেইন, পাঁচটি আংটি, চার জোড়া কানের দুল, দুটি রুলি, একটি গলার হার ও একটি ব্রেসলেট। এসব অলংকারের ওজন প্রায় ১৮ ভরি।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাদিয়া নূর বলেন, এ ঘটনায় জড়িত তিন আসামিকেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।









