Ajker Patrika

টাঙ্গাইলে দুই উপজেলার বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষ, পুলিশসহ আহত ২০

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি 
টাঙ্গাইলে দুই উপজেলার বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষ, পুলিশসহ আহত ২০
সংঘর্ষ চলাকালে বাড়িতে আগুন। ছবি: সংগৃহীত

টাঙ্গাইলের গোপালপুর ও ভূঞাপুর উপজেলার দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে ৫ পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ২০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ঘটনার সময় ১১টি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ, গরুবাছুর, গোলার ধান ও গৃহস্থালী সামগ্রী লুটপাটের ঘটনাও ঘটে।

আজ বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে গোপালপুর উপজেলার হেমনগর ইউনিয়নের নলিন বাজারে হামলা চালিয়ে শতাধিক দোকান পাট ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়।

গোপালপুর উপজেলার হেমনগর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শামছুল আলম জানান, মাস খানেক আগে গোপালপুর উপজেলার গুলিপেচা এবং ভূঞাপুর উপজেলার অর্জুনা ইউনিয়নের জগৎকুড়া গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে দোকানে বাকি চাওয়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে ১০-১২ জন আহত হন। এতে অর্জুনা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নিয়ামত আলী খান আহত হন। পরে জগৎ কুড়াবাসিরা গুলিপেচা গ্রামে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়।

এর প্রতিশোধ হিসাবে আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর জগৎকুড়া গ্রামের কয়েকশত মানুষ লাঠিসোঁটা রামদা নিয়ে গুলিপেচা গ্রামে হামলা চালায়। তারা ১১টি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। গরুবাছুরসহ সব মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। হামলায় নারী শিশুসহ অনেকেই আহত হন। এর মধ্যে হেমনগর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেনের অবস্থা গুরুতর।

অপর দিকে জগৎকুড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং নলিন বাজারের ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, রাত ৮টার পর হেমনগর ইউনিয়নের শাখারিয়া গ্রামের কয়েকশত মানুষ নলিন বাজারে হামলা চালায়। তারা বেছে বেছে জগৎকুড়া গ্রামের ব্যবসায়ীদের দোকানপাট ভাঙচুর ও লুট করে। এতে প্রায় তিন কোটি টাকার পণ্য লুট হয়।

রাত ৯টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত উভয় পক্ষ মারমুখী অবস্থানে রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার জন্য অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

গোপালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন জানান, পরিস্থিতি নিরসনের জন্য পুলিশ কাজ করছে।

ভূঞাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাব্বির রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, দুই পক্ষের সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে ৫ পুলিশ আহত হয়েছেন। উভয় পক্ষের রণ প্রস্তুতির মধ্যে পুলিশ অবস্থান নিয়েছে। অগ্নিনির্বাপক দল আগুন আয়ত্তে আনার চেষ্টা করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আদিবুল ইসলাম ও ফৌজিয়া হাবিব ঘটনাস্থলে আছেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত