
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় দপ্তরের নবাগত পরিচালক ডা. এস এম মনিরুজ্জামানকে একদল ছাত্র পদ ছাড়তে চাপ দেন। আজ বুধবার তাঁকে দপ্তরে আটকে ড্যাব নেতাদের নেতৃত্বে ছাত্ররা এই চাপ দেন। তাঁদের অভিযোগ ডা. মনিরুজ্জামান জুলাই আন্দোলনে শান্তি সমাবেশে যোগ দিয়েছিলেন। তাই তাঁকে পদ ছাড়তে হবে।
আজ দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে প্রায় আড়াইটা পর্যন্ত ড্যাব নেতাদের প্রশ্নবানে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন পরিচালক ডা. মনিরুজ্জামান। পরে জ্যেষ্ঠ চিকিৎসকদের হস্তক্ষেপে চাপের মুখে তাঁকে বের করে দিয়ে কক্ষে তালা দিয়ে রাখেন ছাত্ররা। নগরের ব্রাউন কম্পাউন্ড বিভাগীয় পরিচালকের কার্যালয়ে দিনভর এমন মবের ঘটনা ঘটে।
সরেজমিনে দুপুর ১২টার দিকে গিয়ে দেখা যায়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালকের কার্যালয়ের সামনে পুলিশ অবস্থান করছে। আশপাশে ছাত্রদল, যুবদলের নেতা-কর্মীরাও ছিলেন। বেলা সাড়ে ১২টার দিকে ১৫ থেকে ২০ জন শিক্ষার্থী পরিচালকের কক্ষে ঢুকতে চান। কিন্তু অনুমতি না পেলে বিএনপিপন্থি একদল চিকিৎসকের নেতৃত্বে পরিচালকের কার্যালয়ে ঢুকে পড়েন ছাত্ররা।
এ সময় বরিশাল মেডিকেল কলেজের শেষ বর্ষের ছাত্র নোমান গাজী পরিচালকের উদ্দেশে বলেন, জুলাই আন্দোলনকালে শান্তি সমাবেশে ফ্রন্টলাইনে ছিলেন আপনি। নৈতিকতার স্বার্থে আপনার এই পদে থাকা মানতে পারছি না।
জবাবে পরিচালক ডা. এস এম মনিরুজ্জামান বলেন, ‘ওই সময়ে শেবাচিম হাসপাতালের তৎকালীন পরিচালকের নেতৃত্বে আমরা শান্তি সমাবেশে যাই। আমাদের বলা হয়েছিল র্যালি হবে। পরে যখন জানতে পারি, এটা শান্তি সমাবেশ, তখন পিছনে ছিলাম।’ তিনি দাবি করেন, আমি ছাত্রদের চিকিৎসায় ছিলাম। আমি জীবনেও স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) করিনি। সরকারি প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করেছিলাম মাত্র। জুলাই আন্দোলনের সমর্থন করেছি, অর্থের যোগানও দিয়েছি। কিন্তু প্রশাসনিক পদে (শেবাচিম হাসপাতালের উপপরিচালক) থাকায় প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ করতে পারিনি।
ছাত্ররা চিৎকার দিয়ে বলেন, জুলাইবিরোধী লোক এখানে (পরিচালক) থাকতে পারবে না।
একপর্যায়ে ড্যাবের বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালের সভাপতি ডা. নজরুল ইসলাম সেলিম বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সময় তোমরা (মনিরুজ্জামান) সুবিধা নিয়েছ, স্বীকার করে নেও। তিনবার আমার প্রমোশন কাটছে। আমি বঞ্চিত ছিলাম। আজকে আমাদের না বলে কেন পোস্টিং নেবে? কে টাকা দিয়ে তোমাকে পরিচালক পদে পোস্টিং দিয়েছে।’
একপর্যায়ে ড্যাবের জেলা সভাপতি কবিরুজ্জামান ছাত্রদের কাছে জানতে চান, ডা. মনিরুজ্জামান যদি ওএসডি হয়, তাহলে কি তোমরা খুশি? জবাবে ছাত্ররা বলেন, ওনাকে এই পদ ছাড়তে হবে।
দুপরের দিকে যুবদলের কয়েকজন নেতা সেখানে গেলে বিএনপিপন্থি চিকিৎসক ও ছাত্ররা তাঁকে রুম থেকে বের হয়ে যেতে বলেন। কিন্তু পরিচালক সাফ জানিয়ে দেন, মব করে তাঁকে কক্ষ থেকে সরানো যাবে না। পরে সিনিয়র চিকিৎসকদের অনুরোধে পরিচালক মনিরুজ্জামান তাঁর কার্যালয় ছাড়েন। এ সময় কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেন ছাত্ররা।
জানতে চাইলে ড্যাবের বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালের সভাপতি ডা. নজরুল ইসলাম সেলিম বলেন, ‘স্বাস্থ্য বিভাগের কাউকে ম্যানেজ করে ডা. মনিরুজ্জামান বরিশালের পরিচালক হয়েছেন। অথচ পাইপলাইনে ছিল অন্যজন।
তিনি নিজেকে রক্ষায় ডা. আজিজ রহিম, ডা. মিজান, ছাত্রদল, যুবদলের লোক এনেছিল। কিন্তু
আমাদের সঙ্গে আলাপ না করে সে কি করে আসল। স্বাস্থ্য বিভাগের সঙ্গে কথা বলেই পরিচালকের কার্যালয়ে গিয়েছি। সরকারকেও আমরা জানিয়েই সেখানে গিয়েছি। সবশেষ সিদ্ধান্ত হয়েছে তাঁকে চলে যেতে হবে।’
এ বিষয়ে পরিচালক ডা. মনিরুজ্জামান বলেন, জেলা ড্যাবের কমিটিতে তিনি ৮৮ নং সদস্য। বরিশাল ড্যাবে অভ্যন্তরীণ বিরোধ রয়েছে। তিনি এক পক্ষের আগ্রহে পরিচালক পদে নিয়োগ পেয়েছেন। অপর পক্ষের প্ররোচনায় তাঁর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ হয়। এটা এক ধরনের মব। তিনি আরও বলেন, তিনি ছুটিতে আছেন। বিশেষ কাজে বুধবার অফিসে গেলে কতিপয় ব্যক্তি মব সৃষ্টির পাঁয়তারা চালায়। তিনি বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবেন।
এ ব্যাপারে কোতোয়ালি মডেল থানার উপপরিদর্শক এসআই মো. রাসেল বলেন, ‘পরিচালক আমাদের জানিয়েছিলেন, তাঁর কার্যালয়ে নিরাপত্তার বিঘ্ন ঘটতে পারে। আমরা নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছি। পরিচালক দুপুরের দিকে নিরাপদে তাঁর কার্যালয় ত্যাগ করেছেন।’

একসময় স্বস্তি ও নিরাপদ যাত্রার অন্যতম মাধ্যম ছিল ট্রেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই ট্রেনযাত্রাই এখন পরিণত হয়েছে ভোগান্তি আর মৃত্যুঝুঁকির যাত্রায়। লাইনচ্যুত হওয়া, ইঞ্জিনে আগুন লাগা কিংবা ইঞ্জিন বিকল হয়ে মাঝপথে ট্রেন আটকে পড়া—নিত্যদিনের এসব ঘটনায় আতঙ্ক বাড়ছে যাত্রীদের।
২ ঘণ্টা আগে
বরগুনার আমতলী পৌরসভার কেন্দ্রীয় লেকের সৌন্দর্যবর্ধনের প্রকল্পের কাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। লেকের মধ্যে নির্মাণাধীন ওয়াকওয়েতে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার ও ত্রুটিপূর্ণ কাজের কারণে গতকাল রোববার অবকাঠামো ধসে পড়ে।
২ ঘণ্টা আগে
দ্বীপ জেলা ভোলায় বিদ্যুতের ঘন ঘন আসা-যাওয়ায় (লোডশেডিং) অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন গ্রাহকেরা। বিদ্যুতের আবাসিক সংযোগের গ্রাহকেরা শুধু নন, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন শিল্পকারখানার মালিকেরাও। বিদ্যুৎ না থাকায় বিভিন্ন কারখানায় উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
২ ঘণ্টা আগে
যশোরের মনিরামপুরে সরকারি অর্থে দুটি খাল পুনঃখননের পর তীরে বৃক্ষরোপণ প্রকল্পে নিম্নমানের চারা লাগিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন (পিআইও) দপ্তরের বিরুদ্ধে।
২ ঘণ্টা আগে