Ajker Patrika

সরকারি চাকরির ভাইভায় নম্বর বাড়ানোর প্রতিবাদে ডাকসুর বিক্ষোভ

ঢাবি প্রতিনিধি
সরকারি চাকরির ভাইভায় নম্বর বাড়ানোর প্রতিবাদে ডাকসুর বিক্ষোভ
সরকারি চাকরির ভাইভায় নম্বর বাড়ানোর প্রতিবাদে ডাকসুর বিক্ষোভ মিছিল । ছবি: আজকের পত্রিকা

সরকারি চাকরির ১১–২০ গ্রেডের নিয়োগের লিখিত পরীক্ষার নম্বর কমিয়ে মৌখিক পরীক্ষায় (ভাইভা) নম্বর বাড়ানোর প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) নেতারা।

আজ মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়ে ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ পথগুলো প্রদক্ষিণ করে ডাকসু ভবনের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় ডাকসুর তাঁরা ‘ভাইভার নামে প্রহসন, রুখে দাও জনগণ’, ‘নব্য কোটার নাম কী, ভাইভা ছাড়া আর কী’, ‘দিকে দিকে খবর দে, ভাইভা কোটার কবর দে’, ‘চাকরি নিয়ে বাণিজ্য, চলবে না, চলবে না’, ‘নিয়োগ নিয়ে বাণিজ্য চলবে না, চলবে না’ ইত্যাদি স্লোগান দেন।

বিক্ষোভ সমাবেশে ডাকসুর পরিবহন সম্পাদক আসিফ আবদুল্লাহ বলেন, ক্ষমতায় আসার পর ছয়-সাত মাসে সরকারের বিভিন্ন ব্যর্থতা রয়েছে। জ্বালানি তেলের দাম নিয়ন্ত্রণ, গ্রামাঞ্চলসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সংযোগ নিশ্চিত করতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, ‘বিএনপির সংসদ সদস্যরা বলতে শুরু করেছেন, “রিটেনটা কোনোভাবে পাস করো, ভাইভাতে আমরাই দেখছি।” তার মানে হলো, বিএনপি সরকার আপনাদের জন্য ভাইভা কার্ড করেছে। এই ভাইভা কার্ড পাওয়ার মাধ্যমে আপনাদের আর মেধা লাগবে না। এই কার্ডের মাধ্যমে টাকা, ঘুষ, চাঁদা, মামা-খালু এবং আত্মীয়স্বজনের পরিচয়ে এখন থেকে আপনাদের চাকরি দেওয়া হবে।’

সাদিক কায়েম আরও বলেন, ‘দেশে ২৭ লাখ বেকার আছে। তাঁদের পেটে বিএনপি সরকার লাথি মারবে। আমরা বিএনপি সরকারের ইতিহাস দেখেছি। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত সীমাহীন স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতি ও নিয়োগ-বাণিজ্যের মাধ্যমে তারা দেশের মেধাকে ধ্বংস করেছিল।’

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘এটা কি আপনার পরিকল্পনা? যার মাধ্যমে আপনি ভাইভা কার্ড প্রচলন করতে চান? ১৭ বছর যারা বঞ্চিত ছিলেন, সেই বঞ্চনার প্রতিশোধ কি বেকার যুবকদের পেটে লাথি মেরে নেওয়া হবে? স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতি ও নিয়োগ-বাণিজ্যের মাধ্যমে কি আপনার নেতা-কর্মীদের পেট ভরাতে চান? এই পরিকল্পনা আমরা ব্যর্থ করে দেব, ইনশা আল্লাহ।’

সাদিক কায়েম আরও বলেন, ‘দ্রুত সময়ের মধ্যে কোটা কার্ড বাতিল করুন। যদি তা না করেন, বাংলাদেশে জুলাই বিপ্লবে এ দেশের ছাত্রসমাজ যেভাবে রাজপথে নেমেছিল, তার চেয়ে আরও শক্তিশালীভাবে বাংলাদেশের প্রতিটি ক্যাম্পাসে, প্রত্যেকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই কোটা কার্ডের বিরুদ্ধে, এই ভাইভা কার্ডের বিরুদ্ধে আমরা রাজপথে নামব, ইনশা আল্লাহ।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত