Ajker Patrika

প্রধানমন্ত্রীর টেলিফোনের তার চুরি: গ্রেপ্তার দুজন রিমান্ডে

‎নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা‎
প্রধানমন্ত্রীর টেলিফোনের তার চুরি: গ্রেপ্তার দুজন রিমান্ডে
গ্রেপ্তার দুজন। ছবি: সংগৃহীত

সচিবালয়ে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের লাল টেলিফোন সংযোগের তামার তার চুরি হওয়ার ঘটনায় শাহবাগ থানায় করা মামলায় গ্রেপ্তার দুজনকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। আজ শুক্রবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাসান শাহাদাত রিমান্ডে নেওয়ার এই আদেশ দেন।

আদালতের শাহবাগ থানার সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) শাহ আলম এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

গ্রেপ্তার রঞ্জন চন্দ্র (২৬) ও রেজাকুল ইসলামকে (৩২) আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের এসআই এনজামুল হক। শুনানি শেষে আদালত তাঁদের পাঁচ দিন রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আর আসামিদের পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না।

এবারের কোরবানির ঈদের সরকারি ছুটি শুরু হয় ২৫ মে। সাত দিনের ছুটি শেষে গত সোমবার সচিবালয় খুললে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মচারীরা দেখতে পান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের লাল টেলিফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। বিষয়টি জানানো হলে বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেডের (বিটিসিএল) কর্মকর্তারা কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় সংযোগ পুনরুদ্ধার করেন।

ঘটনার পর বিটিসিএলের কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাজিদ হায়দার বাদী হয়ে শাহবাগ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডিতে উল্লেখ করা হয়, সচিবালয়ের পুরোনো ১ নম্বর ভবন থেকে নতুন ১ নম্বর ভবন পর্যন্ত স্থাপিত কপার কেব্‌লের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের লাল টেলিফোন ও অন্যান্য টেলিফোন সংযোগ সচল রাখা হতো। দুর্বৃত্তরা ভবনের ছাদে থাকা ওই কপার কেব্‌ল কেটে নেওয়ায় এসব সংযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। লাল টেলিফোনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বিশ্বের যেকোনো স্থানে তাৎক্ষণিকভাবে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেন।

সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র বলছে, পুলিশের অন্য ইউনিটের সঙ্গে তদন্তে নেমে ডিএমপির সিটিটিসি ইউনিটের সদস্যরা সচিবালয়ের আউটসোর্সিং কর্মী রঞ্জন চন্দ্রকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেন। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তিনি স্বীকার করেন, গত ২২ মে সচিবালয়ের ৩ নম্বর ভবন থেকে তামার তার চুরি করেছেন তিনি। পরে ১ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একুশে হলের সামনে একটি ভাঙারি দোকানে প্রতি কেজি ৬০০ টাকা দরে ৮ কেজি ২০০ গ্রাম তামার তার বিক্রি করেন।

রঞ্জন চন্দ্রের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে একুশে হলসংলগ্ন এলাকা থেকে ভাঙারি ব্যবসায়ী রেজাকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁর দেখানোমতে চকবাজারের হোসেনি দালান রোডের একটি ভাঙারির গুদাম থেকে চুরি হওয়া তামার তার উদ্ধার করা হয়।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত