Ajker Patrika

নেত্রকোনায় অবৈধ নিয়োগে সরকারি কলেজের প্রভাষক হওয়ার অভিযোগ

নেত্রকোনা প্রতিনিধি
নেত্রকোনায় অবৈধ নিয়োগে সরকারি কলেজের প্রভাষক হওয়ার অভিযোগ
মোহাম্মদ আবু সায়েম। ছবি: সংগৃহীত

নেত্রকোনা সরকারি কলেজের দর্শন বিভাগের প্রভাষক মোহাম্মদ আবু সায়েমের নিয়োগের বৈধতা নিয়ে অভিযোগ করেছেন এক ব্যক্তি। জেলা প্রশাসক, শিক্ষা সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের মহাপরিচালকসহ বিভিন্ন দপ্তরে গত ১১ সেপ্টেম্বর এসব অভিযোগ দেওয়া হয়।

আজ বুধবার জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান অভিযোগ প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। অভিযোগকারী তাঁর লিখিত অভিযোগে নিজের পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক বলে উল্লেখ করেছেন। তবে তিনিও একজন প্রভাষক বলে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে।

অভিযোগ ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র সূত্রে জানা গেছে, আবু সায়েম ২০০৭ সালে জেলার মদন উপজেলার হাজী আব্দুল আজিজ খান ডিগ্রি কলেজে দর্শন বিভাগে প্রভাষক পদে বেসরকারিভাবে নিয়োগ পান। ওই নিয়োগে লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হয়নি, শুধু মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হয়েছিল। মৌখিক পরীক্ষায় দর্শন বিভাগের একমাত্র প্রার্থী ছিলেন আবু সায়েম।

অভিযোগকারীর দাবি, একটি পদের বিপরীতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক প্রার্থী উপস্থিত না থাকলে বাছাই প্রক্রিয়া প্রতিযোগিতামূলক হয় না। ওই নিয়োগের ক্ষেত্রে একটি পদের বিপরীতে একজন প্রার্থী উপস্থিত হওয়ায় প্রতিযোগিতামূলক বাছাইয়ের শর্ত পূরণ হয়নি। এতে বিধি অনুযায়ী আবু সায়েমের নিয়োগ বৈধ হয়নি। পরে ২০১৩ সালে কলেজটি জাতীয়করণ হলে আত্তীকরণের মাধ্যমে সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে বিধি অনুসরণ করা হয়নি। এরপর আবু সায়েম নেত্রকোনা সরকারি মহিলা কলেজে বদলি হয়ে যান। বর্তমানে তিনি নেত্রকোনা সরকারি কলেজে কর্মরত আছেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, বেসরকারি নিয়োগটি যদি বিধিসম্মত না হয়, তাহলে পরবর্তী আত্তীকরণের মাধ্যমে সরকারি নিয়োগের বৈধতাও প্রশ্নবিদ্ধ হয়। এ কারণে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই করে তাঁর বেসরকারি ও সরকারি নিয়োগের বৈধতা নির্ধারণ এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারী।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সরকারি হাজী আব্দুল আজিজ খান ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ আব্দুল হক বলেন, ‘২০০৭ সালে আবু সায়েমসহ দুজন প্রভাষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। ওই নিয়োগ বোর্ডে আমি ও তৎকালীন নেত্রকোনা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ উপস্থিত ছিলেন। তখন প্রত্যেক পদের বিপরীতে নির্দিষ্ট সংখ্যক প্রার্থী উপস্থিত ছিলেন। প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক পরীক্ষায় তাঁরা উত্তীর্ণ হয়েছিলেন। ওই নিয়োগে নিয়মের ব্যত্যয় ঘটেনি।’

তবে এ বিষয়ে ভিন্ন তথ্য দিয়েছেন প্রভাষক মোহাম্মদ আবু সায়েম। তিনি বলেন, ‘দুটি পদের বিপরীতে ১৩ জন প্রার্থীর আবেদন জমা পড়েছিল। এর মধ্যে ১১ জনই লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেননি। আমি ও অপর একজন উত্তীর্ণ হয়ে মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিই। যদিও প্রতি পদের বিপরীতে তিনজন প্রার্থী থাকার কথা। তবে মাউশি মহাপরিচালকের কাছ থেকে অনুমোদন করিয়ে এনে পরে আমাদের নিয়োগ দেওয়া হয়। তাই নিয়মের কোনো হেরফের হয়নি। প্রতিহিংসা থেকে পরিচিত একজন এমন অভিযোগ করেছেন।’

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান বলেন, ‘অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করা হবে। দ্রুতই অভিযোগটি তদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে বলব।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত