Ajker Patrika

বান্দরবানে গহিন অরণ্যে ৪৩ একর পপিখেত ধ্বংস‎

থানচি (বান্দরবান) প্রতিনিধি  
বান্দরবানে গহিন অরণ্যে ৪৩ একর পপিখেত ধ্বংস‎
বান্দরবানে গহিন অরণ্যে যৌথ বাহিনীর অভিযান। ছবি: সংগৃহীত

‎দুর্গম পাহাড় আর সীমান্তঘেঁষা জনশূন্য এলাকায় প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলছিল নিষিদ্ধ মাদকদ্রব্য পপি চাষ। অবশেষে সেই চক্রের ওপর আঘাত হেনেছে যৌথ বাহিনী। বান্দরবানের থানচি গহিন পাহাড়ি অঞ্চলে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৪৩ একর পপিখেত ধ্বংস করা হয়েছে, যার সম্ভাব্য বাজারমূল্য প্রায় ১১ কোটি টাকা।

‎গোপন তথ্যের ভিত্তিতে রোববার থেকে আজ মঙ্গলবার তিন দিন সেনাবাহিনী ও বিজিবির সমন্বয়ে গঠিত একটি বিশেষ দল পাহাড়ি দুর্গম পথ অতিক্রম করে অন্তত ১২টি স্থানে অভিযান চালায়। অভিযান শেষে স্থানীয়দের উপস্থিতিতে পপিগাছ উপড়ে ফেলে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়, যাতে পুনরায় তা ব্যবহার করা না যায়।

বান্দরবানে গহিন অরণ্যে যৌথ বাহিনীর অভিযান। ছবি: সংগৃহীত
বান্দরবানে গহিন অরণ্যে যৌথ বাহিনীর অভিযান। ছবি: সংগৃহীত

যৌথ বাহিনীর সূত্র জানায়, ধ্বংস করা খেত থেকে প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে প্রায় ১ হাজার ৪৫০ কেজি আফিম উৎপাদনের সম্ভাবনা ছিল। উদ্ধার ও ধ্বংসকৃত মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য ধরা হয়েছে ১০ কোটি ৮৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরেই দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল বিশেষ করে ডিম পাহাড় ও সাঙ্গু নদীসংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকায় গোপনে পপি চাষের বিস্তার ঘটেছে। স্থানীয়দের দাবি, এসব এলাকায় এখনো শতাধিক একরের বেশি জমিতে নিষিদ্ধ এ চাষাবাদ চলছে, যার পেছনে সংঘবদ্ধ চক্র সক্রিয়।

‎আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, পার্বত্য অঞ্চলে মাদক চক্রের বিস্তার ঠেকাতে সীমান্ত নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং ধারাবাহিক অভিযান অব্যাহত থাকবে। তাদের মতে, পাহাড়ে মাদক উৎপাদনের উৎস ধ্বংস করা গেলে চোরাচালানও অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।

‎স্থানীয় সচেতন মহল মতে, এমন ধারাবাহিক অভিযান ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো গেলে পার্বত্য এলাকায় মাদক চক্রের নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়া সম্ভব।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত