Ajker Patrika

সাবেক চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ আরও দুই মামলায় গ্রেপ্তার

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭: ২৬
সাবেক চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ আরও দুই মামলায় গ্রেপ্তার
কারাগার থেকে আদালতে নেওয়া হচ্ছে সাবেক চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজকে। ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় সংসদের সাবেক চিফ হুইপ ও পটুয়াখালী-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আ স ম ফিরোজকে আরও দুই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। আজ বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হক পৃথক আদেশে দুই মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দেন।

এ সময় সাবেক এই চিফ হুইপকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। যাত্রাবাড়ী থানার একটি হত্যা মামলা ও একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন সংশ্লিষ্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তারা। শুনানি শেষে আদালত দুই আবেদন মঞ্জুর করে গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দেন। পরে ফিরোজকে আদালত থেকে আবার কারাগারে ফেরত পাঠানো হয়।

হত্যা মামলা

২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে যাত্রাবাড়ী থানা এলাকায় শিশু নাঈম হাওলাদারের মৃত্যুর ঘটনায় করা হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এস আই নাজিম উদ্দিন ফকির সাবেক চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন।

এ মামলার এজাহার থেকে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই আন্দোলনকারীদের সঙ্গে ছিল শিশু নাঈম হাওলাদার। কুতুবখালী উচ্চবিদ্যালয়ের সামনে বেলা আড়াইটার দিকে নাঈম হাওলাদার গুলিবিদ্ধ হয়। তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই দিন বিকেলে সে মৃত্যুবরণ করে।

এ ঘটনায় করা হত্যা মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেছেন, আ স ম ফিরোজ এই হত্যার ঘটনায় জড়িত ছিলেন বলে সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে।

হত্যাচেষ্টা মামলা

২০২৪ সালের ১৯ জুলাই যাত্রাবাড়ী থানার কুতুবখালী এলাকায় সুবর্ণ পান্না ম্যানসনের ছাদের ওপর গুলিবিদ্ধ হন তারেক চৌকিদার নামের এক যুবক। আহত তারেক চৌকিদারকে উদ্ধারের জন্য এগিয়ে যান শিহাব নামের আরও এক যুবক। তিনিও গুলিবিদ্ধ হন।

তাঁরা চিকিৎসা শেষে বাসায় ফিরে ২০২৪ সালের ২৬ মার্চ যাত্রাবাড়ী থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা করেন।

এই মামলায়ও আ স ম ফিরোজকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা যাত্রাবাড়ী থানার এসআই রফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া।

গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদনে বলা হয়েছে, আ স ম ফিরোজ ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন বলে তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। শুনানি শেষে আদালত গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দেন।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সরকার পতনের পর ২৩ আগস্ট রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে আটক করা হয় আ স ম ফিরোজকে। এরপর বিভিন্ন মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

শুনানিতে ফিরোজ

শুনানির একপর্যায়ে আদালতের অনুমতি নিয়ে কথা বলেন আ স ম ফিরোজ।

ফিরোজ বলেন, ‘আমার বয়স ৭৮ বছর। দুই বছরের বেশি সময় ধরে কারাগারে আছি। আমি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। দেশের জন্য যুদ্ধ করেছি। আটবারের সংসদ সদস্য। আমি কোনো অন্যায়-অবিচার করিনি। কোনো অপরাধ করিনি। আমি অসুস্থ, আমাকে চিকিৎসার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।’

ফিরোজ আরও বলেন, এক মামলায় জামিন পেলে নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত