Ajker Patrika

ঝিনাইদহে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্যে জুতার মালা, তদন্তে পুলিশ

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
আপডেট : ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১: ৫০
ঝিনাইদহে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্যে জুতার মালা, তদন্তে পুলিশ
বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্যে জুতার মালা ঝোলানোর ঘটনায় ক্ষুব্ধ সচেতন নাগরিক সমাজ। ছবি: আজকের পত্রিকা

ঝিনাইদহ শহরের প্রবেশপথে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্যে জুতার মালা ঝোলানোর ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। জেলা প্রশাসক নোমান হোসেন জানিয়েছেন, পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে সাদা রঙের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্যের মাথায় রশি দিয়ে তৈরি জুতার মালা ঝুলতে দেখা যায়। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর লোক পাঠিয়ে মালাটি অপসারণ করা হয়।

আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের বর্তমান কমিটির আহ্বায়ক কামালুজ্জামানের মোবাইল ফোনে বাস টার্মিনাল এলাকা থেকে এক ব্যক্তি ফোন করেন। ওই ব্যক্তি ভাস্কর্যে জুতার মালা ঝোলানোর কথা জানান। পরে আবার ফোন করে তিনি নিজেকে পুলিশ সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন।

মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কার্যালয় থেকে লোক পাঠিয়ে জুতার মালাটি অপসারণ করেন মুক্তিযোদ্ধা কামালুজ্জামান।

কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকার চায়ের দোকানি মো. জাবেদ বলেন, ‘সকালে দোকান খোলার সময় দেখি বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের গলায় জুতার মালা ঝুলছে। বিষয়টি দেখে আমি অনেকটা অবাক হই। কখন, কে বা কারা এ কাজ করেছে, তা আমি জানি না। বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান তো কারও ক্ষতি করেননি, তিনি দেশের জন্য জীবন দিয়েছেন। শিক্ষার্থীরা যে জাতীয় পতাকা মাথায় ও বুকে জড়িয়ে রাজপথে নেমে আন্দোলনের মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশ উপহার দিয়েছে, সেই জাতীয় পতাকাটিই আমাদের এনে দিয়েছেন হামিদুর রহমান। অথচ আজ তাঁকেই জুতার মালা পরিয়ে অপমান করা হচ্ছে। বিষয়টি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না। যারা এ কাজটি করেছে, তাদের বিচার চাই।’

জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের বর্তমান কমিটির আহ্বায়ক কামালুজ্জামান কামাল বলেন, ‘আমি নিজে খবর পেয়ে অফিস থেকে লোক পাঠিয়ে তা অপসারণ করেছি। বিষয়টি অত্যন্ত নিন্দনীয়। এটা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের চরম অবমাননা করা। এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এর তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে হবে।’

বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্যে জুতার মালা ঝোলানোর ঘটনায় ক্ষুব্ধ সচেতন নাগরিক সমাজ। ছবি: আজকের পত্রিকা
বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্যে জুতার মালা ঝোলানোর ঘটনায় ক্ষুব্ধ সচেতন নাগরিক সমাজ। ছবি: আজকের পত্রিকা

কামালুজ্জামান আরও বলেন, বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাতিজা হাফিজুর রহমান আজকের পত্রিকাকে বলেন, হামিদুর রহমান, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও স্মৃতি হয়তো ওখান থেকে মুছে ফেলার জন্য কেউ পরিকল্পনা নিয়েছে। কারণ, কিছুদিন আগেও তাঁর ভাস্কর্যটি দিনদুপুরে কে বা কারা ভাঙছিল। আবারও হামিদুর রহমানকে অসম্মান করা হয়েছে। এর সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা হোক।

ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদউজ্জামান আজকের পত্রিকাকে মোবাইল ফোনে জানান, এ বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না।

জেলা প্রশাসক নোমান হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবহিত হয়েছি। এ বিষয়ে পুলিশ বিভাগ তদন্ত করছে। দোষীদের চিহ্নিত সাপেক্ষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এর আগে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান চত্বরের ভাস্কর্য ভাঙার কাজ চলার খবর প্রকাশিত হলে তা স্থগিত করা হয়। ‘বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান চত্বরের ভাস্কর্য কে ভাঙছে জানে না কেউ’ শিরোনামে আজকের পত্রিকায় গত ১৪ জুলাই অনলাইনে ও ১৫ জুলাই ছাপা সংস্করণে প্রতিবেদন প্রকাশের পর দেশজুড়ে আলোচনা শুরু হয়।

জেলা প্রশাসনের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এক সভায় ভাস্কর্য ভাঙার কাজ স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে চত্বরে ‘হামিদুর রহমানের ভাস্কর্য মেরামতের কাজ চলছে’ লেখা বড় ব্যানার বসানো হয়। সম্প্রতি ভাস্কর্যটিতে সাদা রং করা হয়।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত