Ajker Patrika

সিরাজগঞ্জে ২ মাসে ৫৪ প্রতিষ্ঠানকে প্রায় সাড়ে ৭ লাখ টাকা জরিমানা

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি  
সিরাজগঞ্জে ২ মাসে ৫৪ প্রতিষ্ঠানকে প্রায় সাড়ে ৭ লাখ টাকা জরিমানা
সিরাজগঞ্জে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযানে একটি প্রতিষ্ঠানে পণ্যের মান ও লেবেল যাচাই করা হচ্ছে। ছবি: আজকের পত্রিকা

দোকানের তাকজুড়ে সাজানো নানা পণ্য। কোনো পণ্যের গায়ে উৎপাদনকারীর নাম-ঠিকানা নেই, কোনোটিতে নেই প্রয়োজনীয় লেবেল। আবার কোথাও বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) অনুমোদন ছাড়াই তৈরি হচ্ছে পণ্য। এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে ব্যবস্থা নিয়েছে সিরাজগঞ্জ জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

গত জুলাই ও আগস্ট মাসে জেলার নয়টি উপজেলায় ২৭টি অভিযান চালিয়ে ৫৪টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৭ লাখ ৬৬ হাজার ২৫০ টাকা জরিমানা করেছে অধিদপ্তর। এসব অভিযানে বিভিন্ন পণ্যের মান, লেবেল, উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের তথ্য ও প্রয়োজনীয় অনুমোদন না থাকার মতো অনিয়ম পাওয়া যায়।

জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, জুলাই ও আগস্টে পরিচালিত অভিযানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, ডিম, ভোজ্যতেল, বেকারি ও লাইভ বেকারি পণ্য, কনফেকশনারি, শিশু খাদ্য, দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্য, মিষ্টি, দই, ঘি, চিজ, ঘোল, কীটনাশক ও সার বিক্রির প্রতিষ্ঠান এবং মহাসড়কের রেস্তোরাঁয় অনিয়ম পাওয়া যায়।

অভিযানে কোনো কোনো পণ্যের গায়ে প্রয়োজনীয় তথ্য না থাকা, উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের নাম ও ঠিকানা উল্লেখ না করা এবং বিএসটিআইয়ের অনুমোদন ছাড়া পণ্য উৎপাদনের মতো বিষয় উঠে আসে। এসব অনিয়মের কারণে ভোক্তারা প্রতারিত হওয়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতেও পড়তে পারেন বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করেন।

অধিদপ্তর সূত্রে আরও জানা যায়, নয়টি উপজেলার মধ্যে সদর, উল্লাপাড়া, রায়গঞ্জ ও শাহজাদপুর উপজেলায় তুলনামূলক বেশি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এসব অভিযানে নেতৃত্ব দেন জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. সোহেল শেখ।

দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির কামারখন্দ উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া বলেন, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কার্যক্রম সম্পর্কে মানুষকে আগে সচেতন করতে হবে। এ জন্য প্রচারণা বাড়ানো দরকার। পাশাপাশি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে অধিদপ্তরের জনবল বাড়ানো উচিত, যাতে সাধারণ মানুষ অভিযোগ করলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়। বর্তমানে যতটুকু অভিযান পরিচালিত হচ্ছে, তা যথেষ্ট নয়।

জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. সোহেল শেখ আজকের পত্রিকাকে বলেন, ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় বিভিন্ন উপজেলায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এসব অভিযানে পণ্যের মান, সঠিক তথ্য ও প্রয়োজনীয় অনুমোদনের বিষয়গুলো দেখা হয়। অনিয়ম পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী জরিমানা করা হচ্ছে।

মো. সোহেল শেখ বলেন, পণ্য ক্রয়ের সময় ভোক্তাদের লেবেল, উৎপাদনের তারিখ, মেয়াদ, উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের নাম-ঠিকানা এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন আছে কি না, তা দেখে ক্রয় করা উচিত। এতে একদিকে প্রতারণা কমবে, অন্যদিকে অনিয়মকারী ব্যবসায়ীরাও সতর্ক হবেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত