Ajker Patrika

মমেক ছাত্রাবাসে ছাত্রদলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, ক্লাস-পরীক্ষা স্থগিত, হল ছাড়ার নির্দেশ

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
মমেক ছাত্রাবাসে ছাত্রদলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, ক্লাস-পরীক্ষা স্থগিত, হল ছাড়ার নির্দেশ
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ। ছবি: সংগৃহীত

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের (মমেক) ছাত্রাবাসে ছাত্রদলের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় দুই শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের ঘটনায় ক্লাস-পরীক্ষা স্থগিত করে হল ছাড়ার নোটিশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকালে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

ওই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শুক্রবার রাতে ছাত্রাবাসে ছাত্রদলের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় শনিবার একাডেমিক কাউন্সিলের জরুরি সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক আগামী সাত দিনের জন্য সকল প্রকার ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। শনিবার সকাল ৮টার মধ্যে শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগ করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

একই দিন দুপুর ১২টার দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. নাজমুল আলম খান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির সভাপতি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের অধ্যাপক ডা. সেহেলী জান্নাত সুলতানা। কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. শামীমুল মাসুদ আহমেদ ও সদস্যসচিব অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ রফিকুল হক। এই কমিটিকে সাত কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এর আগে শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাত ৯টার দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের বাঘমাড়া ছাত্র হোস্টেলে ছাত্রদলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে দুজন আহত হয়েছে। আহতরা হলেন মো. মুয়াজ ও মীর হামিদুর। তাঁরা ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। মো. মুয়াজ কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক তানভীর আব্দুল্লাহ গ্রুপের কর্মী এবং মীর হামিদুর কলেজ ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নুরে জাওয়াদ রুতাপ গ্রুপের কর্মী।

পুলিশ ও কলেজ সূত্র জানায়, কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক তানভীর আব্দুল্লাহ গ্রুপের কর্মী মুয়াজ শুক্রবার রাতে মীর হামিদুরের কক্ষে যান। সেখানে বাইকে তেল ভরাকে কেন্দ্র করে তাঁদের মধ্যে প্রথমে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তাঁদের মধ্যে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে এবং হামিদুর ও তাঁর সহযোগীরা মুয়াজকে মারধর করে কক্ষ থেকে বের করে দেন। পরে মীর হামিদুর চা খেতে বাইরে গেলে স্টিলের পাইপ দিয়ে তাঁর মাথায় আঘাত করা হয়। এতে হামিদুরের গ্রুপের সদস্যরা মুয়াজকে ধাওয়া করলে তিনি একটি কক্ষে ঢুকে নিজেকে আটকে রাখেন। এরপর মুয়াজকে উদ্ধার করতে তাঁর গ্রুপের সদস্যরা এগিয়ে এলে দুই গ্রুপের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া হয়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. নজরুল ইসলাম বলেন, রাতভর ময়মনসিংহ মেডিকেলে চিকিৎসা নেওয়ার পর সকালে মুয়াজকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। হামিদুর হাসপাতালের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন আছে। এই দুজনের মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে।

ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে নাফিউল ইসলাম নামের একজনকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখনো মামলা হয়নি।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. নাজমুল আলম খান জানান, আগামী সাত দিনের জন্য সব ক্লাস ও পরীক্ষা স্থগিত থাকবে। কলেজের পুরো ঘটনা খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত