Ajker Patrika

২০ কিমি মহাসড়কে পাঁচ অবৈধ বাজার, তবু ইজারা

রাতুল মণ্ডল, শ্রীপুর
২০ কিমি মহাসড়কে পাঁচ অবৈধ বাজার, তবু ইজারা
গাজীপুরে মহাসড়ক দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে অবৈধ বাজার। এতে বাড়ছে যানজট। ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে ওই সড়কে চলাচলকারীদের। গতকাল গাজীপুর সদরের বাঘের বাজারে। ছবি: আজকের পত্রিকা

গাজীপুরে মহাসড়কের ২০ কিলোমিটার এলাকায় গড়ে উঠেছে অবৈধ পাঁচটি বাজার। মহাসড়কের ফুটপাত ও লেন জবরদখল করে এগুলো গড়ে তোলা হয়েছে। এতে বাড়ছে যানজট। ভোগান্তিতে পড়েছে মহাসড়কে চলাচলকারী শত শত পরিবহনের হাজার হাজার যাত্রী। তবে অবৈধ এসব বাজার উচ্ছেদ না করে প্রশাসনের পক্ষে দেওয়া হচ্ছে ইজারা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, গাজীপুর সদরের বাঘের বাজার এবং শ্রীপুর উপজেলার গড়গড়িয়া মাস্টারবাড়ি, এমসি, নয়নপুর ও জৈনা বাজার গড়ে তোলা হয়েছে সড়ক ও জনপদ বিভাগের (সওজ) জায়গায়। পাঁচটি বাজারের মধ্যে একটি বাজারের নামেও সরকারের জমি নেই। অথচ প্রতিবছর বাজারগুলো ইজারা দিচ্ছে উপজেলা প্রশাসন।

সংশ্লিষ্ট ইজারাদার ফুটপাত ছাড়িয়ে মহাসড়কের লেন দখল করেও বসিয়েছেন অবৈধ দোকান এবং ভ্রাম্যমাণ দোকান। এতে মহাসড়ক সরু হয়ে সৃষ্টি হয় যানজট। ভোগান্তিতে পড়ে মহাসড়কে চলাচলকারী শত শত যানবাহনের যাত্রী। ফুটপাত দখল হওয়ায় হাজার হাজার পথচারীকে ঝুঁকি নিয়ে চলতে হয় মহাসড়ক ধরে। এতে দুর্ঘটনার শিকার হয় অনেকে।

শ্রীপুরের বাসিন্দা মনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমি রীতিমতো আশ্চর্য এই কারণে যে বাজারগুলোর নামে সরকারি কোনো জমি নেই, অথচ ইজারা দেওয়া হচ্ছে। ইজারা দেয় কোন আইনে? তাদের জন্য আমাদের চরম ভোগান্তি। শুধু ফুটপাত দখল নয়, বাজার বসে মহাসড়কের লেন দখল করে।’

জৈনা বাজারে সাপ্তাহিক হাট বসে সপ্তাহের প্রতি বুধবার। এই দিনে মহাসড়কের এই অংশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। সদর উপজেলার বাঘের বাজারে প্রায় দিনই যানজটে ভুগতে হয় যাত্রীদের। মহাসড়ক দখল করে বাজার বসানোয় গাজীপুর সাফারি পার্কের প্রধান ফটকের সামনেও সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট।

বাঘের বাজার এলাকার বাসিন্দা মোতাহার হোসেন বলেন, ‘এমন গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কে কী করে বাজার বসে। হাজার হাজার দোকানপাট সড়ক দখল করে। এটা কীভাবে সম্ভব। এগুলো দেখার কেউ নেই। বাঘের বাজার থেকে জৈনা বাজারে যেতে যে সময় লাগে, এই সময়ে বাংলাদেশের শেষ প্রান্ত ঘুরে আসা যাবে।’

জৈনা বাজারের ইজারাদার মো. রাসেল বলেন, সরকারের যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে বাজার ইজারা নিয়েছেন তিনি। বাজার সওজের জায়গায় কেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটা তো নতুন না। বহু বছর ধরে এই বাজার। তবে সড়কের লেন দখল করে বাজার বসানোর বিষয়টি সঠিক নয় বলে উল্লেখ করেন তিনি।

শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাহিদ ভূঞা বলেন, ‘আমি যোগদানের আগেই বাজার ইজারা হয়েছে। শ্রীপুর উপজেলার তিনটি বাজারে বহু বছর ধরে ইজারা কার্যক্রম চলে আসছে। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। তবে মহাসড়ক দখল করার সুযোগ নেই।’

বাজারগুলোর নামে কোনো জমি নেই, তাহলে কী করে ইজারা হয়—এমন প্রশ্নে ইউএনও নাহিদ ভূঞা বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।

সদর উপজেলা ইউএনও মো. সাজ্জাত হোসেন বলেন, ‘সদরের বাঘের বাজারটি মহাসড়ক দখল করে বসে কি না, আমার জানা নেই। বাজারের নামে জমি রয়েছে কি না, এ বিষয়ে নিশ্চিত করে বলতে পারছি না। আমি যোগদানের আগেই বাজার ইজারা হয়েছে। খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

গাজীপুর সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী তানভীর আহমেদ বলেন, সওজের জায়গা জবরদখল করার কোনো সুযোগ নেই। কী করে বাজারগুলো ইজারা দিয়েছে বা পেয়েছে, এ বিষয়ে সওজ কিছুই জানে না। ইতিমধ্যে মহাসড়কের জায়গা জবরদখল করে গড়ে তোলা বাজার উচ্ছেদের জন্য ইজারাদারদের নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এক সপ্তাহের মধ্যে নিজেরা বাজার অপসারণ না করলে অভিযান পরিচালনা করে তা গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে।

জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘মহাসড়কের জায়গা জবরদখল করে গড়ে তোলা বাজারগুলো অবশ্যই উচ্ছেদ করা হবে। বাজার কেন মহাসড়কের লেন দখল করবে। আমার স্পষ্ট বার্তা, জনভোগান্তি সৃষ্টি করে বাজার বসানো যাবে না।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত