Ajker Patrika

বাড়ির আঙিনায় বস্তায় আদা চাষ, লাভের স্বপ্ন ব্রাহ্মণপাড়ার কৃষকদের

মো. আনোয়ারুল ইসলাম, ব্রাহ্মণপাড়া (কুমিল্লা) 
বাড়ির আঙিনায় বস্তায় আদা চাষ, লাভের স্বপ্ন ব্রাহ্মণপাড়ার কৃষকদের
মাধবপুর গ্রামের কৃষাণী আয়শা আক্তার এবারই প্রথম বস্তায় আদা চাষ করেছেন। ছবি: আজকের পত্রিকা

বাড়ির আঙিনা, ফলবাগানের নিচে কিংবা পড়ে থাকা পরিত্যক্ত জায়গা—এসব জায়গাতেই বস্তায় আদা চাষ করে লাভের স্বপ্ন দেখছেন কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ার কৃষকেরা। অল্প খরচে ও কম জায়গায় ভালো ফলন পাওয়ার সম্ভাবনা থাকায় নতুন এ পদ্ধতিতে তাঁদের আগ্রহ বাড়ছে। কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও সহায়তায় ইতিমধ্যে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বস্তা ও জিও ব্যাগে আদা চাষ ছড়িয়ে পড়েছে।

উপজেলার মাধবপুর, মিরপুর, মহালক্ষীপাড়া, বেজুরা, শশীদল, আশাবাড়ি ও চান্দলাসহ বিভিন্ন এলাকায় বাড়ির আঙিনা ও পরিত্যক্ত জায়গায় বস্তা কিংবা জিও ব্যাগে আদা চাষ করেছেন কিষক-কৃষাণীরা। তাঁদের অনেকের লক্ষ্য, নিজেদের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বাড়তি আদা বাজারে বিক্রি করে আয় করা।

কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, আলোছায়াঘেরা উঁচু জমি কিংবা বাগানের নিচের অংশ আদা চাষের জন্য উপযোগী। এ পদ্ধতিতে বড় কোনো জমির প্রয়োজন হয় না। বাড়ির আঙিনা বা অল্প জায়গায় বস্তা বসিয়েই চাষ করা যায়। প্রতিটি বস্তায় মাত্র ৫০ গ্রাম বীজ রোপণ করে ২ থেকে ৩ কেজি পর্যন্ত আদা পাওয়া সম্ভব। ফলে পারিবারিক চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বাড়তি আদা বিক্রি করে আয় করার সুযোগ রয়েছে।

মাধবপুর গ্রামের কৃষাণী আয়শা আক্তার এবারই প্রথম বস্তায় আদা চাষ করেছেন। তিনি বলেন, উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শে ৫০টি বস্তায় আদা চাষ করেছি। আগে ওই জায়গায় কোনো চাষাবাদ করতাম না। এবার গাছের অবস্থা ভালো। ফলন ভালো হলে লাভবান হওয়ার আশা করছি। লাভ হলে আগামী বছর আরও বেশি বস্তায় আদা চাষ করব।

মিরপুর গ্রামের কৃষাণী শরিফা বেগম বিভিন্ন মৌসুমি সবজি চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। এ বছর কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে নতুন করে আদা চাষ শুরু করেছেন তিনি। শরিফা বেগম জানান, বস্তায় আদা চাষ করে ভালো লাভ করা সম্ভব বলে তিনি মনে করছেন। তাঁর আদার বাগান দেখে এলাকার অন্য কৃষকেরাও এ পদ্ধতিতে চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। আগামীতে এলাকায় আদা চাষ আরও বাড়বে বলে আশা তাঁর।

মহালক্ষীপাড়া গ্রামের কৃষক মো. কুদ্দুছ মিয়া বলেন, তাঁদের এলাকায় আগে আদা চাষের তেমন প্রচলন ছিল না। কৃষি অফিস থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে প্রদর্শনী হিসেবে ৫০টি বস্তায় আদা চাষ করেছেন তিনি। বাড়ির ফলবাগানের নিচের ছায়াযুক্ত জায়গায় এসব বস্তা রাখা হয়েছে। প্রতি বস্তায় খরচ হয়েছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা। ফলন ভালো হলে এ চাষে লাভের মুখ দেখবেন বলে আশা করছেন তিনি।

উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোসা. তানিয়া আক্তার বলেন, বস্তায় আদা চাষ তুলনামূলক সহজ এবং খরচও কম। কৃষকদের বীজ, সার ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহের পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে গিয়ে নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কখন পানি দিতে হবে, কীভাবে সার প্রয়োগ করতে হবে এবং রোগ-পোকা নিয়ন্ত্রণের উপায়—এসব বিষয়ে কৃষকদের সরাসরি সহায়তা করা হচ্ছে। প্রথমবার এ পদ্ধতিতে চাষ করে অনেক কৃষক গাছের বৃদ্ধি দেখে উৎসাহিত হয়েছেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আব্দুল মতিন বলেন, ব্রাহ্মণপাড়ায় আগে আদা চাষের তেমন প্রচলন ছিল না। মসলার উন্নত জাত ও প্রযুক্তির সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের বিনা মূল্যে বীজ, সার ও বস্তা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তাঁদের কারিগরি সহায়তাও দেওয়া হচ্ছে।

আব্দুল মতিন বলেন, এ বছর উপজেলায় ৯ হেক্টর জমিতে আদা আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ১০ হেক্টর জমিতে আদা আবাদ হয়েছে। দিন দিন এ উপজেলায় আদা চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। ২৩ জন কৃষককে ৫০টি করে মোট ১ হাজার ১৫০টি জিও ব্যাগে আদা চাষের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এতে কৃষকেরা উৎসাহ নিয়ে চাষাবাদ করেছেন।

কৃষকদের ভাষ্য, অব্যবহৃত জায়গাকে কাজে লাগিয়ে বস্তায় আদা চাষে পরিবারের মসলার চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে। তাই বাড়ির আঙিনা ও পরিত্যক্ত জায়গা কাজে লাগিয়ে কম খরচে এ চাষে যুক্ত হচ্ছেন আরও অনেকে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত