
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পীর পরিচিতি পাওয়া আবদুর রহমান ওরফে শামীমকে হত্যার অভিযোগে দায়ের মামলায় জেলা শিবিরের সাবেক সভাপতি খাজা আহম্মেদকে (৩৫) হুকুমের আসামি করা হয়েছে। মামলায় তিনিসহ চারজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতপরিচয়ের আসামি করা হয়েছে ১৮০ থেকে ২০০ জনকে। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, শিবিরের সাবেক নেতা খাজা আহম্মেদের হুকুমে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় আসামিরা।
তবে মামলা নিয়ে বাদী ও পুলিশের ভিন্ন বক্তব্য পাওয়া গেছে। বাদী দাবি করেছেন, আসামি কারা তিনি জানেন না।
গতকাল সোমবার রাতে নিহত আবদুর রহমানের বড় ভাই অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ফজলুর রহমান দৌলতপুর থানায় এই হত্যা মামলা করেন। এজাহারে বলা হয়েছে, মামলার সময় তাঁর সঙ্গে বাকি দুই ভাই গোলাম রহমান এবং হাবিবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
মামলার এজাহারভুক্ত চার আসামি হলেন ফিলিপনগর ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামের কালাম দফাদারের ছেলে মুহাম্মদ খাজা আহম্মেদ (৩৮), একই ইউনিয়নের হোসেনাবাদ বিশ্বাসপাড়া গ্রামের মো. আসাদুজ্জামান (৩৫), পশ্চিম-দক্ষিণ ফিলিপনগর গ্রামের গাজী মিস্ত্রির ছেলে রাজীব মিস্ত্রি (৪৫) এবং ইসলামপুর পূর্বপাড়া গ্রামের মো. শিহাব।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হুকুমের আসামি খাজা আহম্মেদ কুষ্টিয়া জেলা শিবিরের সাবেক সভাপতি, আসাদুজ্জামান খেলাফত মজলিসের উপজেলা সভাপতি, শিহাব স্থানীয় একটি মাদ্রাসার শিক্ষক এবং মামলার আরেক আসামি পেশায় রাজমিস্ত্রি রাজীব জামায়াতের কর্মী। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্যমতে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজীবকে জামায়াতের পক্ষে প্রচার-প্রচারণায় দেখা গেছে। তিনি সাবেক শিবির নেতা খাজার অনুসারী।
আজ মঙ্গলবার বেলা ১টায় মামলার বাদী ফজলুর রহমানের মোবাইলে কল দিয়ে মামলার আসামিদের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি জানি না।’ এরপর ‘এত প্রশ্নের উত্তর এখন দিতে পারব না’—বলে কল কেটে দেন।
তবে বাদীর এমন দাবি সত্য নয় জানিয়ে কুষ্টিয়া জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) ফয়সাল মাহমুদ বলেন, ‘এটা সত্য নয়। তিনি স্বাক্ষর করেছেন বলেই মামলা হয়েছে। এজাহার পড়েই স্বাক্ষর করেছেন। এমনকি দীর্ঘ সময় তিনি থানায় উপস্থিত ছিলেন। বাদী এমনটি কেন বললেন বুঝছি না। মামলার তদন্ত চলছে। কোনো আটক নেই।’
মামলার এজাহারে ফজলুর রহমান উল্লেখ করেছেন, তাঁর ছোট ভাই মো. আবদুর রহমানের (৫৭) ফিলিপনগরে নিজ বাড়িতে দরবার শরিফ আছে। শনিবার বেলা পৌনে ৩টার দিকে তাঁর ভাই দরবারে অবস্থান করছিলেন। এ সময় আসামি মুহাম্মদ খাজা আহম্মেদের হুকুমে এজাহারভুক্ত আসামি এবং অজ্ঞাতনামা ১৮০ থেকে ২০০ জন সংঘবদ্ধ হয়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দরবার শরিফে প্রবেশ করে দরজা-জানালা ভাঙচুর করে। ৩ নম্বর আসামি রাজীবসহ অজ্ঞাতনামা আসামিরা দরবার শরিফের দ্বিতীয় তলায় প্রবেশ করে জোবায়ের (৩১) নামের একজনকে লোহার রড দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। এরপর আসামি রাজীব মিস্ত্রি লোহার রড দিয়ে আবদুর রহমানের কোমর ও মাথায় আঘাত করেন। অজ্ঞাতনামা আসামিরা তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে ও বেদম মারধর করে। আবদুর রহমানের চিৎকারে দরবার শরিফের পরিচারিকা জামিরন দৌড়ে যান। এ সময় ২ নম্বর আসামি আসাদুজ্জামান তাঁকেও মাথায় কোপ মারতে উদ্যত হন। তবে আঘাতটি বাঁ হাত দিয়ে ঠেকানোয় তাঁর ওই হাতের কবজির ওপরের অংশে রক্তাক্ত জখম হয়।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, আসামিরা দরবার শরিফ ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে আনুমানিক ২০ লাখ টাকার ক্ষতি করেছে। আসামিরা আবদুর রহমানের দরবার শরিফে থাকা স্টিলের আলমারি ভেঙে ৫ লাখ টাকা এবং ৪ ভরি স্বর্ণালংকার চুরি করেছে।
মামলার বিষয়ে জেলা শিবিরের সাবেক সভাপতি খাজা আহম্মেদের কাছে জানতে চাইলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, হামলার দিন বেলা ২টার দিকে স্থানীয় মসজিদের ইমাম, মুসল্লি ও এলাকাবাসী মিলে বসে আইনি উপায়ে বিষয়টি সমাধানের কথা ছিল। তবে হঠাৎ ফেসবুকে মিছিলের ছবি দেখে তিনি নিহত শামীমের বড় ভাই ফজলুর রহমান সান্টুকে ফোন করে সতর্ক করেন। কিছুক্ষণ পর সান্টু তাঁকে জানান, সেখানে হামলা ও ভাঙচুর শুরু হয়েছে। এরপর তিনি ঘটনাস্থলে যেতে চাইলে সান্টু তাঁকে সেখানে যেতে নিষেধ করেন, হাসপাতালে যেতে বলেন।
খাজা আহম্মেদ আরও বলেন, পরদিন ময়নাতদন্ত শেষে লাশ হস্তান্তর পর্যন্ত তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তাঁকে কেন মামলায় আসামি করা হয়েছে, তা তাঁর বোধগম্য নয়।
মামলার আরেক আসামি খেলাফত মজলিসের উপজেলা সভাপতি আসাদুজ্জামান বলেন, হামলা বা কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা যেন না ঘটে, সে জন্য সেদিন দুপুরে বসার কথা ছিল। এ বিষয়ে তাঁর সঙ্গে পুলিশেরও কথা হয়েছিল এবং তাঁরা আইনি সমাধানই চেয়েছিলেন। তিনি দাবি করেন, বেলা আড়াইটার দিকে স্থানীয় কিছু লোক হামলা চালায় এবং তিনি ঘটনাস্থলে পৌঁছান বেলা ৩টার কিছু আগে। তিনি হামলার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগও অস্বীকার করেন।
এদিকে ঘটনার দিনের একটি ভাইরাল ভিডিওতে হাতে বাঁশ ও কাঠের লাঠি নিয়ে উত্তেজিত জনতাকে দলবদ্ধভাবে আবদুর রহমানের আস্তানার দিকে যেতে দেখা যায়। আস্তানার কাছাকাছি পৌঁছালে তারা প্রথমে প্রবেশপথের প্যান্ডেল করা গেট ভাঙচুর করে। এরপর আস্তানার ভেতরে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় ও আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় একদল যুবক শামীমকে খুঁজতে দোতালায় উঠে যান। সেখানে ভেতর থেকে আটকানো একটি ঘরের দরজা লোহার রড দিয়ে ভেঙে ফেললে আবদুর রহমান ভেতর থেকে হাতজোড় করে প্রাণ ভিক্ষা চান। এ সময় তাঁকে আঘাত করেন মামলার আসামি রাজীব মিস্ত্রি। এরপর কয়েকজন পেটাতে পেটাতে কলার ধরে আবদুর রহমানকে সিঁড়ির ওপর নিয়ে যায়। আরেকটি দল ঘরের ভেতরে ঢুকে ভাঙচুর করতে থাকে।

পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কে আমতলীর ফায়ার সার্ভিস অফিসের সামনে ট্রাক ও অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে দুজন মারা গেছেন। তাঁরা হলেন মিরাজুল ইসলাম শাওন ও বেল্লাল মুসুল্লি। এ সময় তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) রাত ৭টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
১ সেকেন্ড আগে
ময়মনসিংহের ভালুকায় দলীয় কার্যালয় খোলা নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনায় বাবা-ছেলেকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বিকেলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।
১ ঘণ্টা আগে
চট্টগ্রাম নগরের সাবেক মেয়র এম মনজুর আলমের বাড়িতে এসে ছাত্রদল-যুবদলের নেতা-কর্মীদের তোপের মুখে পড়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতা ও জাতীয় সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বিকেলে তিনি সাবেক এই মেয়রের কাট্টলীর বাড়িতে এসে তোপের মুখে পড়েন।
১ ঘণ্টা আগে
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় ড. ইউনূস যখন ডেকেছিলেন জুলাই সনদে সই করার জন্য, প্রথমে বিএনপি গিয়েছিল। বিএনপি জুলাই সনদে সই করে এসেছে। কাজেই যেই জুলাই সনদে বিএনপি সই করে এসেছে, সেই জুলাই সনদের প্রত্যেকটি অক্ষর, প্রত্যেকটি শব্দ, প্রত্যেকটি লাইন ইনশা আল্লাহ আমরা বাস্তবায়ন করব।
১ ঘণ্টা আগে