Ajker Patrika

কুমিল্লায় ফসলি জমিতে স্কুলছাত্রীর মরদেহ, পাশে পরিত্যক্ত সিএনজিচালিত অটোরিকশা

কুমিল্লা প্রতিনিধি
আপডেট : ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩: ০০
কুমিল্লায় ফসলি জমিতে স্কুলছাত্রীর মরদেহ, পাশে পরিত্যক্ত সিএনজিচালিত অটোরিকশা
ঘটনাস্থলের পাশে পাওয়া সিএনজিচালিত অটোরিকশা। ছবি: আজকের পত্রিকা

কুমিল্লার লালমাই উপজেলায় ফসলি জমি থেকে জান্নাতুল তাজমিন (১৫) নামে এক স্কুলছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে উপজেলার পেরুল উত্তর ইউনিয়নের জগতপুর উত্তরপাড়ার মানুমুড়া জঙ্গলসংলগ্ন একটি ফসলি জমি থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থলের পাশ থেকে একটি পরিত্যক্ত সিএনজিচালিত অটোরিকশা উদ্ধার করা হয়েছে। এতে তাজমিনের জামা ও ভ্যানিটি ব্যাগ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নিহত জান্নাতুল তাজমিন যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের ছাতিয়ানতলা এলাকার আবদুল আলীমের মেয়ে। বাবার চাকরির সুবাদে দীর্ঘদিন ধরে কুমিল্লা নগরীতে বসবাস করছিল সে। তাজমিন নগরীর ফরিদা বিদ্যায়াতনের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার বাবা আবদুল আলীম একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। তিনি নগরীর রেইসকোর্স এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকালে কাঁচিকাটা-হরিশ্চর বাজার সড়কের জগতপুর উত্তরপাড়া এলাকায় একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সন্দেহ হলে আশপাশে খোঁজাখুঁজি করে সড়ক থেকে প্রায় ৫০ গজ দূরে ফসলি জমির আইলের পাশে এক কিশোরীর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন তাঁরা। খবর পেয়ে লালমাই থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।

লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, প্রথমে মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি। পরে পরিবারের সদস্যদের মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। মরদেহের গলায় গামছা পেঁচানো ছিল।

নিহতের বাবা আবদুল আলীম জানান, গত ৪ অক্টোবর বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে তাজমিন বাড়ি থেকে বের হয়। পরে বিভিন্ন সময়ে ফোনে যোগাযোগ করা হলে সে বান্ধবীর বাসায় থাকার কথা জানায়। বুধবার দিবাগত রাত পৌনে ২টার দিকে তাজমিন তাঁর মোবাইল ফোনে একটি বার্তা ও লাইভ লোকেশন পাঠিয়ে তাঁকে নিয়ে যেতে বলে। তবে তখন ঘুমিয়ে থাকায় তিনি তাৎক্ষণিকভাবে বার্তাটি দেখতে পাননি।

আবদুল আলীম আরও জানান, ভোরে মোবাইল ফোনে বার্তা দেখে লাইভ লোকেশন অনুসরণ করে ঘটনাস্থলে যান। সেখানে গিয়ে মেয়ের মরদেহ দেখতে পান।

সদর দক্ষিণ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোস্তাইন বিল্লা ফেরদৌস জানান, প্রাথমিক তদন্তে তাজমিনের গতিবিধি সম্পর্কে বেশ কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। ৪ অক্টোবর বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে কুমিল্লা থেকে বের হওয়ার পর সে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যায়। পরদিন কুমিল্লায় ফিরে আবার ভোররাতে কক্সবাজারে যায় বলে তদন্তে জানা গেছে।

তিনি আরও জানান, ৭ অক্টোবর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কক্সবাজার থেকে রওনা হয়ে রাত সাড়ে ১০টার দিকে তাজমিন কুমিল্লার পদুয়ার বাজার এলাকায় নূরজাহান হোটেলের সামনে নামে। এরপর থেকে তার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।

পুলিশ কর্মকর্তা জানান, ঘটনাস্থলের পাশে পড়ে থাকা সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে একটি ভ্যানিটি ব্যাগ ও জামা উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতের বাবা জামা দেখে সেটি তাঁর মেয়ের বলে শনাক্ত করেছেন।

পুলিশের ধারণা, গলায় গামছা পেঁচিয়ে তাজমিনকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত