Ajker Patrika

কেরোসিনে মশা নিধন, বর্জ্য সংগ্রহেও বাড়তি টাকা: ডিএসসিসিতে দুদকের অভিযান

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
আপডেট : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০: ৩৮
কেরোসিনে মশা নিধন, বর্জ্য সংগ্রহেও বাড়তি টাকা: ডিএসসিসিতে দুদকের অভিযান

মশা নিধনের ওষুধের বদলে কেরোসিন ছিটিয়ে অর্থ আত্মসাৎ এবং বাসা-বাড়ির বর্জ্য সংগ্রহের নামে নির্ধারিত ফির চেয়ে বেশি টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে আজ বুধবার সংস্থাটিতে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দুদকের প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মেহেদী মুসা জেবিন ও উপসহকারী পরিচালক হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি দল এ অভিযান চালায়। দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম আজকের পত্রিকাকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

অভিযোগে বলা হয়েছে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান, সিটি করপোরেশনের ল্যাব কর্মকর্তা ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের যোগসাজশে মশা নিধনের কীটনাশক সরবরাহ ও ব্যবহারে অনিয়ম করা হচ্ছে। কীটনাশক পরীক্ষার সময় মানসম্মত ওষুধ দেখানো হলেও অভিযোগ অনুযায়ী, মাঠপর্যায়ে ফগিংয়ের সময় কেরোসিন ব্যবহার করা হচ্ছে। এভাবে সরকারি অর্থ আত্মসাতের পাশাপাশি মশক নিবারণী দপ্তরের স্টোরকিপার ও হিসাব শাখার কর্মীদের ঘুষ দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

দুদকে দেওয়া অভিযোগে আরও বলা হয়, ভেজাল কীটনাশক সরবরাহের অভিযোগে ২০১১ ও ২০১৯ সালে ‘দি লিমিট অ্যাগ্রো’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়। অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির কথিত মূল হোতা মিজানুর রহমান পরে নাম ও প্রতিষ্ঠানের পরিচয় বদলে ‘ফরোয়ার্ড ইন্টারন্যাশনাল’ নামে ডিএসসিসিতে কাজ শুরু করেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, গত দুই বছরে ওই প্রতিষ্ঠানকে তিনটি কার্যাদেশের মাধ্যমে ৪৮ কোটি টাকার কীটনাশক সরবরাহের কাজ দেওয়া হয়েছে।

অভিযানের আওতায় এসেছে বর্জ্য সংগ্রহের ব্যবস্থাপনাও। অভিযোগে বলা হয়েছে, সিটি করপোরেশনের নিয়ম অনুযায়ী একটি ফ্ল্যাট থেকে সর্বোচ্চ ১০০ টাকা নেওয়ার কথা থাকলেও ধানমন্ডি, আজিমপুর, কাঁঠালবাগান, কায়েতটুলি ও যাত্রাবাড়ীসহ বিভিন্ন এলাকায় ১২০ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে নেওয়া হচ্ছে এক হাজার টাকা পর্যন্ত।

এ ছাড়া দরপত্রের মাধ্যমে কাজ পাওয়া ব্যবসায়ীদের ভয়ভীতি দেখানো, মারধর এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তাঁদের কাজ থেকে সরিয়ে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। বর্জ্য সংগ্রহের নামে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকার অবৈধ বাণিজ্য চলছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম জানান, অভিযানে পাওয়া তথ্য পর্যালোচনা করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত