Ajker Patrika

বেহাল সড়ক: ৩০ কিমি পাড়ি দিতে লাগছে দুই ঘণ্টা

হোসেনপুর (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি 
বেহাল সড়ক: ৩০ কিমি পাড়ি দিতে
লাগছে দুই ঘণ্টা
সড়কে বড় বড় গর্তে পানি জমে আছে। গতকাল সকালে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরের কাওনা এলাকায়। ছবি: আজকের পত্রিকা

নান্দাইল-হোসেনপুর-পাকুন্দিয়া পর্যন্ত ৩০ কিলোমিটার সড়কটি খানাখন্দে ভরে গেছে। ভাঙাচোরা আর অপ্রশস্ত সড়কটি দিয়ে যাতায়াত করতে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রীরা। আধা ঘণ্টার পথ পাড়ি দিতে দেড়-দুই ঘণ্টা লেগে যাচ্ছে তাঁদের। অল্প বৃষ্টিতেই সড়কের গর্তগুলোয় পানি জমে যায়। আর বৃষ্টি না থাকলে ধুলাবালুতে পরিবেশের অবস্থা শোচনীয় হয়ে ওঠে।

নেত্রকোনার কেন্দুয়া, ময়মনসিংহের নান্দাইল এবং কিশোরগঞ্জের তাড়াইল ও হোসেনপুরসহ আশপাশের এলাকার মানুষের ঢাকায় যাতায়াতের অন্যতম সহজ পথ এটি। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় চার বছর আগে স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীন এই সড়কটি সংস্কার করা হলেও বছর না যেতেই খানাখন্দে ভরে যায়। নিম্নমানের ইট, সুরকি ও বিটুমিন দিয়ে সংস্কার করায় অল্প সময়েই সড়কটি বেহাল হয়ে গেছে বলে অভিযোগ তাঁদের।

সম্প্রতি সরেজমিনে হোসেনপুর পৌরসভার দ্বীপেশ্বর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন স্থানে ইট-সুরকি উঠে গিয়ে মাটি বের হয় গেছে। সড়কের অনেক অংশে যানবাহনকে বড় বড় গর্ত এড়াতে আঁকাবাঁকাভাবে চলতে হচ্ছে। বিশেষ করে যাত্রীবাহী বাস, অটোরিকশা ও পণ্যবাহী যানবাহন অত্যন্ত ধীরগতিতে চলাচল করছে।

নান্দাইল থেকে ঢাকার মহাখালীগামী জলসিঁড়ি পরিবহনের বাসচালক সোহাগ মিয়া বলেন, ‘সব দিকের রাস্তাই এখন মোটামুটি ভালো। কিন্তু নান্দাইল থেকে হোসেনপুর হয়ে পাকুন্দিয়ার প্রায় ৩০ কিলোমিটার রাস্তার অবস্থা খুবই খারাপ। সড়কটি সরু হওয়ায় দুটি গাড়ি পাশাপাশি চলাচল করতেও সমস্যা হয়। ছোট গাড়িকে পাশ কাটিয়ে যেতে গিয়ে অনেক সময় যানজট তৈরি হয়। আধা ঘণ্টার পথ পাড়ি দিতে দেড় থেকে দুই ঘণ্টা সময় লেগে যায়। সড়কটি দ্রুত প্রশস্ত ও সংস্কার করা জরুরি।’

ঢাকায় নিয়মিত যাতায়াতকারী এক বাসযাত্রী বলেন, ‘ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগের জন্য এ সড়কটি আমাদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সড়কের এমন বেহাল অবস্থার কারণে আতঙ্ক নিয়ে যাতায়াত করতে হয়। গর্তে গাড়ি পড়লে ঝাঁকুনিতে শিশু ও বয়স্ক যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি কষ্ট পান।’

আরেক বাসযাত্রী বলেন, বৃষ্টি হলে গর্তগুলো পানিতে তলিয়ে যায়। তখন বোঝার উপায় থাকে না কোথায় কতটা গভীর গর্ত। আবার শুকনো মৌসুমে ধুলার কারণে জানালা বন্ধ করে বসে থাকতে হয়। এত গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়কের এমন অবস্থা সত্যিই দুঃখজনক।

উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা ও জনদুর্ভোগ নিরসনে নাগরিক কমিটির সভাপতি আলাল মিয়া বলেন, সড়কটি প্রশস্ত ও টেকসইভাবে সংস্কার করা হলে এসব এলাকার মানুষের ঢাকায় যাতায়াতের সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। পাশাপাশি কৃষিপণ্য ও অন্যান্য মালামাল পরিবহনেও গতি বাড়বে।

স্থানীয় বাসিন্দা, পরিবহনচালক ও যাত্রীদের দাবি, আঞ্চলিক সড়কটি সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের আওতায় এনে টেকসইভাবে সংস্কার ও প্রশস্ত করা হোক।

হোসেনপুর উপজেলা প্রকৌশলী বিদ্যুৎ কুমার দাস আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘এ রাস্তার হোসেনপুর পৌর এলাকা থেকে পাকুন্দিয়া উপজেলার জাঙ্গালিয়া পর্যন্ত সংস্কারের জন্য প্রাক্কলন করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। আশা করছি, খুব শিগগিরই সড়ক মেরামত করা হবে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত