Ajker Patrika

শিক্ষকের মৃত্যুতে মানসিক নিপীড়নের অভিযোগ, মহাসড়ক অবরোধ

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী
আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০: ০০
শিক্ষকের মৃত্যুতে মানসিক নিপীড়নের অভিযোগ, মহাসড়ক অবরোধ
বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। ছবি: আজকের পত্রিকা

রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বর ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষকের মৃত্যুর জেরে গতকাল মঙ্গলবার বিক্ষোভ করেছেন প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীরা। প্রধান শিক্ষকের মানসিক নিপীড়নের কারণে ওই শিক্ষকের মৃত্যু হয়েছে বলে তাঁদের অভিযোগ। এই বিক্ষোভে প্রাক্তন শিক্ষার্থীরাও যোগ দেয়।

বিক্ষোভের একপর্যায়ে বেলা ১১টা ২৫ মিনিটের দিকে বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা বানেশ্বর ট্রাফিক মোড়ে গিয়ে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করে। এর প্রায় ১০ মিনিট পর পুঠিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদুল ইসলাম ঘটনাস্থলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেন। এরপর মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

মারা যাওয়া ওই শিক্ষকের নাম সাহাদুল হক। গত সোমবার বানেশ্বরে নিজের বাড়িতে প্রাইভেট পড়ানোর সময় তিনি স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। সাহাদুলকে প্রধান শিক্ষক আজাদ আলী মানসিক নিপীড়ন করতেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ নিয়ে ২০২২ সালের ২৭ জুলাই একটি চিরকুট লিখেছিলেন সাহাদুল হক। তাতে লেখা ছিল, ডায়াবেটিস নীল হয়ে কিংবা স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হলে এর জন্য দায়ী থাকবেন প্রধান শিক্ষক আজাদ আলী। এ ছাড়া যাঁরা আজাদ আলীকে সহযোগিতা করেন, তাদেরও দায়ী করেন তিনি। ওই সময় তিনি এই চিরকুট ফেসবুকে পোস্ট করেছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পর সেটি নতুন করে সামনে এসেছে। এতেই ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রধান শিক্ষক আজাদ আলী সবার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। অতীতে বিদ্যালয়ের সব শিক্ষক তাঁর প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করলেও তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

এ বিষয়ে কথা বলতে প্রধান শিক্ষক আজাদ আলীকে একাধিকবার ফোন করা হলেও ধরেননি। বিদ্যালয় গভর্নিং বডির সভাপতি মাহবুব সরকার বলেন, ‘মানসিক টর্চার বিষয়টা আসলে আপেক্ষিক। প্রতিষ্ঠান চালাতে গেলে অনেক কথা বলতে হয়। এখন কোন কথাটা কীভাবে কতটুকু বলা যাবে, তার তো কোনো প্যারামিটার নেই। তাই এটা নিপীড়ন বলা যাবে না।’

মাহবুব সরকার জানান, বর্তমান ও প্রাক্তন কিছু শিক্ষার্থী বিক্ষোভ করলে তাঁরা মারা যাওয়া শিক্ষকের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছেন। তাঁদের কোনো অভিযোগ নেই। তাঁদের দাবি, মৃত শিক্ষকের যে পাওনা আছে, সেগুলো যেন দ্রুত পরিশোধ করা হয়। তাঁরা সেটা দ্রুতই করে দেবেন।

প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে লেখা চিরকুটের বিষয়ে সভাপতি বলেন, ২০২২ সালে তিনি ওটা লিখেছিলেন। ফেসবুকে এটা দেওয়ার পর প্রধান শিক্ষকও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) জানিয়েছিলেন এবং তাঁর কী করণীয় জানতে চেয়েছিলেন। পরে এ নিয়ে তদন্ত হয়। সে সময় সাহাদুল হক বলেছিলেন, তিনি আবেগপ্রবণ হয়ে এটা দিয়েছিলেন।

পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিয়াকত সালমান বলেন, খবর পেয়ে তিনি নিজেই বিদ্যালয়ে গিয়েছিলেন। সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিবু দাসও গিয়েছিলেন। বর্তমানে বিদ্যালয়ের পরিবেশ শান্ত রয়েছে। মানসিক নিপীড়নের অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে বলেও জানান তিনি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত