
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) আইন বিভাগ থেকে অনার্স ও মাস্টার্স করেছেন নুসরাত জাহান। তাঁর ইচ্ছা আইনজীবী হবেন। এ জন্য কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের তালিকাভুক্তির কঠিন প্রতিযোতিমূলক পরীক্ষার এমসিকিউ ও লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেন।
নুসরাত জাহান বলেন, ‘গত বছরের নভেম্বর মাসে মৌখিক পরীক্ষার পর তিন মাস অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত ফলাফল প্রকাশ করেনি বাংলাদেশ বার কাউন্সিল। কবে প্রকাশ করবে, সেই তারিখও জানাচ্ছে না বার কাউন্সিল কর্তৃপক্ষ। দীর্ঘ সময়েও মৌখিক পরীক্ষার ফল প্রকাশ না করায় একধরনের মানসিক চাপে দিন কাটাচ্ছি। আইন পেশায় প্রবেশের জন্য বার কাউন্সিলের সনদ অপরিহার্য হওয়ায় ফলাফল প্রকাশের এই দীর্ঘ বিলম্ব আমাদের কর্মজীবন শুরু, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং আর্থিক স্থিতিশীলতাকে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করছে। আমরা কেউ প্র্যাকটিস শুরু করতে পারছি না। আবার অন্য কোনো পেশাগত সিদ্ধান্তও নিতে পারছি না। ফলে জীবন যেন এক অনিশ্চিত অপেক্ষার মধ্যে আটকে আছে।’
চবির এই শিক্ষার্থী বলেন, ‘দীর্ঘ সময় ধরে কঠোর পরিশ্রম ও প্রস্তুতির পর পরীক্ষার সব ধাপ সম্পন্ন করেও ফলাফলের জন্য অনির্দিষ্ট সময় অপেক্ষা করা আমাদের জন্য অত্যন্ত হতাশার ও মানসিক যন্ত্রণাদায়ক।’
নুসরাত আরও বলেন, ‘বার কাউন্সিলের এনরোলমেন্টের সার্টিফিকেট ছাড়া বিভিন্ন জবের ক্ষেত্রে আবেদনের সুযোগও সীমিত। আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিনীতভাবে অনুরোধ জানাই, যেন দ্রুত ফলাফল প্রকাশ করা হয় অথবা অন্তত ফলাফল প্রকাশের একটি নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করা হয়।’
একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনে অনার্স ও মাস্টার্স করা জাহিদ হাসান জানান, তিনিও মৌখিক পরীক্ষা দিয়েছেন। কিন্তু দীর্ঘদিনে ফল প্রকাশ করা হচ্ছে না। এতে তিনিও ভেঙে পড়েছেন। জাহিদ বলেন, ‘ফলাফলের অপেক্ষায় ঝুলে আছে আমার ক্যারিয়ার ও পরিবার। আজ দীর্ঘ তিন মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো ফলাফল প্রকাশিত হয়নি। এই অনিশ্চয়তা আমাদের জীবনকে এক ভয়াবহ মানসিক চাপে ফেলে দিয়েছে। এমন বিলম্বের বিরূপ প্রভাব ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। আমরা কেউ শখের বশে আইন পড়িনি। পরিবারের হাল ধরার স্বপ্ন নিয়ে, সমাজে ন্যায়বিচারের অংশীদার হওয়ার আশায় এই পথে এসেছি। কিন্তু ফলাফল না থাকায় পেশাগতভাবে কোথাও দাঁড়াতে পারছি না। আমাদের ওপর সুবিচার করা হচ্ছে না। সংসারের খরচ, বাবা-মায়ের চিকিৎসা, ভাই-বোনের পড়াশোনা—সবই অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে গেছে।’
জাহিদ আরও বলেন, ‘ফলাফল কবে প্রকাশিত হবে—এই বিষয়ে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট সময়সীমা জানানো হয়নি। আমরা শুধু অপেক্ষা করছি, দিনের পর দিন, মাসের পর মাস। এই অপেক্ষা ধীরে ধীরে হতাশায় রূপ নিচ্ছে।’
জানা গেছে, এই হতাশা বা মানসিক যন্ত্রণা শুধু নুসরাত কিংবা জাহিদের নয়, মৌখিক পরীক্ষা দেওয়া প্রায় ৮ হাজার শিক্ষার্থী এই মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। পরিবারের দায়িত্ব, পেশাগত ভবিষ্যৎ ও সামাজিক স্বীকৃতির প্রত্যাশা—সবকিছুই যেন আটকে আছে একটি ফলাফলের ওপর।
পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ, নির্দিষ্ট সময়সীমা না জানানো এবং দীর্ঘ বিলম্ব তাঁদের হতাশা আরও বাড়িয়ে তুলছে। তাঁরা বিশেষ সুবিধা নয়, কেবল সময়মতো ফল প্রকাশের ন্যায্য অধিকার চান; যাতে দীর্ঘ পরিশ্রমের স্বীকৃতি পেয়ে নতুন জীবনের পথে এগোতে পারেন। এটা তো চাকরি নয়। সরকারকে তো বেতন দিতে হচ্ছে না। তাহলে হাজার হাজার আইন শিক্ষার্থীকে কেন আটকে রাখা হচ্ছে!
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক সিফাত শারমিন বলেন, ‘আমি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সম্পূর্ণ একমত। আসলে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দেওয়ার পর চায় দ্রুত তাদের ফলাফল প্রকাশ করা হোক, যাতে তারা প্রফেশনাল লাইফে পদার্পণ করতে পারে। দীর্ঘ প্রায় তিন মাস তাদের ফলাফল প্রকাশ না হওয়ায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়াটা স্বাভাবিক। সংশ্লিষ্টদের বিষয়টিতে নজর দেওয়া উচিত।’
বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সদস্য অ্যাডভোকেট এ এস এম বদরুল আনোয়ার জানান, আজ সোমবার বার কাউন্সিলের এনরোলমেন্ট কমিটির বৈঠক হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু কমিটির চেয়ারম্যানের মা মারা যাওয়ার কারণে বৈঠকটি স্থগিত করা হয়েছে। পরবর্তী বৈঠকে বার কাউন্সিলের নতুন এনরোলমেন্টের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।
গত বছরের ৩০ নভেম্বর মৌখিক পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর ফল প্রকাশের বিষয়ে গত ১৭ জানুয়ারি বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান ও সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী জয়নুল আবেদীন আজকের পত্রিকাকে বলেছিলেন, এটা ইলেকশনের পরে। এটা এখন হচ্ছে না। যেহেতু ইলেকশন সামনে এসে গেছে। ইলেকশনের কথা চিন্তা করে এখন হচ্ছে না, ইলেকশনের পরে।
আর গত ১৬ ফেব্রুয়ারি বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান জয়নুল আবেদীন বলেন, এনরোলমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান ছুটিতে, এ জন্য সভা করা যাচ্ছে না। সভা করা গেলেই আইনজীবী তালিকাভুক্তির ফলাফল প্রকাশ করা হবে। কবে ফল প্রকাশ করা হবে—সে বিষয়ে তিনি কিছু বলেননি।
জানা গেছে, বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের আইনজীবী তালিকাভুক্তির মৌখিক পরীক্ষা গত বছরের ১৫ নভেম্বর শুরু হয়ে ৩০ নভেম্বর শেষ হয়। এর আগে গত বছরের ২৫ অক্টোবর লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। এতে ৭ হাজার ৯১৭ পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হন। আর লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় ২৮ জুন এবং এমসিকিউ পরীক্ষা হয় ওই বছরের ২৫ এপ্রিল।
বার কাউন্সিল সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ১০ নভেম্বর বার কাউন্সিলের সচিব মোহাম্মদ কামাল হোসেন শিকদার (জেলা ও দায়রা জজ) স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে রোল নম্বর অনুযায়ী মৌখিক পরীক্ষার সময়সূচি প্রকাশ করা হয়। নির্ধারিত নির্দেশনা অনুযায়ী পরীক্ষার্থীরা নিজস্ব প্রবেশপত্র, রেজিস্ট্রেশন কার্ড, একাডেমিক সনদের মূল কপি এবং পাঁচটি দেওয়ানি ও পাঁচটি ফৌজদারি মামলার নোটবই বা কেস ডায়েরি নিয়ে ভাইভায় অংশ নেন। কিন্তু মৌখিক পরীক্ষা শেষ হওয়ার তিন মাস পরও ফলাফল প্রকাশে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই।

খুলনা শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি সাব্বির (২২) দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে গুরুতর জখম হয়েছেন। আজ সোমবার রাত পৌনে ১০টার দিকে নগরীর টুটপাড়া দরবেশ মোল্লা গলির সামনে অ্যাড. আইয়ুব আলীর বাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে। আহত সাব্বির টুটপাড়া মুজাহিদ সড়কের বাসিন্দা শাহ আলমের ছেলে।
২ মিনিট আগে
সংসদ সদস্য ড. রেজা কিবরিয়ার স্ত্রী সিমি কিবরিয়াকে উপজেলা কর্মকর্তাদের মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি করা নিয়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। বিতর্কের মধ্যে বাহুবল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিটন চন্দ্র দে ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহবুবুল ইসলামকে বদলি করা হয়েছে।
১৩ মিনিট আগে
পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান নিজে এসেছিলেন এই চৌক্কার খালে। তিনি স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে সবাইকে একত্র করে নিজে কোদাল হাতে খাল খনন শুরু করেন। মাটি কেটেছেন। তাঁর তখন চিন্তা-ধারণার মধ্যে ছিল যে—এই খাল যখন খনন হবে, খালের দুই পাড়ে গাছ থাকবে।
২৬ মিনিট আগে
ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের যাত্রী অপেক্ষাগারে শত শত যাত্রী। সবার চোখে–মুখে হতাশা, উদ্বেগ, অনিশ্চয়তা। তাঁদের কেউ এসেছেন দ্বিতীয় দিনের মতো, কেউ বা অপেক্ষা করছেন কয়েক ঘণ্টা ধরে। সঙ্গে আছেন বিদায় জানাতে আসা স্বজনেরা। তাঁরা সবাই মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন গন্তব্যের যাত্রী।
১ ঘণ্টা আগে