Ajker Patrika

রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে কালি: রিমান্ড শেষে কারাগারে আয়াস

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে কালি: রিমান্ড শেষে কারাগারে আয়াস
ফাইল ছবি

রাজধানী সেগুনবাগিচায় দেয়ালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতিতে কালি লাগানোর ঘটনায় গ্রেপ্তার আল নূর মোহাম্মদ আয়াস (২৭) ও মো. সাকিবুস হাসানকে (১৯) কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তাঁদের আইনজীবীরা জামিন আবেদন করলে আদালত তা নামঞ্জুর করেন।

আজ বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. রিয়াদ হোসেন কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

রিমান্ড শেষে বিকেলে দুজনকে আদালতে হাজির করে শাহবাগ থানা-পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহবাগ থানার এসআই আব্দুল গাফফার হিমেল তাঁদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। অন্যদিকে তাঁদের পক্ষে জামিনের আবেদন করেন আইনজীবীরা। শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

গত রোববার দুজনকে ৩ দিন করে রিমান্ডে নেওয়া হয়। ওই দিন একই মামলার অন্যতম আসামি সুজন ও রিমিকে ২ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। তাঁদের গত মঙ্গলবারই কারাগারে পাঠানো হয়।

মামলার পুলিশ প্রতিবেদন ও এজাহারে বলা হয়, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের হকার উচ্ছেদ অভিযানের সময় সেগুনবাগিচায় শিল্পকলা একাডেমির বিপরীত পাশের সড়ক ও ফুটপাতের হকারদের সরিয়ে দেওয়া হয়। ওই এলাকার গণপূর্ত অধিদপ্তরের সীমানাপ্রাচীরে বিভিন্ন শিল্পকর্ম, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক বিষয় নিয়ে গ্রাফিতি আঁকা ছিল।

গত ৯ অক্টোবর ‘সংলাপ ফোরাম’-এর সভাপতি আল নূর মোহাম্মদ আয়াস গ্রাফিতিগুলো চুনকাম করে মুছে ফেলার ঘোষণা দেন। এ বিষয়ে শাহবাগ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। পরে মামলা হয়।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ৯ অক্টোবর রাত সাড়ে ১১টার দিকে শিল্পকলা একাডেমির ফটকের বিপরীত পাশের দেয়ালের কাছে চারজনকে একত্র হন। এ সময় আয়াসসহ অন্যরা বিভিন্ন বক্তব্য দেন এবং মারজিয়া খন্দকার রিমি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতিতে কালো রং লাগান বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তাদের বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ানো এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের চেষ্টা করা হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, আয়াস পাকিস্তানে মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর কবর ও নামফলকের প্রসঙ্গ তুলে বক্তব্য দেন। অন্যদিকে রিমি ভারতীয় আগ্রাসন ও রবীন্দ্রনাথের জমিদারি নিয়ে মুসলমানদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ তুলে গ্রাফিতির ওপর কালো রং লাগান।

উল্লেখ্য, তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন, এই দুজনকে পুনরায় রিমান্ডে নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত