Ajker Patrika

কুমিল্লার দেবিদ্বার: পারিবারিক বিরোধে বন্ধ সড়কের কাজ, ভোগান্তি

  • জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রায় এক বছর ধরে সড়ক সংস্কারকাজ বন্ধ রেখেছেন ঠিকাদার
  • সড়কের কাজ বন্ধ থাকায় আটটি গ্রামের বাসিন্দারা যাতায়াত নিয়ে ভোগান্তিতে রয়েছে
  • ১০ ফুট প্রশস্ত ও ৮৩৭ মিটার দৈর্ঘ্যের সড়কটি সংস্কারে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ৯৬ লাখ টাকা
শফিউল আলম রাজীব, দেবিদ্বার (কুমিল্লা)
কুমিল্লার দেবিদ্বার: পারিবারিক বিরোধে বন্ধ সড়কের কাজ, ভোগান্তি
কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার জয়পুর গ্রামে সংযোগ সড়ক সংস্কারের কাজ আটকে থাকা স্থান। ছবি: আজকের পত্রিকা

কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার জয়পুর গ্রামে প্রায় দুই কোটি টাকা প্রাক্কলন ব্যয়ে একটি সংযোগ সড়ক সংস্কারের কাজ জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রায় এক বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। ফলে ফতেহাবাদ ও সুবিল ইউনিয়নের অন্তত আটটি গ্রামের মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছে।

গতকাল শুক্রবার সকালে সরেজমিনে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ফতেহাবাদ ইউনিয়নের জয়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে আহামুদ্দিন সরকার বাড়ি পর্যন্ত প্রায় আধা কিলোমিটার এই সংযোগ সড়কটি ফতেহাবাদ ইউনিয়নের আসানপুর সড়ক হয়ে সুবিল ইউনিয়নের ওয়াহেদপুর বাজার সড়কের সঙ্গে যুক্ত। কিন্তু জয়পুর গ্রামের আজিজ সরকার বাড়ির পারিবারিক বিরোধের কারণে দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির উন্নয়নকাজ বন্ধ রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. শামমিয়া সানু মেম্বারের দাবি, সড়কটি তাঁর ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির ওপর দিয়ে নির্মাণ হচ্ছে এবং সড়কের জন্য আরও অতিরিক্ত জমি নেওয়ার প্রয়োজন হলে তা-ও দিতে তিনি রাজি। কারণ, সড়কের দুই পাশের জমির মালিক সানু নিজেই, তবে বাড়ির দেয়াল ভেঙে নয়।

শামমিয়া সানু বলেন, ‘দুজন ব্যক্তি আমার কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছিলেন। আমি চাঁদা না দেওয়ায় তাঁরা এলাকার লোকজন এবং সাংবাদিকদের ভুল তথ্য দিয়ে আমার বিরুদ্ধে মানববন্ধনসহ বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ করে আমার সম্মানহানি করেছেন।’

শামমিয়া সানু বলেন, ‘সড়কের উত্তর পাশে আমার ২ শতক ৬০ পয়েন্ট জমি রয়েছে; যা পারিবারিক বিরোধের কারণে অন্যের দখল হয়ে আছে। বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন। আদালতে অভিযুক্তরা হাজির হয়ে জমি ছেড়ে দেওয়ার অঙ্গীকার করলেও তাঁর দখল ছাড়ছেন না।’

এদিকে শামমিয়া সানুর চাচাতো ভাই অরুন সরকারের অভিযোগ, ‘তথ্য গোপন করে তাঁদের পারিবারিক এজমালি সম্পত্তি থেকে মফিজুল ইসলামের সঙ্গে সানু মেম্বার আমার এবং তাঁর ভাই খালেক সরকারের বাড়ির সামনের সাড়ে ৪ শতক জমি বিনিময় দলিল করে সমস্যা সৃষ্টি করেছেন। ওই ঘটনায় আমাদের দুই পরিবারের নারী-পুরুষসহ ৯ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে মামলা করেছেন।’

স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রবাসী সুলতান আহমেদসহ কয়েকজন অভিযোগ করেন, সানু মেম্বারের বাড়ির দেয়াল ভেঙে দিলে সড়কটি সোজা ও সুন্দর করা সম্ভব। দেয়াল না ভাঙায় উন্নয়নকাজ ব্যাহত হচ্ছে।

সড়ক সংস্কারে নিয়োজিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘খান এন্টার প্রাইজ লিমিটেড’-এর স্বত্বাধিকারী মো. সফিউল্লাহ বলেন, ‘জয়পুর সড়ক সংস্কারকাজটি ১০ ফুট প্রশস্ত ও ৮৩৭ মিটার দৈর্ঘ্য। প্রাক্কলন ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। সড়ক সংস্কারের জন্য প্রয়োজনীয় জায়গা রয়েছে, স্থানীয় কিছু লোক আমার ওপর চাপ প্রয়োগ করছেন, সানু মেম্বারের বাড়ির দেয়াল ভেঙে সোজা করে সড়ক সংস্কার করতে। তবে জমি নিয়ে আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকায় হস্তক্ষেপ করতে পারছি না।’

দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাকিবুল ইসলাম জানান, পারিবারিক বিরোধের কারণেই সড়ক সংস্কারকাজ আটকে আছে। জমিসংক্রান্ত বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন এবং বিতর্কিত জায়গাটি খাসজমি নয়, ব্যক্তিমালিকানাধীন। জমির মালিক ও স্থানীয়রা সমঝোতায় গেলে সড়ক সংস্কারে কোনো সমস্যা থাকার কথা নয়।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত