
রাজধানী ঢাকার পল্লবীতে যুবদল নেতা গোলাম কিবরিয়াকে গুলি করে হত্যার নেপথ্যে বেশ কয়েকটি বিষয় বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত করছে পুলিশ। এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের পাশাপাশি এতে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের হাতও থাকতে পারে। প্রতিপক্ষ দীর্ঘ পরিকল্পনা করে ভাড়াটে খুনি দিয়ে কিবরিয়াকে হত্যা করেছে বলে তথ্য পেয়েছে পুলিশ।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট ও স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা যায়, পল্লবী এলাকায় মফিজুর রহমান ওরফে মামুন নামে এক শীর্ষ সন্ত্রাসী এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ, আবাসন ও পরিবহন ব্যবসায় চাঁদাবাজিতে তাঁর লোকজনকে সুযোগ দেওয়া নিয়ে বিরোধ বাঁধে। এসব বিষয়ে কিবরিয়া কোনো সাড়া না দেওয়ায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন মামুন।
কিবরিয়া হত্যার ঘটনা তদন্তে যুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা ও স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে, এলাকায় মাদক নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দ্বন্দ্ব রয়েছে। আর এর পেছনে ওই এলাকার এক শীর্ষ সন্ত্রাসীসহ মাদক কারবারি ও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা জড়িত। তাঁকে আগে থেকেই টার্গেট করে সন্ত্রাসীদের দিয়ে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।
গোলাম কিবরিয়া ছিলেন পল্লবী থানা জাতীয়তাবাদী যুবদলের সদস্যসচিব ছিলেন। পাশাপাশি তিনি চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহের ব্যবসা করতেন।
ঘটনার বিষয়ে তদন্ত সংশ্লিষ্ট ও স্থানীয়রা জানান, মিরপুর ১২ নম্বর সেকশনের সি ব্লকের ৫ নম্বর রোডে বন্ধু মাসুদ রানার বিক্রমপুর হার্ডওয়্যার অ্যান্ড স্যানিটারি দোকানে প্রায়ই আড্ডা দিতেন কিবরিয়া। গত সোমবার (১৭ নভেম্বর) সন্ধ্যায় তিনি ওই দোকানে অবস্থান করছিলেন। এ সময় দুটি মোটরসাইকেলে করে ছয়জন ব্যক্তি আসে। তাদের মধ্যে মো. জনি ভূঁইয়া, রোকন ও সোহাগ ওরফে কাল্লু দোকানের ভেতরে ঢোকেন। একজনের পরনে পাঞ্জাবি ও দু’জনের গায়ে শার্ট ছিল। প্রত্যেকের মাথায় হেলমেট ও মুখে মাস্ক ছিল। বাকি তিনজন বাইরে অপেক্ষা করেন। ভেতরে প্রবেশ করা তিনজনেই একের পর এক কিবরিয়াকে গুলি করলে মুহূর্তেই তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। হত্যায় অংশ নেওয়া তিনজন গুলি করে দ্রুত বেরিয়ে বাইরে থাকা ব্যক্তিদের মোটরসাইকেলে ওঠেন। এ সময় জনি মোটরসাইকেলে উঠতে না পারায় এক অটোরিকশায় উঠে চালককে দ্রুত যেতে বলেন। চালক আরিফ হোসেন যেতে না চাওয়ায় তাঁকেও গুলি করেন জনি। স্থানীয় লোকজন জনিকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, কিবরিয়াকে হত্যা করতে জনি ভূঁইয়াসহ কয়েকজনকে আগে থেকেই ভাড়া করা হয়। হত্যায় সরাসরি অংশ নেওয়া অপর দু’জনকেও শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
সরেজমিনে গতকাল মঙ্গলবার ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, মিরপুর ১২ নম্বর সেকশনের সি ব্লকের ৫ নম্বর রোডে মোড়ের পাশেই কিবরিয়ার বন্ধু মাসুদ রানার বিক্রমপুর হার্ডওয়্যার অ্যান্ড স্যানিটারি দোকান। তবে এই দোকানসহ আশপাশের বেশ কয়েকটি দোকান বন্ধ।
স্থানীয়রা বলেন, হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়া সবাই বিদেশ পলাতক মিরপুরের চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ী মফিজুর রহমান ওরফে মামুনের লোক। নাম আসা পাঁচজনই মিরপুর, পল্লবী, বাউনিয়া বাঁধসহ সংশ্লিষ্ট এলাকায় মাদক, চাঁদাবাজি ও নানা অপকর্মে লিপ্ত। এই পাঁচজন মূলত মামুনের অনুসারী।
জানা যায়, মামুনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, খুন, মাদক, অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার ও ডাকাতির অভিযোগে পল্লবী থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। পুলিশ জানায়, তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও সাজা পরোয়ানা রয়েছে। একটি মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত মামুনকে ২০২১ সালে পল্লবী থেকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। পরে জামিনে মুক্ত হয়ে তিনি মালয়েশিয়ায় পালিয়ে যান।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মামুনের সঙ্গে গার্মেন্টস ব্যবসা ও যুবদলের কমিটি নিয়ে কিবরিয়ার বিরোধ ছিল। ঘটনার দশ-বারো দিন আগে মামুন পল্লবী থানা যুবদলের কমিটিতে নিজের লোকদের পদ দিতে ও মিরপুর-৭ নম্বরের ডেকো গার্মেন্টসের নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকেন। এসব নিয়েই তাঁদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এরই জেরে খুন হয়েছেন যুবদল নেতা কিবরিয়া।
গতকাল পল্লবীতে কিবরিয়ার বাড়ির সামনে কথা হয় কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের এক নেতার সঙ্গে। তিনি আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘যারা হত্যা করেছে তারা চিহ্নিত মাদক কারবারি। এলাকায় মাদক ব্যবসায় বাধা দেওয়ায় কিবরিয়াকে হত্যা করা হয়েছে।’
কিবরিয়ার বন্ধু মাসুদ রানা আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে সবার সঙ্গে কিবরিয়ার সুসম্পর্ক ছিল। তবে কিছুটা চাপা স্বভাবের। তাই কারওর সঙ্গে শত্রুতা রয়েছে কিনা তা আমরা জানতাম না।’
গতকাল শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে বিকেল মিরপুর ১২ নম্বর সেকশনের ১ নম্বর লেনে নিজ বাড়িতে গোলাম কিবরিয়ার মরদেহ নেওয়া হয়। সেখানে ছোট ভাই গোলাম কবির আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আমার ভাই এলাকার সবার সঙ্গে ভালো ব্যবহার করতেন। এলাকায় তার বেশ পরিচিতি। এই পরিচিতও তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের জন্য ঈর্ষার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তদন্তে বিষয়গুলো দ্রুতই বেরিয়ে আসবে।’
এদিকে এই ঘটনায় গতকাল বিকেলে ডিএমপির পল্লবী থানায় নিহত কিবরিয়ার স্ত্রী সাবিহা আক্তার দিনা বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা করেছেন। মামলায় আসামি হিসেবে জনিসহ পাঁচজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। আসামিরা হলেন, মো. জনি ভূঁইয়া (২৫), সোহেল ওরফে পাত্তা সোহেল ওরফে মনির হোসেন (৩০), সোহাগ ওরফে কালু (২৭), মাসুম ওরফে ভাগিনা মাসুম (২৮) ও রোকন (৩০)। এ ছাড়া অজ্ঞাত পরিচয় আরও সাত-আটজন এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। মামলাটি তদন্ত করছে পল্লবী থানা-পুলিশ।
মামলার তদন্তের বিষয়ে ডিএমপির মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ মাকছুদের রহমান আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আটক জনি ভূঁইয়া যুবদল নেতা কিবরিয়া হত্যায় সরাসরি অংশ নেওয়ার কথা স্বীকার করেছে। হত্যার পেছনে মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন বিষয়ই তথ্য পাচ্ছি। তবে সবগুলো বিষয় আমলে নিয়েই আমরা তদন্ত করছি। আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে হত্যার পেছনে কারণ বের করার চেষ্টা করছি।’

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদী তলদেশের টানেল সংযোগ সড়কের জন্য অধিগ্রহণ করা ৩৫০ বছরের পুরোনো একটি কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ ও কবরস্থান আইন অনুযায়ী স্থানান্তর ও পুনর্নির্মাণের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সড়ক ও জনপথ (সওজ) কর্তৃপক্ষকে জমি বরাদ্দ ও স্থাপনাটি পুনর্নির্মাণের আদেশ দিয়ে এই রায় ঘোষণা করা হয়...
৫ মিনিট আগে
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ার চান্দলা করিম বক্স হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজে এইচএসসি প্রথম বর্ষের ভর্তি ফরমে শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি, ‘মুজিব শতবর্ষ’ লোগো এবং বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের রাজনৈতিক স্লোগান ও লোগো ব্যবহার করে ভর্তি কার্যক্রম চালানোর অভিযোগ উঠেছে।
৮ মিনিট আগে
মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত একটি আন্তর্জাতিক রোবোটিকস প্রতিযোগিতায় তথ্যপ্রযুক্তি ও রোবোটিকস ক্যাটাগরিতে প্রথম স্থান অধিকার করে স্বর্ণপদক জয় করেছে বাংলাদেশের দুই শিক্ষার্থী। বিজয়ী দুই উদ্ভাবক চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. সামিউ ইমাম স্পর্শ...
৩৯ মিনিট আগে
খুলনা নগরীতে মনি খান নামে এক বিউটিশিয়ানের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সোনাডাঙ্গা থানা-পুলিশ নগরীর করিমনগর মসজিদ লেনের একটি বাসা থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে। তিনি হোসাইন রশিদ খানের স্ত্রী।
৪১ মিনিট আগে