Ajker Patrika

অবশেষে ধুমধামে বিয়ে সুচিত্রার

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি  
অবশেষে ধুমধামে বিয়ে সুচিত্রার
ধুমধাম করে সুচিত্রার বিয়ের অনুষ্ঠান সম্পন্ন। ছবি: আজকের পত্রিকা

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার সুচিত্রা রানী দাসের বিয়ে ঠিক হয়েছিল তিনবার। কিন্তু বাবা-মায়ের অসামর্থ্যের কারণে প্রতিবারই বিয়ে ভেঙে যায়। এ নিয়ে সিরাজগঞ্জের মামুন বিশ্বাস নামে এক ব্যক্তি তাঁর ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন। এ পোস্ট দেখে দেশ-বিদেশের বহু মানুষ এ পরিবারটির সহায়তায় এগিয়ে আসেন। সেই টাকায় আজ শুক্রবার ধুমধাম করে সুচিত্রার বিয়ের অনুষ্ঠান হলো।

উপজেলার জামতৈল গ্রামের সূত্রধরপাড়ার সুজন চন্দ্র দাস ও কামনা রানী দাস দম্পতির মেয়ে সুচিত্রা। সুজন একটি সেলুনে কাজ করেন। কামনা রানী একসময় চালকলে কাজ করতেন। অসুস্থতার কারণে সে কাজ ছেড়ে দিতে হয়। তাঁদের এক ছেলে ও এক মেয়ে। সুজনের সামান্য রোজগারে চার সদস্যের সংসার চালানোই কঠিন। তাই মেয়ের বিয়ের খরচ জোগানো নিয়ে তাঁর চিন্তার অন্ত ছিল না।

টাকার অভাবে সুচিত্রার বিয়ে না হওয়ার বিষয়টি জানতে পারেন সিরাজগঞ্জে মানবিক কর্মকাণ্ডের জন্য পরিচিত মামুন বিশ্বাস। তিনি সুচিত্রার পরিবারের অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরে তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দেন। সেই পোস্ট দেখে দেশ-বিদেশের অনেক মানুষ সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। অল্প সময়ের মধ্যেই মামুন বিশ্বাসের হিসাবে জমা হয় ২ লাখ ৩২ হাজার টাকা। সেই টাকাতেই গতকাল ধুমধাম করে সুচিত্রার বিয়ে হয়েছে। একই জেলার উল্লাপাড়া উপজেলার হাট বোয়ালিয়া গ্রামের পলাশ কুমার ভৌমিকের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়।

সুচিত্রার মা কামনা রানী দাস বলেন, ‘টাকার অভাবে সুচিত্রার বিয়ে তিনবার ভেঙে গেছে। মামুন বিশ্বাস ভাই আমাদের পাশে না দাঁড়ালে এবারও হয়তো বিয়ে ভেঙে যেত।’

সুচিত্রা বলেন, ‘কোনো দিন ভাবিনি, আমার এত সুন্দর আয়োজনে বিয়ে হবে। মামুন বিশ্বাস মামার প্রতি আমরা চিরকৃতজ্ঞ।’

মামুন বিশ্বাস বলেন, ‘বিয়ের সব খরচ শেষে ২৩ হাজার টাকা সুচিত্রার মায়ের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এটা আমার নয়, দেশ-বিদেশ থেকে যাঁরা সহযোগিতা করেছেন, তাঁদের কৃতিত্ব। আমি শুধু চেষ্টা চালিয়েছি।’ মামুন বিশ্বাসের দাবি, সুচিত্রার মতো অসহায় মেয়েদের পাশে দাঁড়ানোর কাজ তিনি দীর্ঘদিন ধরে করছেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত