Ajker Patrika

ঠাকুরগাঁওয়ে জোর করে মেয়েকে তুলে নিয়ে বিয়ে ও চাঁদা দাবি, অপমানে বাবার আত্মহত্যা

বালিয়াডাঙ্গী (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি
আপডেট : ০৫ জুলাই ২০২৬, ১৮: ১৫
ঠাকুরগাঁওয়ে জোর করে মেয়েকে তুলে নিয়ে বিয়ে ও চাঁদা দাবি, অপমানে বাবার আত্মহত্যা
অভিযুক্ত সাইফুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার দুওসুও ইউনিয়নের ৮ম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক স্কুলছাত্রীকে জোর করে তুলে নিয়ে বিয়ে এবং পরে তার বাবার কাছে ২০ লাখ টাকা দাবির অভিযোগ উঠেছে। এমন পরিস্থিতিতে সামাজিক চাপ ও অপমানে স্কুলছাত্রীর বাবা আবুল কাসেম (৪২) আত্মহত্যা করেছেন। আজ রোববার বেলা ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে পরিবার। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে।

নিহত আবুল কাসেম মুদি দোকানি ছিলেন।

অভিযোগ উঠেছে, একই এলাকার রফিজুল ইসলামের ছেলে সাইফুল ইসলাম তাঁর মেয়েকে জোর করে তুলে নিয়ে বিয়ে করেন। পরে তিনি মেয়ের বাবা আবুল কাসেমের কাছে ২০ লাখ টাকা দাবি করেন। দাবি না মানায় সাইফুল ইসলাম ও তাঁর পরিবারের লোকজন আবুল কাসেমকে মারধর করেন এবং প্রভাব খাটিয়ে তাঁর পরিবারকে এলাকাছাড়া করেন।

পরিবারের দাবি, রোববার সকালে মোবাইল ফোনে আবুল কাসেমকে তাঁর মেয়ে ও টাকা দিয়ে দেওয়ার জন্য হুমকি দেন সাইফুল ইসলাম। স্ত্রী ও স্বজনদের ভাষ্য, মেয়ের বদনাম, অপমান, হুমকি এবং চাপ সহ্য করতে না পেরে আবুল কাসেম আত্মহত্যা করেন।

এ বিষয়ে ওই স্কুলছাত্রী অভিযোগ করে বলে, গত ২৫ জুন স্কুলে যাওয়ার সময় তার মুখ চেপে ধরে অটোতে তুলে নিয়ে যান সাইফুল ইসলাম। পরে তাকে ঠাকুরগাঁও শহরে নিয়ে গিয়ে জোর করে কাগজে সই করতে বলা হয়। রাজি না হলে তার বাবাকে বাজারে যাওয়ার সময় এবং ছোট ভাইকে মাদ্রাসা থেকে ফেরার সময় মেরে ফেলার ভয় দেখানো হয়। ভয়ে সে কাগজে স্বাক্ষর করে। এরপর বিষয়টি গোপন রাখতে বলা হয়।

পরিবারের অভিযোগ, ১ জুলাই বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে সাইফুল আবুল কাসেমকে তাঁর মেয়েকে বাড়িতে দিয়ে যেতে বলেন এবং সঙ্গে ২০ লাখ টাকা দাবি করেন। বিয়ের এ দাবি মানতে এবং টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় ওই দিন বিকেলে বাড়ির সামনেই আবুল কাসেমকে মারধর করেন সাইফুল ও তাঁর লোকজন।

আবুল কাসেমের স্ত্রী লাবণী আক্তার বলেন, `সাইফুল ও তাঁর লোকজনের ভয়ে আমরা চার দিন ধরে ভগ্নিপতির বাড়িতে ছিলাম। বারবার ফোনে হুমকি দিচ্ছিল সাইফুল। মেয়ে ও টাকা চাচ্ছিল। সকালে আমার স্বামী বাড়িতে আসেন, তখন আমরা কেউ ছিলাম না। পরে এসে দেখি দরজা বন্ধ। দরজা ভেঙে দেখি তিনি গলায় ফাঁস দিয়েছেন।'

ব্যবসায়ীর ভাই আবুল কালাম বলেন, `ভয় ও অপমান সহ্য করতে না পেরে আমার ভাই এই পথ বেছে নিয়েছেন। আমরা সাইফুলের বিচার চাই। পুরো গ্রামের সামনে আমার ভাইকে অপমান ও মারধর করেছে সাইফুল।'

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নিতে গেলে সাইফুল ইসলামকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। তাঁর স্ত্রী রুবা আক্তার বলেন, `সাইফুল বাড়িতে নেই। আর আমি যত দূর জানি, আমার স্বামী ওই স্কুলছাত্রীকে বিয়ে করেননি।'

বালিয়াডাঙ্গী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বুলবুল ইসলাম বলেন, ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, ব্যবসায়ীর মেয়ের সঙ্গে প্রতিবেশীদের একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। পরিবার আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা করলে পুলিশ আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত