Ajker Patrika

শরীয়তপুরে ৩ সাংবাদিকের ওপর বিএনপির হামলা, ‘লিস্ট ধরে পেটানোর’ হুমকি

শরীয়তপুর প্রতিনিধি
আপডেট : ২৫ আগস্ট ২০২৬, ২৩: ৫৮
শরীয়তপুরে ৩ সাংবাদিকের ওপর বিএনপির হামলা, ‘লিস্ট ধরে পেটানোর’ হুমকি

শরীয়তপুরে পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় তিন সাংবাদিককে মারধর ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে জেলা বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে। আজ মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ। হামলার শিকার সাংবাদিকেরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

হামলার শিকার সাংবাদিকেরা হলেন দ্য ডেইলি স্টারের শরীয়তপুর ও মাদারীপুর প্রতিনিধি জাহিদ হাসান রনি, নিউজ টোয়েন্টিফোর ও জাগো নিউজের জেলা প্রতিনিধি বিধান মজুমদার এবং দৈনিক মানবকণ্ঠ ও দৈনিক এদিনের জেলা প্রতিনিধি মো. বরকত উল্লাহ। এর আগে এ ঘটনার প্রতিবাদে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেওয়ায় সময় টিভির শরীয়তপুর প্রতিনিধি বি এম ইসরাফিলের ওপর হামলার ও তাঁর হাত ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।

ভুক্তভোগী সাংবাদিক ও স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য, গত শনিবার রাতে শরীয়তপুর প্রেসক্লাবের দেয়াল ভেঙে ফেলার প্রতিবাদে গত রোববার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেন প্রেসক্লাবের সাংবাদিকেরা।

তারই জেরে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসককে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ তুলে আজ সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করেন জেলা বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। মিছিল থেকে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়।

ভুক্তভোগী সাংবাদিকদের অভিযোগ, মিছিলের ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে গেলে তাঁদের ওপর হামলা করা হয়।

দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিনিধি জাহিদ হাসান রনি অভিযোগ করেন, জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি আরিফুজ্জামান মোল্লা তাঁর মোবাইল ফোন ও পরিচয়পত্র কেড়ে নেন। পরে তাঁকে কিল-ঘুষি ও চড়-থাপ্পড় দেওয়া হয়।

শরীয়তপুরে তিন সাংবাদিকের ওপর বিএনপির হামলার নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে শরীয়তপুর প্রেসক্লাব। ছবি: আজকের পত্রিকা
শরীয়তপুরে তিন সাংবাদিকের ওপর বিএনপির হামলার নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে শরীয়তপুর প্রেসক্লাব। ছবি: আজকের পত্রিকা

নিউজ টোয়েন্টিফোর ও জাগো নিউজের প্রতিনিধি বিধান মজুমদার অভিযোগ করেন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আমিনুর রহমান আমান তাঁকে মারধর করেন। পরে আরও কয়েকজন তাঁকে কিল-ঘুষি ও লাথি মারেন।

দৈনিক মানবকণ্ঠের প্রতিনিধি মো. বরকত উল্লাহ বলেন, আরিফুজ্জামান মোল্লার নির্দেশে কয়েকজন নেতা-কর্মী তাঁকে মারধর করেন। এতে তাঁর বাম হাতের একটি আঙুল ভেঙে গেছে বলে দাবি করেন তিনি।

হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি আরিফুজ্জামান মোল্লার মোবাইল ফোনে কল করা হয়। এ সময় তিনি উত্তেজিত হয়ে সাংবাদিকদের আবারও পেটানোর হুমকি দেন।

আরিফুজ্জামান মোল্লা বলেন, ‘আরও মারব, অনেকেই লিস্টে আছে আল্লাহর রহমতে। সন্ধ্যার পরে খবর পেয়ে যাবা। তুমি নিজেও তৈরি থাকো, ইনশা আল্লাহ।’

শরীয়তপুর জেলা বিএনপির সহসভাপতি শাহ মোহাম্মদ আব্দুস সালাম বলেন, ‘সাংবাদিকেরা জেলা প্রশাসকের সঙ্গে অন্যায় আচরণ করেছেন। এর প্রতিবাদে আজ বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে। সেখানে কোনো সাংবাদিককে মারধর করা হয়েছে কি না, তা আমার জানা নেই।’

শরীয়তপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি আবুল হোসেন সরদার ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল আমিন রবিন স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় সাংবাদিকদের ওপর হামলা স্বাধীন সাংবাদিকতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর আঘাত। ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে প্রেসক্লাব।

প্রেসক্লাবের সভাপতি আবুল হোসেন সরদার বলেন, ‘পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দেওয়া হয়েছে। তদন্ত করে ঘটনায় জড়িত প্রত্যেককে আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবি জানাচ্ছি।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত