Ajker Patrika

শাহজালাল বিমানবন্দর: বাড়তি মানুষের ভিড়ে যাত্রীদের ভোগান্তি

  • ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও ঢোকা যাচ্ছে না বিমানবন্দরে।
  • হকার ও এজেন্সির দালালদের দৌরাত্ম্য।
সাইফুল মাসুম, ঢাকা
শাহজালাল বিমানবন্দর: বাড়তি মানুষের ভিড়ে যাত্রীদের ভোগান্তি
বিমানবন্দরের প্রবেশপথে লাগেজ ও ব্যাগ হাতে মানুষের জটলা। প্রতিদিন বিদেশগামী যাত্রী অনুপাতে কয়েক গুণ বেশি মানুষ ভিড় করেন এখানে। গত রোববার ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল-২-এর বহির্গমন পথ এলাকায়। ছবি: আজকের পত্রিকা

গত রোববার দুপুর ১২টা। ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল-২-এর বহির্গমন পথ এলাকায় মানুষের উপচে পড়া ভিড়। লাগেজ ও ব্যাগ হাতে মানুষের জটলা। অনেক জায়গায় পথ আটকে পার্কিং করা হয়েছে প্রাইভেট কার, সিএনজি, মোটরসাইকেল। সেখানে হকার ও বিভিন্ন এজেন্সির দালালদের দৌরাত্ম্যও চোখে পড়েছে।

এয়ারলাইনস সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, প্রতিদিন বিদেশগামী যাত্রী অনুপাতে কয়েক গুণ মানুষ সেখানে ভিড় করে। অথচ বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ড্রাইভওয়ে এবং ক্যানোপি (ছাউনিযুক্ত প্রবেশপথ) এলাকা পর্যন্ত যাত্রীদের সঙ্গে কেবল দুজন ব্যক্তি যেতে পারেন।

ড্রাইভওয়েতে কথা হয় নড়াইলের বাসিন্দা এনামুল মিয়ার সঙ্গে। বিকেল ৪টায় ইন্ডিগো এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে তাঁর সৌদি আরবের উদ্দেশে যাত্রা করার কথা ছিল। এনামুল বলেন, ‘বিমানবন্দরে ঢুকতে অনেক সমস্যায় পড়তে হয়। তাই সময় হাতে রেখে দুপুর ১২টার মধ্যে বিমানবন্দরে চলে এসেছি।’

কিশোরগঞ্জ থেকে এসেছেন আসিয়া খাতুন (৬৫)। তিনি জানান, তাঁর ছেলে ফারুক আলমকে বিদায় জানাতে এসেছেন তাঁরা। তাঁর সঙ্গে আরও আছেন ফারুকের স্ত্রী এবং স্ত্রীর দুই ভাই।

বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের (বোয়েসেল) মাধ্যমে সরকারিভাবে জর্ডান যাচ্ছিলেন একদল নারী। তাঁদের বিদায় জানাতেও অনেক মানুষকে ভিড় করতে দেখা যায়।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সন্ধ্যার একটি ফ্লাইটে কাতার যাওয়ার জন্য দুপুরে বিমানবন্দরে এসেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরের হেলাল উদ্দিন। তিনি জানান, এক ঘণ্টার বেশি সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকলেও তিনি বিমানবন্দরে ঢুকতে পারেননি।

ড্রাইভওয়েতে যানজটের পেছনে আরেকটি কারণ প্রাইভেট কার, সিএনজি এবং মোটরসাইকেল যত্রতত্র পার্কিং। যানবাহনগুলো যাত্রী নামিয়ে যাত্রীদের সঙ্গে আসা ব্যক্তিদের নেওয়ার জন্য অপেক্ষা করছে। কয়েকজন হকারকেও দেখা যায় সেখানে। তাঁরা আমড়া ও আচার বিক্রি করছেন। ড্রাইভওয়েতে ওঠার দুই পাশে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) ও আনসার সদস্যদের চেকপোস্ট থাকলেও তাঁদের তেমন তৎপরতা চোখে পড়েনি।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবছর প্রায় ২ কোটি যাত্রী ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ব্যবহার করেন। এখান থেকে প্রতিদিন অন্তত ১৯০টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালিত হয়।

এমন অব্যবস্থাপনা বিমানবন্দরের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে বলে জানিয়েছেন এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ উইং কমান্ডার (অব.) এ টি এম নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে একটা কালচার হয়ে গেছে, একজন বিদেশ গেলে, তাঁকে বিদায় জানাতে বিমানবন্দরে ১০ জন হাজির হয়। এমনিতে ঢাকা বিমানবন্দর অতিমাত্রায় জনাকীর্ণ; এর মধ্যে বাড়তি মানুষের চাপ থাকলে অবস্থা আরও খারাপ হয়।’

বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ বলেন, ‘ক্যানোপি এলাকায় যাত্রীর বাইরে অন্য মানুষজনের চাপের বিষয়ে মাঝেমধ্যে অভিযোগ পাই। বেশি মানুষের জটলার কারণে ড্রাইভওয়েতে অনেক সময় ভিড় তৈরি হয়। লোকজনের মধ্যে নিয়ম না মানার প্রবণতা এর অন্যতম কারণ।’ এ বিষয়ে শৃঙ্খলার দায়িত্বে থাকা আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত