Ajker Patrika

প্রাথমিক শিক্ষায় ফলাফলভিত্তিক মনিটরিং ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে: ববি হাজ্জাজ

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী
আপডেট : ২৫ আগস্ট ২০২৬, ২২: ৩২
প্রাথমিক শিক্ষায় ফলাফলভিত্তিক মনিটরিং ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে: ববি হাজ্জাজ
রাজশাহী পিটিআই অডিটোরিয়ামে প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী। ছবি: আজকের পত্রিকা

প্রাথমিক শিক্ষায় কাগুজে প্রতিবেদন নয়, শিক্ষার্থীর বাস্তব শিখনফলকে সাফল্যের প্রধান মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর উপস্থিতি, শেখার অগ্রগতি এবং বিদ্যালয়ের কার্যক্রম বাস্তবে কতটা কার্যকর—তা সরাসরি যাচাই করে ফলাফলভিত্তিক মনিটরিং ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে বলে জানান তিনি।

আজ মঙ্গলবার বিকেলে রাজশাহী পিটিআই অডিটোরিয়ামে দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। কর্মশালার শিরোনাম ছিল ‘বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষায় শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা, মনিটরিং, জবাবদিহিতা ও প্রশাসনিক কাঠামোর সংস্কার’।

ববি হাজ্জাজ বলেন, প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থায় ইতিবাচক ও কার্যকর পরিবর্তন আনতে দেশব্যাপী কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ লক্ষ্য সামনে রেখে মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে দেশের আট বিভাগে প্রাথমিক শিক্ষা পরিবারের কর্মকর্তাদের নিয়ে ধারাবাহিক কর্মশালার আয়োজন করা হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, ময়মনসিংহ, বরিশাল, সিলেট ও রাজশাহী বিভাগে ইতিমধ্যে কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পর্যায়ক্রমে খুলনা, রংপুর, চট্টগ্রাম ও ঢাকা বিভাগেও এসব কর্মশালা হবে।

রাজশাহী বিভাগের কর্মশালার উদ্দেশ্য হিসেবে ববি হাজ্জাজ বলেন, প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থায় চলমান ও ভবিষ্যৎ সংস্কার সম্পর্কে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের অবহিত করা এবং তাঁদের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও বাস্তবভিত্তিক মতামত নেওয়া।

বিদ্যালয় মনিটরিং, শিক্ষক ও প্রশাসন ব্যবস্থাপনা, পাঠ্যক্রম সংস্কার, প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার, শ্রেণিকক্ষ ও বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, নিরাপদ ও ব্যবহারযোগ্য পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা, শ্রেণিকক্ষের পরিবেশ ও আসবাবপত্রসহ প্রাথমিক শিক্ষার প্রতিটি ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

ববি হাজ্জাজ বলেন, শুধু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নয়, দেশের সব ধরনের প্রাথমিক বিদ্যালয়কে কার্যকর মনিটরিং ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। কাগুজে প্রতিবেদনের ওপর নির্ভর না করে বিদ্যালয়ের প্রকৃত অবস্থা, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর উপস্থিতি এবং শিক্ষার্থীদের বাস্তব শিখনফলকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের অভিজ্ঞতা ও পরামর্শকে সংস্কার কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হবে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। প্রথম ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের পাশাপাশি আগামী ১৮০ দিনের কর্মসূচি এবং সরকারের পাঁচ বছরের অঙ্গীকার বাস্তবায়নে প্রাথমিক শিক্ষা পরিবারের সদস্যদের কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।

রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার মো. ইউসুফ আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল হক মিলন, জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে প্রাথমিক শিক্ষার বিভাগীয় উপপরিচালক, রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন জেলার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Google News Icon

সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিড ফলো করুন

পঠিত
সর্বশেষ
এলাকার খবর
খুঁজুন

পাঠকের আগ্রহ

সম্পর্কিত