Ajker Patrika

দৌলতপুরে পীর হত্যার ঘটনায় মামলা: জামায়াত কর্মীসহ ৪ জনের নাম

কুষ্টিয়া (দৌলতপুর) প্রতিনিধি 
আপডেট : ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১৫: ৫৬
দৌলতপুরে পীর হত্যার ঘটনায় মামলা: জামায়াত কর্মীসহ ৪ জনের নাম
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের ফিলিপনগর ইউনিয়নে আজ শনিবার দুপুরে ‘শামিম বাবার দরবার শরিফ’ নামে পরিচিত পাকা স্থাপনায় হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। ছবি: আজকের পত্রিকা

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় পীর পরিচিতি পাওয়া আব্দুর রহমান শামিম (৬৫) হত্যার ঘটনায় করা মামলায় স্থানীয় জামায়াত কর্মী, জেলা শিবিরের সাবেক সভাপতি, খেলাফত মজলিসের এক নেতাসহ চারজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ১৮০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার সকালে মামলার বাদী ফজলুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করে কেটে দেন। এর আগে সোমবার (১৩ এপ্রিল) রাতে তিনি বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

মামলার এজাহারে নাম উল্লেখ করা আসামিরা হলেন স্থানীয় জামায়াত কর্মী রাজিব মিস্ত্রি (৩২), জেলা শিবিরের সাবেক সভাপতি খাজা আহম্মেদ (৩৫), খেলাফত মজলিসের উপজেলা সভাপতি আসাদুজ্জামান আসাদ (৪৫) এবং আবেদের ঘাট এলাকার একটি মাদ্রাসার শিক্ষক সাফি। এ ছাড়া মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ১৮০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভেড়ামারা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেলোয়ার হোসেন। তিনি জানান, মামলায় চারজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা বিপুলসংখ্যক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, হামলার দিনের বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে ইতিমধ্যে আরও ২২ থেকে ২৩ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা যায়নি। পুলিশ ঘটনাটির তদন্ত করছে।

গত শনিবার দুপুরে উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের দারোগার মোড় এলাকায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে উত্তেজিত জনতা আব্দুর রহমান শামিমকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করে। এ ঘটনায় তাঁর তিনজন অনুসারী আহত হন। একই সঙ্গে তাঁর আস্তানায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে।

ঘটনার পরদিন রোববার ময়নাতদন্ত শেষে বিকেলে গ্রামের কবরস্থানে আব্দুর রহমান শামিমকে দাফন করা হয়।

মামলার বিষয়ে জেলা শিবিরের সাবেক সভাপতি খাজা আহম্মেদের কাছে জানতে চাইলে তিনি ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেন। তিনি জানান, হামলার দিন বেলা ২টার দিকে স্থানীয় মসজিদের ইমাম, মুসল্লি ও এলাকাবাসী মিলে বসে আইনি উপায়ে বিষয়টি সমাধানের কথা ছিল। তবে হঠাৎ ফেসবুকে মিছিলের ছবি দেখে তিনি নিহত শামিমের বড় ভাই ফজুলর রহমান সান্টুকে ফোন দিয়ে সতর্ক করেন যে কিছু লোক আস্তানার দিকে যাচ্ছে। কিছুক্ষণ পর সান্টু তাঁকে জানান, সেখানে হামলা ও ভাঙচুর শুরু হয়েছে। এরপর তিনি ঘটনাস্থলে যেতে চাইলে সান্টু তাঁকে সেখানে যেতে নিষেধ করেন এবং হাসপাতালে যেতে বলেন। খাজা আহম্মেদ আরও জানান, পরদিন ময়নাতদন্ত শেষে লাশ হস্তান্তর পর্যন্ত তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তাঁকে কেন মামলায় আসামি করা হয়েছে, তা তার বোধগম্য নয় বলে তিনি দাবি করেন।

এ বিষয়ে মামলার আরেক অভিযুক্ত খেলাফত মজলিসের উপজেলা সভাপতি আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, হামলা বা কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা যেন না ঘটে, সে লক্ষ্যে সেদিন দুপুরে বসার কথা ছিল। এ বিষয়ে তাঁত সঙ্গে পুলিশেরও কথা হয়েছিল এবং তাঁরা আইনি সমাধানই চেয়েছিলেন। তবে তিনি দাবি করেন, বেলা আড়াইটার দিকে স্থানীয় কিছু লোক হামলা চালায় এবং তিনি ঘটনাস্থলে পৌঁছান বেলা ৩টার কিছু আগে, যখন পরিস্থিতি তাঁদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

এ সময় তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, হামলার সময় ধারণ করা একটি ভিডিওতে তাঁকে দোতলার সিঁড়ি দিয়ে কাগজে মোড়ানো কিছু হাতে নিয়ে নামতে দেখা যায়—সেটি কে লুট করা কোনো মালামাল ছিল? জবাবে তিনি বলেন, না, সেটি সেখানে পড়ে থাকা একটি কোরআন শরিফ ও কিছু অজিফা ছিল, যা তিনি সংরক্ষণের জন্য নিচে নিয়ে আসেন। তিনি হামলার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগও অস্বীকার করেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

নীরবে পেট্রোডলার চুক্তি বাতিল সৌদির, পেট্রোইউয়ানের উত্থান ঠেকাতেই ইরান যুদ্ধ

কুষ্টিয়ায় পীরকে হত্যা: সাবেক শিবির নেতার হুকুমে হামলা চালায় আসামিরা

অবরোধে ক্ষুব্ধ ইরান আটকাতে পারে আরেক জলপথ, সিদ্ধান্ত পাল্টাতে যুক্তরাষ্ট্রকে সৌদির চাপ

বিসিবির অনুরোধে সাড়া না দেওয়ার ‘পুরস্কার’ জিম্বাবুয়ে-আয়ারল্যান্ডকে দিচ্ছে ভারত

মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি-স্থিতিশীলতা রক্ষায় চীনা প্রেসিডেন্টের চার প্রস্তাব

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত