Ajker Patrika

রপ্তানির পাঁচ খালি কনটেইনার নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে তোলপাড়, তদন্তে দুই কমিটি

 আবু বকর ছিদ্দিক, চট্টগ্রাম
আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১: ৪৯
রপ্তানির পাঁচ খালি কনটেইনার নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে তোলপাড়, তদন্তে দুই কমিটি
ই-অকশনে বন্দরে জমে থাকা কনটেইনারের পণ্য বিক্রির উদ্যোগ। ছবি: আজকের পত্রিকা

চট্টগ্রাম নগরে বেসরকারি এছাক ব্রাদার্স ডিপোতে রপ্তানির সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে জাহাজে তোলার অপেক্ষায় থাকা পাঁচটি কনটেইনার খালি পাওয়া গেছে। কাস্টমস গোয়েন্দারা গত বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) কনটেইনারগুলো শনাক্ত করেন। চালানগুলোতে ১ লাখ ২১ হাজার কেজি পণ্য থাকার কথা উল্লেখ ছিল। এ ঘটনায় ১০ সদস্য নিয়ে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম কাস্টমসের স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যার অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ডে পাঁচটি কনটেইনার রপ্তানি চালান হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। শেষ ধাপে শুধু কনটেইনারগুলো জাহাজে তোলা বাকি ছিল।

কাস্টমস গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, পাঁচটি কনটেইনার নিয়ে সন্দেহ তৈরি হলে গত বৃহস্পতিবার গোয়েন্দা কর্মকর্তারা এছাক ডিপোতে অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ডে রপ্তানিসংক্রান্ত ঘোষণা যাচাই করতে যান। কর্মকর্তারা প্রথমে সন্দেহজনক পাঁচটি চালান শনাক্ত করেন।

ডিপো পরিদর্শনের পর গোয়েন্দারা রপ্তানি পণ্য কায়িক পরীক্ষার জন্য উপস্থাপনের নির্দেশ দেন। তবে ডিপো কর্তৃপক্ষ বা সংশ্লিষ্ট ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরোয়ার্ডিং এজেন্ট পরীক্ষার জন্য কোনো পণ্য দেখাতে পারেননি।

কাস্টমস গোয়েন্দা অধিদপ্তর, চট্টগ্রামের যুগ্ম পরিচালক সাগর সেন বলেন, ‘বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। এই ঘটনায় আমাদের প্রধান কার্যালয় থেকে একটি শক্তিশালী তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। তদন্তের অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে ওই ডিপো থেকে সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে।’

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, সাধারণত রপ্তানি পণ্য প্রথমে সংশ্লিষ্ট ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপোতে নেওয়া হয়। সেখানে কাস্টমসের প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে পণ্য রপ্তানি করা হয়। কিন্তু কোনো রপ্তানি পণ্য ছাড়াই পাঁচটি কনটেইনার কাস্টমসের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে জাহাজে তোলার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল।

কাস্টমস গোয়েন্দা কর্মকর্তারা চালানগুলো আটকে দেওয়ায় প্রায় ৪ লাখ ৩৮ হাজার ডলার বা প্রায় ৫ কোটি ৫০ লাখ টাকার সন্দেহজনক ভুয়া রপ্তানি ঠেকানো গেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। চালানগুলো গাজীপুরের তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান ভ্যালমন্ট ফ্যাশনস লিমিটেডের নামে ছিল।

আইসিডি কমিশনারেট, চট্টগ্রামের অতিরিক্ত কমিশনার মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘এই ঘটনা খতিয়ে দেখতে আমাদের যুগ্ম কমিশনার সাইদ আহমেদ রুবেলের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি পুরো ঘটনা তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করবে।’

কাস্টমস গোয়েন্দারা জানান, বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের প্রধান রপ্তানি বাজার ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলো, বিশেষ করে জার্মানি, স্পেন, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস, পোল্যান্ড ও ডেনমার্ক। যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যেও বিপুল পরিমাণে পোশাক রপ্তানি হয়। জাপান, অস্ট্রেলিয়া, ভারত, তুরস্ক ও রাশিয়ায়ও বাংলাদেশের তৈরি পোশাক যায়।

আলোচ্য পাঁচটি চালানের গন্তব্য হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ফিলিপাইনের নাম উল্লেখ ছিল। তাই গোয়েন্দা কর্মকর্তারা চালানগুলো আরও গুরুত্ব দিয়ে যাচাইয়ের প্রয়োজন মনে করেন। আর যাচাই করতে গিয়েই ধরা পড়ে শুভঙ্করের ফাঁকি।

এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট মেসার্স প্রিন্স মুভিং এজেন্সির মালিক মাহমুদ হাসানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত