Ajker Patrika

চট্টগ্রাম বন্দর: ২ ‘মাঘেও’ বন্দর থেকে ছাড়া পাচ্ছে না ত্রাণের শীতবস্ত্র

  • যুক্তরাষ্ট্র থেকে রোহিঙ্গা ও দুস্থদের জন্য পাঠানো হয় ৮ কনটেইনারে শীতবস্ত্র।
  • ডিউটি ফ্রি সুবিধা না পাওয়ায় ১০ মাস ধরে বন্দরে শীতবস্ত্র। চার্জ জমেছে সাড়ে ৬ কোটি।
আবু বকর ছিদ্দিক, চট্টগ্রাম 
চট্টগ্রাম বন্দর: ২ ‘মাঘেও’ বন্দর থেকে ছাড়া পাচ্ছে না ত্রাণের শীতবস্ত্র
ফাইল ছবি

এক শীত চলে গেছে, আরেক শীতের মৌসুম শেষ হওয়ার পথে, তবু শীতার্তদের জন্য বিদেশে থেকে অনুদান হিসেবে পাওয়া ৮ কনটেইনার শীতবস্ত্র পৌঁছায়নি দুস্থদের কাছে। ১০ মাস আগে এসব শীতবস্ত্র কনটেইনারে করে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছালেও আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় মালপত্র এখনো খালাস করা যায়নি। উল্টো বন্দরের মাশুল হিসেবে গুনতে হচ্ছে প্রায় সাড়ে ৬ কোটি টাকা।

গত বছরের ৮ মার্চ যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৪০ ফুটের ৮টি কনটেইনারে করে শীতবস্ত্র আনা হয় চট্টগ্রাম বন্দরে। ‘মুসলিম ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশন’ নামে যুক্তরাষ্ট্রের মারফিনি ফাউন্ডেশন থেকে এসব শীতবস্ত্র রোহিঙ্গা ও দুস্থ মানুষের মধ্যে বিতরণের জন্য দেওয়া হয়েছিল। কনটেইনারগুলোতে ৪ লাখ ২৬ হাজার গরম কাপড় রয়েছে। এরপর ১০ মাস ধরে বন্দরের ইয়ার্ডে মালামালগুলো পড়ে রয়েছে।

স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন মুসলিম ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশনের সেক্রেটারি জেনারেল লিটন মিয়া আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আমাদের এই প্রতিষ্ঠান একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। চট্টগ্রাম বন্দরে মালপত্র আসার পর বিপুল পরিমাণ বন্দরের চার্জ দিয়ে শীতবস্ত্রগুলো খালাস নেওয়া আমাদের পক্ষে সম্ভব না হওয়ায় ডিউটি ও মাশুল চার্জ মওকুফের জন্য আবেদন করেছিলাম।’ তিনি আরও বলেন, ‘শীতবস্ত্র খালাস করতে বন্দরের চার্জ মওকুফ পেতে এনজিও ব্যুরো, চট্টগ্রাম বন্দর, কাস্টম হাউস, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে প্রক্রিয়া চালাতেই প্রায় ১০ মাস পেরিয়ে যায়।’

সূত্র জানিয়েছে, গত বছরের ২৬ জানুয়ারি এনজিও ব্যুরো থেকে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের কমিশনারকে রিলিফ পণ্য হিসেবে ডিউটি ফ্রি পণ্যগুলো ছাড় দিতে চিঠি দেওয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ২৩ অক্টোবর চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস কর্তৃপক্ষ থেকে শর্তযুক্ত পণ্য হিসেবে শুল্ক ছাড় দিয়ে পণ্যগুলো খালাস দিতে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে লিখিতভাবে জানানো হয়। এভাবে গড়িয়ে যায় সময়।

মুসলিম ওয়েলফেয়ার অর্গানাইজেশনের কর্মকর্তারা জানান, দাতা সংস্থা তাঁদের আগেই বলেছিল, তারা শুধু চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানো পর্যন্ত পণ্যগুলোর ব্যয় বহন করবে। চট্টগ্রাম বন্দরে খালাস বাবদ কোনো খরচ দেবে না। এদিকে বন্দর জানায়, গত বছরের ২ নভেম্বর নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় বন্দরের ৫০ শতাংশ চার্জ মওকুফ করে। এরপর ৩০ দিনের মধ্যে পণ্যগুলো ছাড়িয়ে দিতে চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যানকে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছিল।

তবে তত দিন মাশুলের বোঝা অনেক বড় হয়েছে। লিটন মিয়া বলেন, ‘নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় যত দিন ৫০ শতাংশ বন্দর চার্জ মওকুফ করে, তত দিনে বন্দরের চার্জ ৩ কোটি টাকার বেশি হয়ে যায়। তাই আর পণ্যগুলো খালাস করতে পারিনি।’ বিষয়টি জানিয়ে আবার নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার কাছে বন্দরের চার্জ শতভাগ মওকুফের জন্য আবেদন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

মুসলিম ওয়েলফেয়ার অরগানাইজেশন শীতবস্ত্রগুলো খালাস নিতে না পারায় ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত ৩০৯ দিনে ৮ কনটেইনারের মালামাল বাবদ বন্দর চার্জ জমা হয়েছে ৬ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। এভাবে দিন দিন চার্জ বাড়ছেই। বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের মুখপাত্র ও সহকারী কমিশনার শরীফ আল আমিন বলেন, যেহেতু এই পণ্যগুলো খালাস নিতে এখনো কোনো পক্ষ দালিলিক প্রমাণ দাখিল বা বিল অব এন্ট্রি দাখিল করেননি, তাই কোনো মন্তব্য করতে পারছি না। তবে পণ্যগুলো খালাস নিতে এলে বিধি মোতাবেক সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালক ওমর ফারুক বলেন, ‘বন্দরের কোনো পণ্যের চার্জ মওকুফ করা মন্ত্রণালয় ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের ব্যাপার। কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মোতাবেক আমরা দায়িত্ব পালন করে থাকি।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসীদের হামলায় র‍্যাব কর্মকর্তা নিহত

প্রার্থিতা ফিরে পেতে বিএনপির প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর রিট

ক্রিকেট: সফট পাওয়ারকে বিজেপির হাতিয়ার বানাতে গিয়ে উল্টো চাপে ভারত

দুই ক্যাটাগরির ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে বাংলাদেশিদের ১৫ হাজার ডলারের বন্ড দিতেই হবে, জানাল দূতাবাস

বাংলাদেশ এয়ারলাইনসে চাকরি, আবেদন শেষ ২১ জানুয়ারি

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত