Ajker Patrika

কর্মীদের হাতে বিএনপি নেতা খুন, ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী
আপডেট : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৩: ৩৮
কর্মীদের হাতে বিএনপি নেতা খুন, ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা
রাজশাহীর চারঘাটে পিটুনীতে নিহত বিএনপি নেতার লাশের পাশে স্বজনের আহাজারি। ছবি: সংগৃহীত

রাজশাহীর চারঘাট উপজেলায় দলীয় কর্মীদের হাতে বিএনপি নেতা এরশাদ আলীর (৬৫) খুনের ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা করা হয়েছে। শনিবার সকালে নিহত এরশাদ আলীর ছেলে রিমন আলী (২২) বাদী হয়ে ৯ জনের বিরুদ্ধে চারঘাট থানায় মামলাটি করেছেন।

মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে রাজশাহী-৬ (বাঘা-চারঘাট) আসনে বিএনপির মনোনয়নবঞ্চিত নেতা আনোয়ার হোসেন উজ্জ্বলকে (৫৫)। তিনি জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি। এ ছাড়া চারঘাট উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জহুরুল ইসলাম জীবনকেও (৪৮) এতে আসামি করা হয়েছে।

অন্য আসামিরা হলেন ইউসুফপুর নিখাইপাড়া গ্রামের মো. আমরাউল (৫৫), মো. জোয়াভ (৪৫), আতিকুল ইসলাম ওরফে সাইমুল (৪৫), মো. আসাদুল (৩০), মো. সুমন (৩২), মো. দাব্বির (২০) এবং মো. হালিম (৫০)। আতিকুল ইসলাম সাইদুল প্রধান আসামি আনোয়ার হোসেন উজ্জ্বলের চাচাতো ভাই।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, আনোয়ার হোসেন উজ্জ্বলের সমর্থক এবং এলাকার সংসদ সদস্য আবু সাইদ চাঁদ গ্রুপের সমর্থকদের মধ্যে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধ চলছিল। বাদীর বাবা এরশাদ আলী সংসদ সদস্য আবু সাইদ চাঁদ গ্রুপের একজন সমর্থক। আগামী ৯ এপ্রিল ইউসুফপুরে জলসার প্রধান অতিথি হওয়ার বিষয় নিয়ে শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ইউসুফপুর সিপাইপাড়া জামে মসজিদে স্থানীয় লোকজনের মতবিনিময় হয়। সেখানে বাদী ও তাঁর বাবাও উপস্থিত ছিলেন।

এজাহারে বলা হয়, জলসার প্রধান অতিথি হওয়ার বিষয়কে কেন্দ্র করে উজ্জ্বল গ্রুপের সমর্থকদের সঙ্গে আবু সাইদ চাঁদ গ্রুপের সমর্থকদের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। তখন উজ্জ্বল গ্রুপের সমর্থকেরা প্রকাশ্যে হুমকি দেন, চাঁদকে সমর্থন করলে খুন-জখম করে ফেলবেন। এরশাদ আলী এর প্রতিবাদ করলে আসামিরা উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। পরে তিনি মসজিদ থেকে চলে আসেন।

রাতে এরশাদ আলী তারাবির নামাজ পড়ার জন্য ইউসুফপুর সিপাইপাড়া মসজিদে যান। নামাজ শেষে রাত সাড়ে ৯টার দিকে বাড়িতে ফেরার পথে ইউসুফপুর সিপাইপাড়া গ্রামে আসামিরা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে বাঁশের লাঠি, লোহার রড, আমের ডাল ও পেয়ারাগাছের ডাল নিয়ে এরশাদ আলীর পথরোধ করেন। এরপর তাঁকে সেখানে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।

ঘটনার বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সাঈদ চাঁদ বলেন, ‘আনোয়ার হোসেন উজ্জ্বল জনবিচ্ছিন্ন। জনগণের সমর্থন নাই। তারা এখন মানুষ খুন করে রাজনীতি করতে চাচ্ছে। আমি এই ঘটনার কঠোর বিচার চাই। ইতিমধ্যে পুলিশ প্রশাসনকে বলেছি।’

জানতে চাইলে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা আনোয়ার হোসেন উজ্জ্বল বলেন, ‘যে গ্রামে ঘটনা, সে গ্রামেই আমার বাড়ি। আমি ছয় দিন ধরে ঢাকায় আছি। যিনি মারা গেছেন, তিনিও সম্পর্কে আমার দাদা। আসামিরা সবাই আত্মীয়। মসজিদের কমিটি নিয়ে সমস্যায় এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটেছে। এখন আমার ভাবমূর্তি নষ্ট করতে আবু সাঈদ চাঁদ আমাকে জড়িয়ে মামলা করিয়েছেন।’

আনোয়ার হোসেন আরও বলেন, ‘আমি মনোনয়ন চেয়েছিলাম। মনোনয়ন না পেলেও ধানের শীষের পক্ষে কাজ করেছি। তারপরও প্রতিহিংসা থামেনি। এটা খুবই নিন্দনীয়। রাজনীতি এত নোংরা হওয়া উচিত নয়।’

চারঘাট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সিরাজুল ইসলাম জানান, মামলা রেকর্ড হলেও এখনো কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে পুলিশ। তিনি জানান, নিহত এরশাদ আলীর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হবে। ময়নাতদন্তের পর মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

উল্লেখ্য, নিহত এরশাদ আলী ইউসুফপুর ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য ছিলেন। দলীয় মনোনয়নকে ঘিরে ওই এলাকায় আবু সাঈদ চাঁদ ও আনোয়ার হোসেন উজ্জ্বলের অনুসারীদের মধ্যে উত্তেজনা ছিল। এর জেরে শুক্রবার রাতে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন এরশাদ।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত