Ajker Patrika

সাভার

ফুটপাতের দোকান থেকে দিনে লাখ টাকার চাঁদা

  • বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ফুটপাতজুড়ে ভাসমান দোকান।
  • দোকানভেদে দৈনিক ১০০-৩০০ টাকা করে চাঁদা আদায়।
  • সব মিলিয়ে এর পরিমাণ দাঁড়ায় ৪-৬ লাখ টাকা।
  • ফুটপাত হকারদের দখলে থাকায় সড়কে পথচারীরা।
  • ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি।
অরূপ রায়, সাভার 
ফুটপাতের দোকান থেকে দিনে লাখ টাকার চাঁদা
ফুটপাত দখল করে গড়ে উঠেছে নানা দোকানপাট। অবৈধ এসব দোকানপাটের কারণে সাধারণ মানুষের হাঁটাচলার পথ সংকুচিত হয়ে পড়েছে। সম্প্রতি সাভার বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে তোলা। ছবি: আজকের পত্রিকা

ফুটপাত আর সংলগ্ন সড়কজুড়ে সারি সারি দোকান। ফল, পোশাক, মোবাইল সামগ্রীসহ হরেক রকম পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেন দোকানিরা। হকারদের কবল থেকে মুক্তি নেই পদচারী-সেতুতেও। এই চিত্র সাভারের বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ড এলাকার। রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় এসব ভাসমান দোকান থেকে প্রতিদিন কয়েক লাখ টাকা চাঁদা আদায় করা হয়। আর এর খেসারত দিতে হয় পথচারী এবং বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রীদের।

ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের সাভার বাসস্ট্যান্ড, গেন্ডা, হেমায়েতপুর, নবীনগর এবং নবীনগর-চন্দ্রা সড়কের আশুলিয়ার পল্লী বিদ্যুৎ বাসস্ট্যান্ড (ডেন্ডাবর) এলাকায় একের পর এক ভাসমান দোকান। এগুলোর কারণে সাধারণ মানুষের হাঁটার পথ সংকুচিত হয়ে পড়েছে। ফুটপাতে জায়গা না পেয়ে ঝুঁকি নিয়ে সড়কে নেমে চলাচল করতে হয় পথচারীদের।

ফুটপাত ও পদচারী-সেতুতে পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসার বিনিময়ে নির্দিষ্ট অঙ্কের চাঁদা দিতে হলেও ভয়ে এ নিয়ে কেউ মুখ খুলতে চান না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক হকার বলেন, ‘গরিব মানুষ, পেটের দায়ে ফুটপাতে বসি। কিন্তু এ জন্য টাকা দিতে হয়। দোকানভেদে প্রতিদিন ১০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করা হয়। টাকা না দিলে তুলে দেওয়া হয়।’

নিউমার্কেট থেকে ধসে পড়া রানা প্লাজা এবং মাশরুম উন্নয়ন কেন্দ্র থেকে মনসুর মার্কেট পর্যন্ত ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের উভয় পাশে এবং ওই এলাকার চারটি পদচারী-সেতু মিলিয়ে কয়েক হাজার ভাসমান দোকান রয়েছে। স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, এসব দোকান থেকে প্রতিদিন গড়ে ৪ থেকে ৬ লাখ টাকা চাঁদা আদায় হয়।

ভাসমান দোকানের কারণে সড়কের একাংশ দখল হয়ে যাওয়ায় ঢাকা ও আরিচাগামী লোকাল লেনে তৈরি হচ্ছে যানজট, বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি। মকবুল হোসেন নামের একজন কলেজশিক্ষক বলেন, ‘ফুটপাতে হাঁটার জায়গা না পেয়ে মানুষ সড়কে নেমে আসে। আবার সড়কেও দোকান থাকে। ফলে বাসস্ট্যান্ড এলাকার বিভিন্ন মার্কেটে আসা ক্রেতারা তাঁদের ছোট ছোট যানবাহন সড়কে দাঁড় করিয়ে রাখেন। এতে করে রাস্তায় হাঁটাচলাও কঠিন হয়ে পড়ে।

সাধারণ মানুষের ভোগান্তি লাঘবে নির্বাচনের আগে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কসহ সড়কসংলগ্ন ফুটপাত হকারমুক্ত করার অঙ্গীকার করেছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। ওই প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘সাভার বাসস্ট্যান্ডসহ আমার সংসদীয় এলাকায় সড়ক-মহাসড়কের পাশের ফুটপাতে কোনো হকার বসতে পারবে না। পথচারী ও মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে শিগগির হকার উচ্ছেদে অভিযান চালানো হবে।

সাভার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় উপজেলা পশু হাসপাতাল ও প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয়। ভাসমান দোকানের কারণে অসুস্থ পশুপাখির চিকিৎসার জন্য ওই হাসপাতালে আসা লোকজনকে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মুহাম্মদ শওকত আলী বলেন, ২০২৪ সালের নির্বাচনের পর তৎকালীন সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলাম সাভার বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে হকার উচ্ছেদ করেন। তখন পথচারীরা বেশ স্বচ্ছন্দে চলাচল করেছে। এখানে আক্রান্ত পশু নিয়ে আসা লোকজনও বেশ স্বচ্ছন্দবোধ করতেন। কিন্তু রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর হকাররা আবারও ফুটপাত ও সড়কের দখল নেয়। গত দেড় বছরে প্রশাসন দুবার হকার উচ্ছেদ করেছে। কিন্তু উচ্ছেদের কয়েক ঘণ্টা পর তারা আবার বসে পড়ে। দেখে মনে হয়, এরা প্রশাসনের চেয়ে বেশি ক্ষমতাধর।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের কিছু পরিকল্পনা আছে। এগুলো স্থানীয় সংসদ সদস্য দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের কাছে তুলে ধরব। এগুলোর মধ্যে হকারদের বিষয়টিও রয়েছে।’

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

যুদ্ধ এড়াতে পরমাণু ইস্যুতে ছাড়ে প্রস্তুত, বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে যা চাইছে ইরান

নতুন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলামের পরিচয়

বিএনপির যে নেতাদের ৬ সিটিতে প্রশাসক করল সরকার

বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের কার্যালয় খোলা নিয়ে যা বললেন মির্জা ফখরুল

ভারতে পণ্ডিত ও ধনাঢ্য দুই ব্যক্তির ইসলাম গ্রহণ নয়, ঘটনা উল্টো

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত