Ajker Patrika

‘ব্লকেড’ কর্মসূচি

ডুয়েটের মূল ফটকে তালা, পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রদল-শিবির

শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি  
ডুয়েটের মূল ফটকে তালা, পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রদল-শিবির
শিবিরপন্থী ছাত্রদের সংবাদ সম্মেলন। ছবি: আজকের পত্রিকা

নবনিযুক্ত উপাচার্যকে প্রত্যাখ্যান করে ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (ডুয়েট) চলমান আন্দোলন পঞ্চম দিনে গড়িয়েছে। আজ সোমবার দিনভর ‘ডুয়েট ব্লকেড’ কর্মসূচি পালন করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের একাংশ। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় সব ধরনের কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে।

সরেজমিনে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা ডুয়েটের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে অবস্থান নেন। সকাল থেকে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা গেটে অবস্থান করলেও তাঁদের ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। একই সঙ্গে প্রশাসনিক ভবনেও তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেন এবং বিভিন্ন স্লোগান দেন আন্দোলনকারীরা।

ছাত্রদলের সংবাদ সম্মেলন

বিকেলে ডুয়েট ক্যাম্পাসসংলগ্ন একটি হলরুমে সংবাদ সম্মেলন করে ডুয়েট শাখা ছাত্রদল। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন শাখা ছাত্রদলের সভাপতি জামিরুল ইসলাম জামিল।

জামিল অভিযোগ করেন, ছাত্রশিবির ও ছাত্রশক্তির সমর্থকদের হামলায় ছাত্রদলের পাঁচ নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন, যাঁদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর। তিনি দাবি করেন, জামায়াত-সমর্থিত সাবেক উপাচার্যের অনিয়ম ধামাচাপা দিতেই এই আন্দোলন সৃষ্টি করা হয়েছে।

জামিল আরও বলেন, ‘রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নতুন ভিসি নিয়োগ হয়েছে। আমরা নতুন উপাচার্যকে স্বাগত জানাতে ক্যাম্পাসে গিয়েছিলাম, কিন্তু আগে থেকেই অবস্থান নেওয়া শিক্ষার্থীদের ব্যানারে শিবির ও ছাত্রশক্তির কর্মীরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে।’

শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের বলেন, যারা শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করেছে, তারা ডুয়েটের শিক্ষার্থী নয়। দ্রুত তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।

শিবিরপন্থী শিক্ষার্থীদের বক্তব্য

অন্যদিকে দুপুরে ক্যাম্পাসে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে সংবাদ সম্মেলন করেন ছাত্রশিবির-সমর্থিত শিক্ষার্থীরা। সেখানে ডুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মো. আমান উল্লাহ বলেন, ‘আমাদের দাবি ছিল ডুয়েটে কর্মরত শিক্ষকদের মধ্য থেকে প্রশাসন গঠন করা, কিন্তু সেই দাবিকে সংঘাতে রূপ দেওয়া হয়েছে।’

আমান উল্লাহ বলেন, ‘বাইরের কোনো ভিসি আমরা মেনে নেব না। ডুয়েটের অভ্যন্তরীণ শিক্ষকদের মধ্য থেকেই প্রশাসন গঠন করতে হবে। দাবি মানা না হলে ঈদের পর পর্যন্ত আন্দোলন চলবে এবং প্রয়োজনে পুরো ক্যাম্পাস শাটডাউন করে দেওয়া হবে।’

আন্দোলনের পটভূমি

গত বৃহস্পতিবার শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকবালকে ডুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি হলে আন্দোলন শুরু হয়। এর পর থেকেই শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ ও ‘লাল কার্ড কর্মসূচি’ পালন করে আসছেন।

গতকাল রোববার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে পুলিশ, শিক্ষার্থীসহ অন্তত ২০ জন আহত হন।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবি, ডুয়েটের শিক্ষাব্যবস্থা, প্রশাসনিক বাস্তবতা ও একাডেমিক কাঠামো সম্পর্কে অভ্যন্তরীণ শিক্ষকদের অভিজ্ঞতা বেশি হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ডুয়েটের শিক্ষকদের মধ্য থেকেই নিয়োগ দিতে হবে।

তবে এ বিষয়ে ডুয়েট কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

গাজীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। আজ সারা দিন পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল।

ছাত্রদলের সংবাদ সম্মেলন। ছবি: আজকের পত্রিকা
ছাত্রদলের সংবাদ সম্মেলন। ছবি: আজকের পত্রিকা

শিক্ষক সমিতির বিশেষ বিবৃতি, সংলাপের আহ্বান

নতুন উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট পরিস্থিতি ও সাম্প্রতিক সংঘর্ষের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ডুয়েট শিক্ষক সমিতি। একই সঙ্গে উদ্ভূত সংকট নিরসনে সংলাপ ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে সংগঠনটি।

আজ ডুয়েট শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. খসরু মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. কাজী রফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিশেষ বিবৃতিতে এই উদ্বেগ জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয় একটি জ্ঞানচর্চা, মতপ্রকাশ ও গণতান্ত্রিক চর্চার পবিত্র স্থান। শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি উপস্থাপন ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের অধিকার যেমন সংবিধানসম্মত, তেমনি যেকোনো ধরনের সহিংসতা, হামলা, ভীতি প্রদর্শন ও বহিরাগত হস্তক্ষেপও নিন্দনীয়।

গতকাল রোববার (১৭ মে) সংঘটিত সহিংস ঘটনায় দুজন শিক্ষক ও ১৮ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। আহত ব্যক্তিদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করার পাশাপাশি ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটন, হামলাকারীদের পরিচয় শনাক্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থার দাবি জানায় শিক্ষক সমিতি।

বর্তমান পরিস্থিতিতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, প্রাক্তন শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধৈর্য, সহনশীলতা ও দায়িত্বশীল আচরণ প্রদর্শনের আহ্বান জানানো হয়েছে বিবৃতিতে।

এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনকে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে শিক্ষক সমিতি বলেছে, কোনো পক্ষ যেন পরিস্থিতিকে রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার না করে, সে বিষয়েও সতর্ক থাকতে হবে।

বিবৃতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরব, ঐতিহ্য ও একাডেমিক পরিবেশ রক্ষায় শিক্ষকসমাজের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়। একই সঙ্গে নতুন উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সংকটের দ্রুত সমাধানে সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করা হয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত