Ajker Patrika

কমছে বিদেশি শিক্ষার্থী: ঢাবিতে আন্তর্জাতিক হলে থাকতে পারছেন অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাও

  • অধ্যাদেশ অনুযায়ী অধিভুক্ত শিক্ষার্থীদের ঢাবি হলে থাকার সুযোগ নেই
  • দুই শিক্ষাবর্ষের ব্যবধানে বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি কমে অর্ধেকের নিচে
মো. বেলাল হোসেন, ঢাবি
কমছে বিদেশি শিক্ষার্থী: ঢাবিতে আন্তর্জাতিক হলে থাকতে পারছেন অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাও

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বিদেশি শিক্ষার্থীদের থাকার জন্য নির্ধারিত একমাত্র আন্তর্জাতিক ছাত্রাবাসে থাকছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কিছু প্রতিষ্ঠানের বিদেশি শিক্ষার্থীরাও। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তির সংখ্যা কমে যাওয়ায় স্যার পি. জে. হার্টগ ইন্টারন্যাশনাল হলের কিছু আসন খালি থাকছে। সেই আসনেই অধিভুক্ত ও উপাদানকল্প প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের আবাসনের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।

এশিয়া মানেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসা বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা নিতান্ত কম। সেখানে এই হার ক্রমেই কমছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দপ্তর থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে ২৭ জন, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে ১৬ জন এবং সর্বশেষ ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে মাত্র ১১ জন বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছেন।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, দুই শিক্ষাবর্ষের ব্যবধানে বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তির সংখ্যা ২৭ জন থেকে ১১ জনে নেমেছে।

রেজিস্ট্রার দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৭৮ জন। তবে বিদেশি শিক্ষার্থীদের আবাসনের জন্য প্রতিষ্ঠিত হলে বর্তমানে শিক্ষার্থী রয়েছেন ১১৭ জন। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, তাঁদের মধ্যে প্রায় ৩৫ জন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত ও উপাদানকল্প বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী। অধিভুক্ত ও উপাদানকল্প এই প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি সেলের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত ও উপাদানকল্প প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১৩৪টি। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশ অনুযায়ী, এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলে থাকার সুযোগ নেই।

আন্তর্জাতিক হলে ঢাবির অধিভুক্ত ও উপাদানকল্প প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের আবাসনের বিষয়ে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল মোজাদ্দেদী আলফেসানী বলেন, ‘আন্তর্জাতিক হলটি সাধারণত ঢাবির বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য। বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা কম থাকলে প্রাধ্যক্ষ মহোদয় যদি মনে করেন যে কিছু ব্লক খালি আছে, তখন হয়তো অন্যদের আবাসনের ব্যবস্থা করতে পারেন।’

অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক হলে থাকায় তাঁদের হঠাৎ করে সরিয়ে দেওয়া সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন উপ-উপাচার্য।

এ বিষয়ে স্যার পি. জে. হার্টগ ইন্টারন্যাশনাল হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম এ কাওসার আজকের পত্রিকাকে বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদেশি শিক্ষার্থীদের আবাসন নিশ্চিত হওয়ার পর আসন খালি থাকা সাপেক্ষে অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠানের বিদেশি শিক্ষার্থীরাও এ হলে থাকার সুযোগ পান। এ-সংক্রান্ত নীতিমালা রয়েছে।

বিদেশি শিক্ষার্থী কেন কমছে: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মো. আবদুস সালাম আজকের পত্রিকাকে বলেন, সাম্প্রতিক কয়েক বছরের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও পাঠদানে বাংলা ভাষার প্রাধান্য বিদেশি শিক্ষার্থী কমার কারণ হতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধাও এখনো আন্তর্জাতিক মানের হয়ে ওঠেনি।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত