Ajker Patrika

পাবনার ঈশ্বরদী: রূপপুরে পর্যটনের সম্ভাবনা

­­শাহীন রহমান, পাবনা
পাবনার ঈশ্বরদী: রূপপুরে পর্যটনের সম্ভাবনা
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাছে দর্শনার্থীরা। ছবি: আজকের পত্রিকা

পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ঘিরে পাকশীতে নতুন পর্যটন সম্ভাবনার দুয়ার খুলেছে। ঐতিহাসিক হার্ডিঞ্জ ব্রিজ, লালন শাহ সেতু, পদ্মা নদীর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তির এই মেগা প্রকল্পের সমন্বয় পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়িয়ে তুলেছে। ছুটির দিনগুলোতে ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশী ইউনিয়নে দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়ছে।

পাকশীর রূপপুর গোলচত্বর থেকে পশ্চিম দিকে লালন শাহ সেতু ও হার্ডিঞ্জ ব্রিজের দিকে যেতে প্রথমেই চোখে পড়বে দেশের মেগা প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। এরপর পদ্মা নদীর ওপর নির্মিত শতবর্ষের ঐতিহ্যবাহী হার্ডিঞ্জ ব্রিজ, পাশেই লালন শাহ সেতু, পাকশী রেলওয়ে স্টেশন আর ট্রেনের ঝমঝম শব্দ মিলে তৈরি হয় অন্য রকম আবহ। সন্ধ্যায় ফেরার পথে ঝলমলে আলোর রূপপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্রের চুল্লি দেখে মুগ্ধ হবেন যে কেউ। সব মিলিয়ে পাকশীতে রয়েছে পর্যটনের অপার সম্ভাবনা। সরকার পদক্ষেপ নিলে গড়ে উঠতে পারে একটি আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র। এতে একদিকে দূরদূরান্তের দর্শনার্থীরা যেমন আসতে আগ্রহী হবেন, অন্যদিকে সরকারও রাজস্ব আয় করতে পারবে। পাকশী ঘিরে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তুলতে উদ্যোগ নেবে সরকার এমনটাই প্রত্যাশা মানুষের।

গত শুক্রবার বিকেলে পাকশী হার্ডিঞ্জ ব্রিজের নিচে গিয়ে দেখা যায়, হাজারো দর্শনার্থী ও ভ্রমণপিপাসুদের উপচে পড়া ভিড়। কেউ এসেছেন পরিবার নিয়ে, কেউবা বন্ধুবান্ধব নিয়ে। বন্ধুদের নিয়ে বেড়াতে আসা শাকিল হোসেন বলেন, ‘এখন এই জায়গাটি বেড়ানোর মতো সুন্দর জায়গা হয়েছে। বিশেষ করে ছুটির দিনে আমরা এখানে আসি বেড়াতে, ছবি তুলি, খুব ভালো লাগে।’

আরেক দর্শনার্থী খাইরুল ইসলাম বলেন, ‘পাবনায় আসলে পরিবার নিয়ে বেড়ানোর মতো তেমন সুন্দর জায়গা নেই। পাকশী এলাকাটা মন্দের ভালো। আর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র হওয়ার পর আরও বেশি আকর্ষণ বেড়েছে। তাই স্ত্রী-সন্তান নিয়ে মাঝেমধ্যে এখানে বেড়াতে আসি।’

ঢাকা থেকে অফিসের কাজে এসে পাকশী ঘুরে দেখতে বের হয়েছেন সরকারি চাকরিজীবী আশিক হাসান। তিনি বলেন, ‘অফিশিয়াল কাজে ঈশ্বরদীতে এসেছি। ছুটির দিন হওয়ায় ঘুরতে বেরিয়েছি। পাকশীর কথা শুনে এসে দেখলাম বেশ ভালো পরিবেশ ও সুন্দর জায়গা। পর্যটন কেন্দ্র হলে ভালো হবে।’

পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশী ইউনিয়নে লালন শাহ সেতু ও হার্ডিঞ্জ ব্রিজ এলাকায় দর্শনার্থীরা। গত শুক্রবার বিকেলে।	 ছবি: আজকের পত্রিকা
পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশী ইউনিয়নে লালন শাহ সেতু ও হার্ডিঞ্জ ব্রিজ এলাকায় দর্শনার্থীরা। গত শুক্রবার বিকেলে। ছবি: আজকের পত্রিকা

তবে এখানে রয়েছে বেশকিছু সমস্যাও। বেড়াতে আসা ভ্রমণপিপাসু দর্শনার্থীরা জানান, হার্ডিঞ্জ ব্রিজের নিচে পদ্মা নদীর কাছে নামার সড়কটি বেহাল। রয়েছে পাবলিক টয়লেট, বিশ্রামাগার ও নিরাপত্তার অভাব। এসব সমস্যা সমাধানের দাবি জানান তাঁরা।

জিনিয়া খাতুন নামের গৃহবধূ বলেন, ‘জায়গাটা সুন্দর। তবে পদ্মার পাড়ে নামার মতো ভালো রাস্তা নেই। পাবলিক টয়লেট নেই। নিরাপত্তারও অভাব আছে বলে মনে হয়। এসব সমস্যা সমাধান করা গেলে ভালো হয়।’

কলেজের প্রভাষক আরিফ আহমেদ বলেন, এই জায়গাটি ঘিরে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার অপার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। সরকার যদি এটা নিয়ে পরিকল্পনা করে, পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলে তাহলে সাধারণ মানুষ একটু বেড়ানোর পরিবেশ পেত। সেই সঙ্গে এখান থেকে সরকারও ভালো রাজস্ব আয় করতে পারে।

এ বিষয়ে পাবনার জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, একটি পর্যটন কেন্দ্র করতে যে বাজেট দরকার, তা স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষে করা সম্ভব নয়। এ জন্য পাবনাবাসীর যদি জোরালো দাবি ওঠে, তাহলে পর্যটন মন্ত্রণালয়কে জানিয়ে তাদের মাধ্যমে একটি পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলা সম্ভব।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত