Ajker Patrika

পদ্মা অয়েলের সিবিএ নেতার ৩ বছরের দণ্ড, পৌনে ৩ কোটি টাকা জরিমানা

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
পদ্মা অয়েলের সিবিএ নেতার ৩ বছরের দণ্ড, পৌনে ৩ কোটি টাকা জরিমানা

পদ্মা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের ক্লারিকাল সুপারভাইজার ও সিবিএর সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নাছির উদ্দিনকে (৫৭) তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে ২ কোটি ৭৩ লাখ ৬১ হাজার ৬৭৩ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম মহানগর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মিজানুর রহমান এ রায় দেন।

আজ সোমবার বিষয়টি নিশ্চিত করেন দুদক চট্টগ্রামের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ কবির হোসেন। তিনি বলেন, রায় ঘোষণার সময় আদালতে অনুপস্থিত থাকায় সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি হিসেবে গণ্য করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় তাঁকে এ দণ্ড ও জরিমানা করা হয়েছে।

দুদক আইনজীবী আরও বলেন, এ মামলায় আগে কোনো কারাভোগ করে থাকলে তা সাজার মেয়াদ থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মামলায় জব্দ করা সব আলামত রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত ঘোষণা করে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে মালখানার ইনচার্জকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

আদালতের রায়ে উল্লেখ করা হয়, দুদক আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ধারায় নাছির উদ্দিনকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং ২৭(১) ধারায় তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২ কোটি ৭২ লাখ ৬১ হাজার ৬৭৩ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাঁকে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। তবে দুই ধারার সাজা একসঙ্গে কার্যকর হবে।

মামলার নথি ও দুদক থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে, ১৯৮৬ সালে মাত্র ২৩০ টাকা মূল বেতনে পদ্মা অয়েল কোম্পানিতে পিয়ন বা অফিস সহায়ক হিসেবে চাকরি শুরু করেছিলেন নাছির উদ্দিন। পরে ট্যাংক লরি হেলপার থেকে চেকার, এরপর ক্লারিকাল সুপারভাইজার পদে পদোন্নতি পান তিনি। পরবর্তী সময়ে শ্রমিক ইউনিয়ন ও সিবিএর সাধারণ সম্পাদকের পদে দায়িত্ব পালন করেন নাছির উদ্দিন। দুদকের অভিযোগ, এসব পদ ও প্রভাব কাজে লাগিয়ে তিনি বিপুল অবৈধ সম্পদ গড়ে তোলেন। চট্টগ্রামের বিভিন্ন অভিজাত এলাকায় বাড়ি, গাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানসহ তাঁর বিপুল সম্পদের তথ্য অনুসন্ধানে উঠে আসে।

২০১৯ সালের ১২ মে দুদকে সম্পদের বিবরণী জমা দেন নাছির উদ্দিন। সেখানে তিনি ১ কোটি ৩০ লাখ টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের তথ্য দেন।

পরে দুদকের অনুসন্ধানে তাঁর ২ কোটি ১১ লাখ ৭১ হাজার ১৩০ টাকার সম্পদের তথ্য গোপনের তথ্য পাওয়া যায়। একই সঙ্গে ২ কোটি ৫৬ লাখ ২৮ হাজার ৮৬ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের তথ্যও পাওয়া যায়। এই অবস্থায় ২০২৩ সালে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-১-এর এক উপসহকারী পরিচালক বাদী হয়ে নাছির উদ্দিনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত