Ajker Patrika

বিলুপ্তির পথে ঐতিহ্যবাহী ‘কুপিবাতি’

প্রতিনিধি, (ভূঞাপুর) টাঙ্গাইল
আপডেট : ২৩ মার্চ ২০২১, ১৩: ৪৮
বিলুপ্তির পথে ঐতিহ্যবাহী ‘কুপিবাতি’

বর্তমানে আমরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির যুগে বাস করছি। ফলে প্রযুক্তির সংস্পর্শে আমাদের দৈনন্দিন জীবনে পরিবর্তনের ছোঁয়া লেগেছে। আবিষ্কৃত হয়েছে বৈদ্যুতিক বাতি। শহর থেকে শুরু করে গ্রামাঞ্চলের প্রায় প্রতিটি বাড়িতে বৈদ্যুতিক বাতির ব্যবহার এখন বেড়েই চলেছে। যার ফলে কালের বিবর্তনে আবহমান গ্রামবাংলার এক সময়ের জনপ্রিয় "কুপিবাতি" হারিয়ে যেতে বসেছে।

এই কুপিবাতি এখন শুধুই স্মৃতি। গ্রামীণ জীবনে অন্ধকার দূর করার একমাত্র অবলম্বন ছিল কুপি বাতি। কুপিবাতি জ্বালিয়ে রাতে গৃহস্থালির কাজ করতেন গৃহিণীরা। রাস্তায় চলাচলসহ উঠানে কিংবা বারান্দায় অথবা ঘরে পড়াশোনা করত ছেলেমেয়েরা। 

কুপি বাতির কেরোসিন তেল আনার জন্য প্রতিটি বাড়িতেই ছিল বিশেষ ধরনের কাঁচ ও প্লাস্টিকের বোতল। সেই বোতলের গলায় রশি লাগিয়ে ঝুলিয়ে রাখা হতো বাঁশের খুঁটিতে। আধুনিক প্রযুক্তির কারণে আবহমান গ্রামবাংলার কুপি বাতি যেন গ্রাম বাংলা থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। এক সময় আবহমান গ্রামবাংলার প্রতিটি ঘরে ঘরে এই কুপিবাতি আলো দিত।

এই কুপি বাতিগুলো ছিল বিভিন্ন ডিজাইনের ও বিভিন্ন রঙের। এগুলো তৈরি হত কাঁচ, মাটি, লোহা আর পিতল দিয়ে। গ্রামবাংলার মানুষ নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী কুপিবাতি ব্যবহার করতেন। বাজারে সাধারণত দুই ধরনের কুপি পাওয়া যেত- বড় ও ছোট। বেশি আলোর প্রয়োজনে কুপিবাতিগুলো কাঠ এবং মাটির তৈরি গাছা অথবা স্ট্যান্ডের উপর রাখা হত। এই গাছা অথবা স্ট্যান্ডগুলো ছিল বিভিন্ন ডিজাইনের।

গ্রামবাংলার সেই চিরচেনা প্রয়োজনীয় কুপিবাতি আজ বিলীন হয়ে গেছে বললেই চলে। এ দৃশ্য এখন আর গ্রামীণ সমাজে চোখে পড়ে না। কালের বির্বতনে বর্তমানে কুপি বাতির পরিবর্তে স্থান করে নিয়েছে বৈদ্যুতিক বাল্ব, সোলার প্লান্ট, চার্জার লাইট, চার্জার, চার্জার ল্যাম্পসহ আরো অনেক কিছুই। এখন বিদ্যুৎ না থাকলেও গ্রামবাংলার মানুষ ব্যবহার করছে সৌর বিদ্যুৎসহ বিভিন্ন রকমের চার্জার। গ্রাম বাংলার আপামর লোকের কাছে কুপিবাতির কদর কমে গেলেও এখনও অনেকে আঁকড়ে ধরে আছেন কুপি বাতির স্মৃতি। তাই ছন্দের সুরে  বলা যায়-

"যখন তোমার কেউ ছিলো না তখন ছিলাম আমি,

এখন তোমার সব হয়েছে পর হয়েছি আমি।"

কিন্তু এখনও ভূঞাপুর উপজেলার কিছু বাড়িতে কুপির ব্যবহার চলমান রয়েছে। যদিও আগের মতো প্রতিটি বাড়িতে এখন আর এর ব্যবহার নেই।

বিষয়:

টাঙ্গাইল
Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত