
মামুনুর রশীদ
মামুনুর রশীদ
সকল লেখা

কবি সুকান্তের জন্মশতবর্ষ ও কিছু জিজ্ঞাসা
বেশি দিন আগের কথা নয়, এক দৈনিক পত্রিকার সম্পাদক খুব আন্তরিকভাবেই আমাকে প্রশ্ন করলেন, বলুন তো কবিতার বই বিক্রি হয় না কেন? আমি জবাবে বলেছিলাম, এটি সাহিত্যের জন্য খুব খারাপ লক্ষণ। পাঠক যদি কবিতা পছন্দ না করে সে এক মারাত্মক পূর্বাভাস। আর আজকেই একজন প্রকাশকের কাছে জানতে পারলাম, গত দু-তিন বছরে সব ধরনের বই

দখলদারত্বের সংস্কৃতি কি চলমান থাকবে
আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে দখল একটা মুখ্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই দখলের সীমানা বন-পাহাড়-নদী-সমুদ্র পর্যন্ত বিস্তৃত। কখনো কখনো কোনো সরকারের মধ্যে সদিচ্ছা জাগে বেদখল নদী, রেলওয়ের জায়গা এবং খাসজমি দখলমুক্ত করতে।

একটি জেলা শহরের সংস্কৃতিচর্চার ইতিবৃত্ত
সম্প্রতি উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার সিরাজগঞ্জ গিয়েছিলাম। প্রমত্তা যমুনার পারে এই শহরটির রয়েছে দীর্ঘ ভাঙাগড়ার ইতিহাস। আজ থেকে ৩৯ বছর আগে প্রথম এই শহরে যাওয়ার কথা বারবার মনে পড়ছে। মনে মনে হিসাব করে দেখলাম, দেশে ও বিদেশে যেখানেই গিয়েছি, তার প্রধান কারণ একটাই ছিল, সেটা হলো শিল্পকলার প্রেরণা, নাটক।

সংস্কৃতিচর্চার অপার সম্ভাবনা ফিরে আসুক
একটি সংবাদ পেলাম, আগামী শীতে প্রতিটি জেলা এবং উপজেলায় সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় নানা ধরনের শিল্পকর্মের আয়োজন করবে। নিঃসন্দেহে এটি একটি আনন্দের সংবাদ। অতীতে আমরা সংগীতের শক্তি প্রত্যক্ষ করেছি। দেশভাগের আগে ভারতের গণনাট্যসংঘ ভারতবর্ষজুড়ে মেহনতি মানুষের জন্য শিল্পের নানা শাখায় একটা বড় আয়োজন করেছিল।

ছোট স্বপ্নেও উৎপাত
আমার এক বন্ধু বাংলা সাহিত্যের মেধাবী ছাত্র এবং খুবই পড়ুয়া। তার নিজস্ব লাইব্রেরিটিও খুবই সমৃদ্ধ। দুর্লভ সব বই সংগ্রহ করে থাকে। খুঁজে খুঁজে বড় বড় বইমেলায় যায়। এ বাংলার উৎসাহী বন্ধুদেরও নিজ খরচে নিয়ে যায়। কিন্তু ব্যবসাটি করে গার্মেন্টস শিল্পের। ব্যবসাটিও ভালোই।

গুর্খাদের নিয়ে নাটক এবং বন্যা
একটি নাটকের কাজে নেপালে এসেছি। কোনো চলচ্চিত্র বা টিভি নাটকের জন্য নয়। একটি মঞ্চনাটকের জন্য। নাটকটি হবে নেপালি ভাষায়। আর লিখেছেন একজন হংকংবাসী চীনা নাগরিক। তিনি লিখেছেন ইংরেজিতে। ইংরেজি থেকে নেপালি ভাষায় অনুবাদ করা হয়েছে। লেখক আমার পুরোনো বন্ধু।

নাগরিকেরা সুস্থ জীবনের অধিকার কবে পাবে
ঢাকার অভিজাত এলাকার এক আধুনিক বাড়িতে একটি হারিকেন দেখতে পাই। হারিকেনটি দেখতে বেশ সুন্দর ছিল। হারিকেন তো দুটি কাজে লাগে। একটি হচ্ছে লোডশেডিংয়ের সময় আলো দেয়, আরেকটি হচ্ছে মশা থেকে রক্ষা করে। দুটি জলজ্যান্ত সমস্যা এ সময়ের। একটি বিদ্যুৎ, অন্যটি মশা। দুটি সমস্যারই একটা উপসংহার হয়ে গেছে।

নিরাপদ তন্দ্রার অধিকার চাই
বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর মাননীয় সংসদ সদস্যদের কাউকে কাউকে বাস, ট্রেন বা লঞ্চে যাতায়াত করতে দেখা যেত। তাঁদের মধ্যে কারও কারও সাইকেলও ছিল। নিজ এলাকায়, এমনকি ঢাকা শহরেও তাঁরা সাইকেল চালাতেন। নিয়মিত বাজারে যেতেন, দোকানদারদের সঙ্গে দ্রব্যমূল্য নিয়ে ঝগড়াঝাঁটিও করতেন।

প্রিয় ঢাকা শহরকে বাঁচাতে হবে
সভ্যতার কোনো এক আদি পর্ব থেকে মানুষের আবাস ও ভূমির স্বপ্ন জাগরিত হয়েছিল, তা সঠিকভাবে বলা কঠিন। তবে বিভিন্ন ধ্বংসাবশেষ থেকে অনুমান করা যায়, আদিকাল থেকেই উন্নত আবাসভূমির চিন্তা মানুষকে ধাবিত করেছে। আমাদের এই উপমহাদেশেই মহেঞ্জদারো, হরপ্পা, নালন্দা, মহাস্থানগড়—এসব থেকেই বোঝা যায়, কত উন্নত পুরকৌশল

মায়ের মৃত্যু এবং কিছু প্রশ্ন
গত সপ্তাহের শনিবার আমার নিয়মিত কলামটি আমি লিখতে পারিনি। কারণ, আমার মা গত বৃহস্পতিবার রাতে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে চলে যান। এটা অবশ্য কথার কথা। ৯৫ বছর বয়সেও তিনি আসলে এ পৃথিবী থেকে যেতে চাননি। প্রতিটি মুহূর্তেই তাঁর মধ্যে বাঁচার আকুতি দেখা যেত। তিনি জন্মেছিলেন গত শতাব্দীর তিরিশের দশকে।

জ্ঞানচর্চার বিভিন্ন দিক
কথাটি খুব করে মনে পড়ছে। এ দেশের প্রখ্যাতজনেরা একটা কথা বলে আসছিলেন যে জ্ঞানের বাজারদর খুবই কমে গেছে। শিক্ষাব্যবস্থাটা এমন একটা জায়গায় পৌঁছে গেছে, যেখানে জ্ঞানচর্চার কোনো অবকাশ নেই। শিক্ষক ও শিক্ষার্থী দুজনেই সহজ পথ বের করছেন, যেখানে শুধু সার্টিফিকেট আর নম্বর তোলাটাই গুরুত্বপূর্ণ উপায়।

একসময় আড্ডায় ‘জীবন’ খুঁজে পাওয়া যেত
আমার বয়সী অনেক বন্ধু বলে, বন্ধু, আসো না একদিন একটু আড্ডা দিই। শুনে হাসি পায়। আড্ডা দেওয়ার জন্য এ রকম আমন্ত্রণ জানাতে হয়! আমার নীরবতা লক্ষ করে তারপর বলে, এসো খাওয়া-দাওয়া হবে, অনেক দিন পরে আমরা বেশ কয়েকজন একসঙ্গে আড্ডায় মেতে উঠব।

আধো ঘুম আধো স্বপ্নের মানুষের জন্য প্রত্যাশা
কোনো এক মনীষী বলেছিলেন, তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর মানুষ আধো ঘুম আধো স্বপ্নের মধ্যে বেঁচে থাকে। কথাটি যে কত বড় সত্য, তা আমরা বহু বছর ধরে দেখে আসছি। ব্রিটিশ আমলে স্বপ্ন দেখেছি, ইংরেজ শাসকেরা চলে গেলেই আমাদের দেশটা উন্নত হবে। অন্তত গণমানুষের মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণ হবে।

রাজপথের শৃঙ্খলা: জরুরি বিবেচনা
একটা চিরন্তন কুইজ দিয়ে শুরু করি। বাংলাদেশে এমন কী সমস্যা আছে, যা বারবার বলার পরও, জনগণের হাজার কষ্ট প্রতিদিন দেখার পরেও শাসকগোষ্ঠী এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বোঝার পরও তার সমাধান হয় না, বরং সমস্যাটা দিন দিন বাড়তে থাকে। সেটি কী? সেটি হচ্ছে বাংলাদেশের পথঘাটের অবর্ণনীয় সমস্যা।

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের অনন্য স্কুল
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর এবং সেন্টার ফর স্টাডি অব জেনোসাইড অ্যান্ড জাস্টিস যৌথভাবে দীর্ঘদিন যাবৎ একটি আবাসিক কর্মশালাভিত্তিক স্কুলের আয়োজন করে আসছে। স্কুলটির একাদশ বার্ষিকী টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের কুমুদিনী কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত হয়। কুমুদিনী হাসপাতাল ভারতেশ্বরী হোমসে এবং পার্শ্ববর্তী...

পৃথিবীটা কি সত্যিই বদলে গেছে
পৃথিবীটা বদলে গেছে। আমরা এই পৃথিবীটার পরিবর্তন চেয়েছিলাম। আমরা শুধু নই, সারা বিশ্বের মানুষ, বিশেষ করে নিপীড়িত-নির্যাতিত মানুষ পরিবর্তন চেয়েছিল সমাজের, রাষ্ট্রের এবং মানুষের। কিন্তু পরিবর্তনটা কি হলো?
