Ajker Patrika

খাজনা কমাতে ঘুষ গ্রহণ ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তার, ভিডিও ভাইরাল

আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি: 
আপডেট : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯: ৫৯
খাজনা কমাতে ঘুষ গ্রহণ ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তার, ভিডিও ভাইরাল
চাঁপাপুর ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা আয়েশা খাতুন। ছবি: সংগৃহীত

বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার ইউনিয়ন ভূমি অফিসগুলো যেন ঘুষের কারখানায় পরিণত করা হয়েছে। উপজেলার ইউনিয়ন ভূমি অফিসগুলোতে ঘুষ ছাড়া সেবা পান না ভূমিমালিকেরা—এমন অভিযোগ অনেক ভুক্তভোগীর। ভূমিসংক্রান্ত কিছু ত্রুটি ছাড়া বকেয়া খাজনা (ভূমি উন্নয়ন কর) প্রদানেও ঘুষ দিতে বাধ্য করা হয় ভূমিমালিককে।

সম্প্রতি এক লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার মাধ্যমে প্রায় চার লাখ টাকার বকেয়া খাজনা মাত্র ছয় হাজার টাকায় দফারফা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকার চাঁপাপুর ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা আয়েশা খাতুনের বিরুদ্ধে। ওই ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তার ঘুষ নেওয়ার একটি ভিডিও ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সরকার ভূমিসংক্রান্ত জটিলতা দূর করার জন্য ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু করেছে কয়েক বছর আগে। সবকিছু অনলাইন সিস্টেমে করা হলেও ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তার চূড়ান্ত প্রতিবেদন বাধ্যতামূলক করে রাখা হয়েছে। এই সুযোগের সম্পূর্ণ সদ্ব্যবহার করছেন ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তারা। নামজারি ও খাজনা পরিশোধে ঘুষ ছাড়া কোনো সেবা মেলে না। এর মধ্যে চাঁপাপুর ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা আয়েশা খাতুনের নাম বেশ আলোচিত হচ্ছে ভুক্তভোগী ভূমিমালিকসহ এলাকার জনপ্রতিনিধিদের মুখে মুখে।

জানা যায়, ওই ইউনিয়নের ঝাঁখর মৌজায় ১৭৯৪ দাগের এক একর ৯০ শতাংশ পুকুরের (কৃষি ২) ৪৯ বছরের খাজনা বা ভূমি উন্নয়ন কর জরিমানাসহ বকেয়ার পরিমাণ ৩ লাখ ৮৬ হাজার ৯০৭ টাকা। ২৩ সেপ্টেম্বর কর প্রদত্ত অনলাইন রসিদে ওই বকেয়া ও জরিমানার পরিমাণ উল্লেখ রয়েছে। পাশাপাশি হাল দাবি দেখানো হয়েছে ৭ হাজার ৬০০ টাকা। আবার আদায় বিবরণে তিন বছরের ঊর্ধ্বের বকেয়া ৩ হাজার ১৪৩ টাকা, গত তিন বছরের বকেয়া ১ হাজার ২২২ টাকা, বকেয়ার জরিমানা ও ক্ষতিপূরণ ১ হাজার ৮৩৪ টাকা ও হাল দাবি ৩৮০ টাকা নিয়ে মোট ৬ হাজার ৫৭৯ টাকা।

এ বিষয়ে চাঁপাপুর ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা আয়েশা খাতুন ঘুষের বিনিময়ে ভূমি উন্নয়ন কর, জরিমানা ও ক্ষতিপূরণ কমিয়ে দেওয়ার অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবি করে বলেন, অনলাইন ব্যবস্থায় এটা করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। অনলাইন সফটওয়্যার করার সময় তথ্যাদি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কাগজপত্র যাচাই করে দেখা যায়, ওই ভূমির বেশ কিছু পরিমাণ কর পরিশোধ করা হয়েছে। কাগজপত্র যাচাই ও নীতিমালা মোতাবেক বকেয়া ভূমি উন্নয়ন কর, জরিমানা ও ক্ষতিপূরণ আদায় করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট।

এ বিষয়ে চাঁপাপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন হিটলু সাংবাদিকদের বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনা যদি সত্য হয়, তাহলে আমি একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।’

এ ব্যাপারে আদমদীঘি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশরাফুল ইসলামের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
১
২
৩
৪
৫
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত