Ajker Patrika

ছোট্ট মহিমার স্কুল নিল তার পড়াশোনার দায়িত্ব

দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি 
আপডেট : ২০ আগস্ট ২০২৬, ১৩: ২৫
ছোট্ট মহিমার স্কুল নিল তার পড়াশোনার দায়িত্ব
এডুকেয়ার আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক রাসেলের সঙ্গে নিহত দেবাশীষ দত্তের বড় মেয়ে মহিমা দত্ত ও তার ঠাকুমা-ঠাকুরদা। ছবি: আজকের পত্রিকা

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি আবাসিক হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে মা-বাবা ও ছোট ভাইকে হারিয়েছে সাত বছরের মহিমা। কুষ্টিয়ার বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এডুকেয়ার আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের কেজি শ্রেণির ছাত্রী মহিমার এইচএসসি পর্যন্ত পড়াশোনার দায়িত্ব নিয়েছে তার স্কুল। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে তার বেতন, পরীক্ষার ফি, বই-খাতা, কলমসহ যাবতীয় খরচ বহনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

মহিমার মা-বাবা ও ভাইয়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে আজ বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকালে এডুকেয়ার আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক রাসেলসহ শিক্ষকেরা তার বাড়িতে যান। তাঁরা মহিমার ঠাকুমা-ঠাকুরদার সঙ্গে কথা বলেন এবং পড়াশোনার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

গতকাল বুধবার কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে তাঁর বাবা আজকের পত্রিকার কুষ্টিয়া প্রতিনিধি দেবাশীষ দত্ত (৩৯), মা আফসানা শারমীন (২৭) ও তিন বছরের ছোট ভাই স্বর্ণশীষ দত্ত মারা যান। একই ঘটনায় মারা যান দেবাশীষের শ্বশুর আকরাম হোসেন (৬৪)। অগ্নিকাণ্ডে মোট নয়জনের মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের মধ্যে সাতজন বাংলাদেশি।

ভারতে যাওয়ার আগে দেবাশীষ বড় মেয়ে মহিমাকে কুষ্টিয়ায় ঠাকুমা-ঠাকুরদার কাছে রেখে গিয়েছিলেন। মা-বাবা ও ভাইকে হারিয়ে এখন তাঁর একমাত্র আশ্রয় হয়ে দাঁড়িয়েছেন ঠাকুমা-ঠাকুরদা।

এডুকেয়ার আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক রাসেল বলেন, ‘মহিমা দত্তের এইচএসসি পর্যন্ত স্কুলের বেতন, পরীক্ষার ফি, বই-খাতা, কলমসহ যাবতীয় খরচ এডুকেয়ার আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ বহন করবে। শুরু থেকেই যেন বাবা-মায়ের অভাবে সে শিক্ষা থেকে পিছিয়ে না পড়ে, সে জন্য আমরা এই উদ্যোগ নিয়েছি।’

মহিমার পড়াশোনার দায়িত্ব নেওয়ার খবরে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন তাঁর ঠাকুমা-ঠাকুরদা, পরিবারের সদস্য ও দেবাশীষ দত্তের সহকর্মীরা। তাঁরা এ উদ্যোগকে মানবিক ও প্রশংসনীয় বলে উল্লেখ করেছেন।

এর আগে গতকাল রাতে কুষ্টিয়া সদর আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা নিহত দেবাশীষ দত্তের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে সমবেদনা জানান এবং পরিবারের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ৩ আগস্ট পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ভারতে যান দেবাশীষ দত্ত। প্রথমে তাঁরা বেঙ্গালুরুতে চিকিৎসা নেন। প্রায় ১৩ দিন চিকিৎসা শেষে সোমবার রাতে কলকাতায় ফেরেন তাঁরা। মঙ্গলবার আত্মীয়স্বজনের জন্য কেনাকাটা শেষে বুধবার দেশে ফেরার কথা ছিল তাঁদের। এর মধ্যেই আবাসিক হোটেলটিতে অগ্নিকাণ্ড ঘটে।

এ ঘটনায় নিহত অন্য বাংলাদেশিরা হলেন ঢাকার সাভারের আমিনবাজার এলাকার বেগুনবাড়ির আহমেদ বাবু (৪০), সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার আলিমুজ্জামান সাজু (৪৫) ও রেবতী সরকার। এ ছাড়া ভারতের ঝাড়খন্ডের গিরিডি জেলার বাসিন্দা সন্দীপ পাসওয়ানের পরিচয় নিশ্চিত করেছে স্থানীয় প্রশাসন। নিহত অপর একজনের পরিচয় এখনো জানা যায়নি।

অগ্নিকাণ্ডের পর উদ্ধার করা মরদেহগুলো কলকাতা মেডিকেল কলেজের মর্গে রাখা হয়েছে।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত