Ajker Patrika

শরীয়তপুর জেলা শহর: এআই ক্যামেরায় নজরদারি

  • ১২০ সিসি ক্যামেরা অপরাধীদের শনাক্ত করে দেবে সংকেত
  • বিশ্লেষণ করবে গলার স্বর, হাঁটার ধরন ও ফেশিয়াল ডেটা
  • সার্বক্ষণিকভাবে পুরো শহর তদারকি করা হবে
বেলাল হোসাইন, শরীয়তপুর
শরীয়তপুর জেলা শহর: এআই ক্যামেরায় নজরদারি

পবিত্র ঈদুল ফিতর ঘিরে শরীয়তপুর জেলা শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও সড়কে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিনির্ভর ১২০টি ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। নজরদারি আরও কার্যকর করতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিভিন্ন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা শনাক্ত করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সংকেত পাঠাবে এসব ক্যামেরা।

নাগরিকদের নিরাপদে বসবাস ও নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে সম্প্রতি এই আধুনিক নজরদারি কার্যক্রম চালু করেছে জেলা প্রশাসন।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এআই প্রযুক্তি সংযুক্ত ক্যামেরাগুলো দুর্ঘটনা, যানজট, অগ্নিকাণ্ড, বিস্ফোরণ, বিকট শব্দ, হট্টগোল, সন্দেহজনক চলাফেরা, চুরি-ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের মতো ঘটনা শনাক্ত করতে সক্ষম। ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে গাড়ির নম্বর শনাক্ত করে ডিজিটাল মামলা দেওয়ার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। ভিড়ের মধ্যেও চিহ্নিত অপরাধী শনাক্ত করে নিয়ন্ত্রণকক্ষে সংকেত পাঠাতে পারবে এআই নির্ভর এই সিসি ক্যামেরা।

জানা গেছে, এই সিস্টেমে ভিডিও ধারণের পাশাপাশি শব্দ ও গলার স্বর বিশ্লেষণ, হাঁটার ধরন ও ফেশিয়াল ডেটা বিশ্লেষণের সুবিধা রয়েছে। কোনো অস্বাভাবিক গতিবিধি শনাক্ত হলেই তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসনকে সতর্কবার্তা পাঠাবে সিস্টেমটি।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে জেলা প্রশাসক পুরো জেলা শহরকে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনার উদ্যোগে নেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, বাসস্ট্যান্ড, ধর্মীয় উপাসনালয়, গুরুত্বপূর্ণ সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা ও বাজারগুলো নজরদারির আওতায় আনার জন্য শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট ও সড়কে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়।

জানা গেছে, শহরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া কীর্তিনাশা নদীর কোটাপাড়া সেতু এলাকায়ও সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। ফলে নৌপথও নজরদারির আওতায় এসেছে। এ ছাড়া সড়কের পাশের বিদ্যুতের খুঁটিতে স্থাপিত ক্যামেরাগুলোতে বিদ্যুৎ ও সোলার সংযোগ দেওয়া হয়েছে। ভিডিও সংরক্ষণ ও পর্যবেক্ষণের জন্য স্থাপন করা হয়েছে দ্রুতগতির ইন্টারনেট সংযোগ। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্থাপন করা হয়েছে একটি আধুনিক নিয়ন্ত্রণকক্ষ। যেখান থেকে সার্বক্ষণিকভাবে পুরো শহর তদারকি করা হবে।

শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্থাপন করা হয়েছে সিসি ক্যামেরার নিয়ন্ত্রণকক্ষ। সেখান থেকে সার্বক্ষণিক পুরো শহর নজরে রাখা হয়। ছবি: আজকের পত্রিকা
শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্থাপন করা হয়েছে সিসি ক্যামেরার নিয়ন্ত্রণকক্ষ। সেখান থেকে সার্বক্ষণিক পুরো শহর নজরে রাখা হয়। ছবি: আজকের পত্রিকা

আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনায় জেলা প্রশাসনের পাশাপাশি জেলা পুলিশের কাছেও এই নজরদারি ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ থাকবে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এই উদ্যোগের ফলে শহরে অপরাধ দমন, যানজট নিরসন এবং সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার দৃশ্যমান উন্নতি হবে।

শরীয়তপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মনিরুজ্জামান দীপু বলেন, ‘জেলা প্রশাসনের এ ধরনের উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে। এআই প্রযুক্তির সিসি ক্যামেরা স্থাপন করায় শহরের যেকোনো স্থানে যেকোনো অপরাধ কার্যক্রম ঘটলে অপরাধীদের সহজে শনাক্ত করা যাবে। ফলে শহরবাসীর নিরাপত্তা আরও জোরদার হবে।

শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম বলেন, ‘নারীদের উত্ত্যক্তকারী, মাদক কারবারি, কিশোর গ্যাংসহ অপরাধীরা বিভিন্ন সড়ক ব্যবহার করে থাকে। তাদের শনাক্ত করতে পৌর এলাকার গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও সড়কে ১২০টি এআই প্রযুক্তির সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। আশা করছি, এর মাধ্যমে অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা সহজ হবে।’

তাহসিনা বেগম আরও বলেন, ‘এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে কোনো ফেরারি আসামি এই নজরদারির আওতায় এলে তাঁকেও শনাক্ত করা সম্ভব হবে। এই উদ্যোগ সফল হলে ধীরে ধীরে পুরো জেলাকে এই প্রযুক্তির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত