Ajker Patrika

হাইমচর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স: চিকিৎসক সংকট, নেই অস্ত্রোপচারকক্ষ

  • ২০ জন চিকিৎসকের মধ্যে আছেন ১১ জন
  • ৭ বছরেও শেষ হয়নি অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ
মুহাম্মদ মাসুদ আলম, চাঁদপুর
আপডেট : ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০২: ১২
হাইমচর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স: চিকিৎসক সংকট, নেই অস্ত্রোপচারকক্ষ
ছবি: সংগৃহীত

জনবলসংকট, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামের ঘাটতি, অপারেশন থিয়েটার না থাকাসহ নানা সমস্যায় ধুঁকছে চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। এতে ভোগান্তিতে পড়ছে রোগীরা। হাসপাতালে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না পেয়ে তাদের জেলা শহরে যেতে হচ্ছে। এতে তাদের সময় ও অর্থ—দুটোই বেশি ব্যয় হচ্ছে। এ ছাড়া ৩১ শয্যার এই হাসপাতালকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করতে অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ সাত বছরেও শেষ হয়নি।

মেঘনাপারের উপজেলাটির প্রায় ১ লাখ ৪৪ হাজার মানুষের একমাত্র ভরসাস্থল এই হাসপাতাল। প্রতিদিন হাসপাতালের বহির্বিভাগে অন্তত ৬০০ রোগী চিকিৎসা নেয়। ৩১টি শয্যার বিপরীতে প্রতিদিন ৫০ থেকে ৫২ জন রোগী অভ্যন্তরীণ বিভাগে চিকিৎসাধীন থাকে।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এখানে অনুমোদিত ১৩১ পদের মধ্যে কর্মরত আছেন ৭৫ জন, খালি রয়েছে ৫৬টি পদ। ২০ জন চিকিৎসকের মধ্যে আছেন ১১ জন। ২০ জনের মধ্যে তিনজন কনসালট্যান্ট থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে একজনও নেই। নার্সের ৩০টি পদের মধ্যে কর্মরত ২৬ জন।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সবচেয়ে বড় সংকট হলো অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা না থাকা। হাসপাতালে অপারেশন থিয়েটার (অস্ত্রোপচারকক্ষ) না থাকায় কোনো ধরনের অস্ত্রোপচার হয় না। শুধু স্বাভাবিক প্রসব হয়। কিন্তু অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হলে প্রসূতিকে অন্য হাসপাতালে পাঠাতে হয়।

হাসপাতালে প্যাথলজি বিভাগ থাকলেও নেই এক্স-রে মেশিন। আলট্রাসনোগ্রামের ব্যবস্থাও নেই। সংশ্লিষ্ট টেকনিশিয়ানও নেই। ফলে সাধারণ পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্যও রোগীদের হাসপাতালের বাইরে যেতে হচ্ছে।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালে একতলা ভবনে ৩১ শয্যা রোগীতে পূর্ণ। আরও অনেক রোগী ও তাঁদের সঙ্গে থাকা স্বজনেরা হাসপাতালের বারান্দায় থাকছেন। এক কক্ষে ছয়জন চিকিৎসক রোগীদের চিকিৎসা দিচ্ছেন।

রোগী সেলিনা বেগমের স্বামী মনজুর মিয়া বলেন, ‘বেড খালি না থাকায় মেঝেতে থাকতে হচ্ছে।’ আরেক রোগী মহসিন মিয়া বলেন, ‘ছোটখাটো অপারেশনের জন্যও জেলা সদরে যেতে হয়।’

২০১৯ সালে ৩১ শয্যার এই হাসপাতালকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করতে অবকাঠামোগত উন্নয়নকাজ শুরু হয়। ২০২০ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে এই কাজ শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু মেয়াদ ছয় দফা বাড়ানোর পরও কাজ শেষ হয়নি। পরে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করা হয়। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে নতুন ঠিকাদারকে কাজের আদেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

হাইমচর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহমুদন্নবী মাছুম বলেন, ৫০ শয্যায় উন্নীত করার অবকাঠামোগত কাজ শেষ হলে হাসপাতালটির চিকিৎসাসেবা আরও বিস্তৃত হবে। উন্নয়নকাজ শেষ করতে দেরি হওয়ায় চিকিৎসকদের কক্ষেও রোগীদের রাখতে হচ্ছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত