Ajker Patrika

ভরা মৌসুমেও দুমকীর পায়রা-লোহালিয়া নদীতে নেই ইলিশ, খালি হাতে ফিরছেন জেলেরা

দুমকি (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি 
আপডেট : ০১ জুলাই ২০২৬, ১৭: ১২
ভরা মৌসুমেও দুমকীর পায়রা-লোহালিয়া নদীতে নেই ইলিশ, খালি হাতে ফিরছেন জেলেরা
ঘণ্টার পর ঘণ্টা জাল ফেলে রাখলেও ধরা পড়ছে না ইলিশ। ছবি: আজকের পত্রিকা

ইলিশের ভরা মৌসুমেও পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার পায়রা ও লোহালিয়া নদীতে ইলিশের সংকট। দিনভর নদীতে জাল ফেলে রেখেও কাঙ্ক্ষিত মাছ না পেয়ে অধিকাংশ জেলে খালি হাতে ঘরে ফিরছেন। এতে উপজেলার বিভিন্ন জেলে পল্লিতে হতাশা নেমে এসেছে। মাছ বিক্রির আয় না থাকায় জেলে পরিবারগুলো আর্থিক সংকট, ঋণের চাপ ও অভাব-অনটনের মধ্যে মানবেতর জীবনযাপন করছে।

উপজেলার তিন দিক বেষ্টিত পায়রা ও লোহালিয়া নদী দীর্ঘদিন ধরে ইলিশ আহরণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। তবে চলতি মৌসুমে নদীতে ইলিশের উপস্থিতি আশঙ্কাজনক কমে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন শত শত জেলে।

স্থানীয় জেলেদের ভাষ্য, প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা নদীতে অবস্থান করে জাল ফেললেও পর্যাপ্ত ইলিশ মিলছে না। অনেক সময় জ্বালানি তেল, বরফ ও অন্যান্য খরচের টাকাও উঠছে না মাছ বিক্রি করে। ফলে সংসারের নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় মেটানো দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে।

পাংগাশিয়া ইউনিয়নের আলগী জেলে পল্লির মো. বশির বিশ্বাস, রাজগঞ্জ এলাকার আবুল কালাম এবং আংগারিয়া ইউনিয়নের বাহেরচর গ্রামের জেলে আব্দুল বারেক হাওলাদার বলেন, `আগে এই সময়ে নদীতে পর্যাপ্ত ইলিশ পাওয়া যেত। এখন সারা দিন জাল ফেলেও বেশির ভাগ সময় খালি হাতে ফিরতে হয়। সংসার চালানো, সন্তানের লেখাপড়ার খরচ বহন করা এবং মহাজনের দাদন ও বিভিন্ন এনজিওর ঋণের কিস্তি পরিশোধ করা আমাদের জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।'

জেলে ও সংশ্লিষ্টদের ধারণা, পায়রা নদীর বিভিন্ন অংশে নাব্য কমে গিয়ে চর জেগে ওঠা এবং নদীর স্বাভাবিক গতিপথ ও স্রোতের পরিবর্তনের কারণে ইলিশের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এর ফলে চলতি মৌসুমে প্রত্যাশিত ইলিশ ধরা পড়ছে না।

ইলিশের এই সংকটের প্রভাব শুধু জেলেদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। মাছ পরিবহন, বরফ কল, আড়ত এবং খুচরা মাছ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত অনেকের আয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। ফলে ইলিশনির্ভর স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

দুমকি উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান বলেন, `পায়রা ও লোহালিয়া নদীতে ইলিশ কম ধরা পড়ার বিষয়টি মৎস্য বিভাগ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। নদীর নাব্য, স্রোতের পরিবর্তন, আবহাওয়া এবং প্রাকৃতিক পরিবেশের পরিবর্তনের কারণে মাছের বিচরণে প্রভাব পড়তে পারে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।'

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত