Ajker Patrika

সোনারগাঁয়ে ৩ গ্রামের ২ পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ, টেঁটাবিদ্ধসহ আহত ১৫

সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি
সোনারগাঁয়ে ৩ গ্রামের ২ পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ, টেঁটাবিদ্ধসহ আহত ১৫
ঘটনাস্থলে সোনারগাঁ থানা-পুলিশ ও সেনাবাহিনীর একটি দল গেছে। ছবি: আজকের পত্রিকা

আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে তিন গ্রামের দুটি পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে টেঁটাবিদ্ধসহ কমপক্ষে ১৫ জন আহত হয়েছেন। উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের খাসেরগাঁও, ছোট কোরবানপুর ও পাঁচানি গ্রামে ছড়িয়ে থাকা দুটি পক্ষের লোকজনের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়।

আজ বুধবার (২১ জানুয়ারি) দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দা, বঁটি, টেঁটা, বল্লম, লোহার রড ও ইটপাটকেল দিয়ে থেমে থেমে এ সংঘর্ষ চলতে থাকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে সোনারগাঁ থানা-পুলিশ ও সেনাবাহিনীর একটি দল গেছে।

জানা গেছে, পিরোজপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার খাসেরগাঁও গ্রামের মনির হোসেন ও ছোট কোরবানপুর গ্রামের রাসেল মিয়ার সঙ্গে একই ইউনিয়নের পাঁচানি গ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা হামিদুল ইসলাম হামিদের বিরোধ চলছে। পূর্ববিরোধের জেরে আজকের এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে বলে জানায় এলাকাবাসী। এ ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সংঘর্ষে টেঁটাবিদ্ধ পাঁচানি গ্রামের বজলু মিয়া বলেন, ‘মনির মেম্বার ও রাসেল মিয়া তাদের লোকজন দিয়ে এলাকায় মাদক কারবার ও ডাকাতি করে থাকে। আমরা প্রতিবাদ করায় আজ দুপুরে হঠাৎ করে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তিন শতাধিক লোক নিয়ে আমাদের গ্রামে বাড়িঘর, দোকানপাটে লুটপাট চালায় তারা। আমরা প্রতিহত করার চেষ্টা করলে আমাদের ১০-১২ জনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করে। বাড়িঘর ও দোকানপাট ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় প্রাণ বাঁচাতে অনেকেই মসজিদের ছাদে গিয়ে আশ্র‍য় নিলে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। তারা মসজিদের সব গ্লাস ভেঙে ফেলেছে।’

ছোট কোরবানপুর গ্রামের বাসিন্দা রাসেল মিয়া বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পাঁচানি গ্রামের হামিদ মিয়া একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেন। তিনি আমাদের বিরুদ্ধে মামলা-হামলা দিয়ে এলাকাছাড়া করেন। আমাদের বাড়িঘরে একাধিকবার হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেছেন। এখনো তিনি এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করতে চাইছেন।’

রাসেল মিয়া বলেন, ‘সকালে আমাদের ছেলেরা নদীতে গেলে হামিদ মিয়ার লোকজন তাদের বেধড়ক পিটিয়ে আহত করে। পরে আমাদের লোকজন গিয়ে তাদের গ্রামে হামলা চালিয়েছে। এ সময় দুপক্ষের লোকজনই আহত হয়।’

পিরোজপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরেই এ দুই গ্রুপের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। গত সপ্তাহে আমরা কয়েকজন ওই এলাকায় গিয়ে সমাধানের চেষ্টা করেছি। মনির মেম্বার ও রাসেল মিয়া সমাধান চাইলেও হামিদ মিয়া সমাধানে যেতে নারাজ। আজকে সংঘর্ষের পর আমরা ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। কয়েকটি দোকানপাট ও বাড়িঘর ভাঙচুর করেছে দেখে এসেছি।’

সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিবুল্লাহ জানান, পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে অবস্থান করছে। প্রশাসনের লোকজন সরে গেলেই আক্রমণের চেষ্টা করছে। এখনো কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। পরিস্থিতি শান্ত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত