Ajker Patrika

ফরিদপুরে ভোটের তর্কের জেরে হামলা ও বাড়িঘরে ভাঙচুর, আহত ১১

ফরিদপুর প্রতিনিধি
ফরিদপুরে ভোটের তর্কের জেরে হামলা ও বাড়িঘরে ভাঙচুর, আহত ১১
সালথায় হামলা ও বাড়িঘরে ভাঙচুর। ছবি: সংগৃহীত

ফরিদপুরের সালথায় ভোট দেওয়া নিয়ে তর্কের জেরে গ্রামে দুই পক্ষের মধ্যে হামলা ও বাড়িঘরে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে ফরিদপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বেলা আড়াইটার দিকে সালথা উপজেলার রামকান্তপুর ইউনিয়নের রামকান্তপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনী সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, জুমার নামাজের সময় রামকান্তপুর গ্রামের মসজিদের মধ্যে ভোট দেওয়া নিয়ে স্থানীয় কুদ্দুস তালুকদারের সমর্থকদের সঙ্গে রবিউল তালুকদারের সমর্থকদের তর্ক ও কথা-কাটাকাটি হয়। নামাজ শেষে উভয় পক্ষের সমর্থকেরা মসজিদের সামনে জড়ো হন।

একপর্যায়ে রবিউল তালুকদারের সমর্থকেরা কুদ্দুস তালুকদারের সমর্থকদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় অন্তত ছয়টি বসতবাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হয়েছে। এতে মো. ওয়াদুদ তালুকদার (৫০), টিটুল তালুকদার (৩০), মুসা কাজী (৫০), রয়েল কাজী (৩০), সোহরাব তালুকদার (৪৫), শরিফুল ইসলাম (১৬), ফরিদ তালুকদারসহ (২২) অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন।

এ ঘটনায় কুদ্দুস তালুকদারের সমর্থকেরা নিজেদের বিএনপির সমর্থক ও রবিউল তালুকদারকে ১১ দলীয় জোটের নেতা দাবি করেছেন।

সালথায় হামলা ও বাড়িঘরে ভাঙচুর। ছবি: সংগৃহীত
সালথায় হামলা ও বাড়িঘরে ভাঙচুর। ছবি: সংগৃহীত

তবে রবিউল তালুকদার নিজেকে বিএনপি কর্মী দাবি করেন। তিনি আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আমি স্থানীয়ভাবে বিএনপি নেতা আসাদ মাতুব্বরের লোক। নির্বাচনের দিনে ধানের শীষের এজেন্টও ছিলাম। কিন্তু ষড়যন্ত্রমূলকভাবে আমাকে জামায়াত জোটের নেতা বলে মিথ্যা কথা বলে বেড়াচ্ছে।’

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘আমরাও ধানের শীষের নির্বাচন করেছি, ওরাও ধানের শীষের নির্বাচন করেছে। কিন্তু গ্রাম্য পূর্বশত্রুতার জেরে গতকাল রাত ৮টায় আমার সমর্থকদের নামে রিকশায় ভোট দিয়েছি উল্লেখ করে আটকিয়ে রাখা হয়। আজ জুম্মার নামাজের পরেই কুদ্দুস তালুকদারের ছেলে বাপ্পি তালুকদারের নেতৃত্বে আমার সমর্থক হাফিজুর মৃধার ছেলে শাওন মৃধাকে হাতুড়িপেটা করে। এরপর আমার লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে পাল্টা আক্রমণ করলে এ ঘটনা ঘটে।’

এদিকে কুদ্দুস তালুকদারের মোবাইল নম্বরে কল দেওয়া হলে তিনি ফরিদপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বলে জানান। তিনি বলেন, ‘ডাক্তার আমাকে কথা বলতে নিষেধ করেছেন। এরপর কথা বলতে অপারগতা জানিয়ে কেটে দেন।’

এ বিষয়ে সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবলুর রহমান খান বলেন, তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়েছে। খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ওই এলাকার পরিবেশ শান্ত রাখতে সেনাবাহিনী ও পুলিশ মাঠে রয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত