Ajker Patrika

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়: শিক্ষাছুটি শেষে যোগ দেননি ১৭ শিক্ষক, পাওনা ৬ কোটি

  • বিভিন্ন বিভাগের ১০৮ জন শিক্ষক উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার জন্য শিক্ষাছুটিতে রয়েছেন।
  • শিক্ষাছুটিতে বিদেশে যাওয়ার আগে প্রত্যেক শিক্ষককে একটি বন্ডে স্বাক্ষর করতে হয়।
  • এ পর্যন্ত ৫ শিক্ষককে অপসারণ করা হয়েছে।
ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়: শিক্ষাছুটি শেষে যোগ দেননি ১৭ শিক্ষক, পাওনা ৬ কোটি
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। ছবি: সংগৃহীত

ময়মনসিংহে অবস্থিত বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) বিভিন্ন বিভাগের ১০৮ জন শিক্ষক উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার জন্য শিক্ষাছুটিতে রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১৭ জনের ছুটির মেয়াদ শেষ হলেও যোগ দেননি বিশ্ববিদ্যালয়ে। এতে শিক্ষকসংকট বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে কয়েকজন শিক্ষককে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে যোগ না দেওয়া সব শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষাছুটির বন্ড ভঙ্গের অভিযোগে ক্ষতিপূরণ আদায়ের প্রক্রিয়া চলছে। তাঁদের কাছ থেকে মোট পাওনা প্রায় ৬ কোটি টাকা।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, শিক্ষা ছুটিতে থাকা ১০৮ জন শিক্ষকের মধ্যে কয়েকজন স্বেচ্ছায় চাকরি থেকে অব্যাহতি নিয়েছেন। এ ছাড়া যে কয়েকজনকে সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চাকরি থেকে অপসারণ করা হয়েছে, তাঁদের কাছ থেকে পাওনা অর্থ আদায়ের জন্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্থাপন শাখা সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষাছুটিতে বিদেশে যাওয়ার আগে প্রত্যেক শিক্ষককে একটি বন্ডে স্বাক্ষর করতে হয়। ওই বন্ড অনুযায়ী ছুটির মেয়াদ শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান বাধ্যতামূলক। নির্ধারিত সময়ে যোগদান না করলে বন্ড অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ আদায়সহ প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে। সেই বিধান অনুযায়ী, নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পরও বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ না দেওয়া ১৭ শিক্ষকের বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণ আদায়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাঁরা হলেন ফার্ম স্ট্রাকচার অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেন, অ্যানিমেল সায়েন্স বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. বদরুজ্জামান সরকার, গ্রামীণ সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নিশীথ জাহান তন্বী, কৃষি সম্প্রসারণ শিক্ষা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. খন্দকার হুমায়ন কবীর, কীটতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. চন্দ্রিমা ইমতিয়ার, প্যাথলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. তাহমিনা রুবা, কৃষিশক্তি ও যন্ত্র বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল মমিন, একই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মো. শামিম আহম্মেদ, অ্যানিমেল নিউট্রিশন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মোস্তাফিজার রহমান, সেচ ও পানি ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আতিকুর রহমান, ডেইরি বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মো. ইলিয়াস উদ্দিন, কৃষিশক্তি ও যন্ত্র বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মো. শামিম আহমেদ, কৃষি সম্প্রসারণ শিক্ষা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আতাহারুল হক চৌধুরী (অপসারিত), কৃষি ব্যবসা ও বিপণন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. খোকন বেপারী (অপসারিত), কৃষি অর্থসংস্থানের সহকারী অধ্যাপক সাবিহা আখতার (অপসারিত), কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ম্যাথমেটিকস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাসুদ-উজ-জামান (অপসারিত) এবং উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মেল্লাহ মো. হামিদুজ্জামান (অপসারিত)।

এই ১৭ শিক্ষকের কাছ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাওনা ৫ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। এর মধ্যে তিনজন আংশিক—৪৩ লাখ টাকা ফেরত দিয়েছেন। এরপরও তাঁদের কাছ থেকে পাওনা রয়েছে ৫ কোটি ৪৪ লাখ ২৪ হাজার ৫১৯ টাকা। বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্থাপন শাখার অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার ড. মো. নাজমুল হক বলেন, ‘পিএইচডি করার জন্য একজন শিক্ষককে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর এবং পোস্ট ডক্টরাল গবেষণার জন্য সর্বোচ্চ দুই বছর শিক্ষাছুটি দেওয়া হয়। ছুটির মেয়াদ শেষ হলে প্রথমে এক মাসের মধ্যে কর্মস্থলে যোগদানের জন্য চিঠি পাঠানো হয়। পরে আরও ১৫ দিনের সময় দেওয়া হয়। এরপরও কেউ যোগদান না করলে অসমাপ্ত বন্ডের ক্ষতিপূরণের নোটিশ দেওয়া হয় এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।’

বাকৃবির উপাচার্য অধ্যাপক এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, ‘শিক্ষকেরা বন্ডে স্বাক্ষর করেই শিক্ষাছুটিতে যান। নির্ধারিত সময় শেষে তাঁদের ফিরে আসা বাধ্যতামূলক। অনেকে চাকরি থেকে অব্যাহতি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাওনা পরিশোধ করেন। কিন্তু কেউ শর্ত ভঙ্গ করে বিদেশে অবস্থান করলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়। কয়েকজনের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে মামলা হয়েছে। নিয়মের বাইরে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত