
সেলিম জাহান
সেলিম জাহান
সকল লেখা

বিজয় দিবস মানে মুক্তি, বিজয় দিবস মানে আশা
আজ আমাদের বিজয় দিবস। তিপ্পান্ন বছর আগে ৯ মাসের একটি রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে বিজয়ের সূর্যকে আমরা ছিনিয়ে এনেছিলাম। পেয়েছিলাম একটি স্বাধীন দেশ—বাংলাদেশ। বিজয় দিবস তাই বাংলাদেশের জন্য আনন্দের, উৎসবের।

‘এ পৃথিবী একবার পায় তারে’
কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের একটি কবিতার শিরোনাম আমার খুব পছন্দের, ‘যেতে পারি, কিন্তু কেন যাবো?’ শেষ যখন কথা হয় হেলালের সঙ্গে, তখন সে বলেছিল, ‘যেতে চাই, কেন আছি?’ ইদানীং এমনটাই বোধ হয় ভাবত হেলাল। আমার পঞ্চাশ বছরের বন্ধু কবি হেলাল হাফিজ। আমাকে শুধু নয়, শামীমকেও (কবি শামীম আজাদ) এমনটাই বলেছিল সে। বেশ কিছু

শ্রীলঙ্কার নতুন সরকার এবং আগামীর পথযাত্রা
সম্প্রতি শ্রীলঙ্কায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হয়ে গেল। দ্বিতীয় দফায় ৫৭ শতাংশ ভোট পেয়ে দেশটির রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচিত হলেন বামপন্থী দল জনতা ভিমুক্তি পেরামুনা (জেভিপি) মোর্চার প্রার্থী অনুড়া কুমারা দিশানায়েকে। শ্রীলঙ্কার এই নির্বাচনটি তিনটি কারণে গুরুত্বপূর্ণ।

বৈষম্যের স্বরূপ: বাংলাদেশ প্রেক্ষিত
আজ বাংলাদেশের স্বপ্ন একটি বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার। দেশের জনগণের এই প্রত্যাশা নতুন নয়। নানা মাত্রিকতায় বৈষম্যের শিকার হয়েই বাঙালি জনগোষ্ঠী পাকিস্তান আমলে সংগ্রাম করেছে, আন্দোলনে রাস্তায় নেমেছে এবং মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরে সামাজিক ন্যায্যতার প্রশ্ন, সমতার বিষয়, সাম্যের কথা বার

বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় এবং মেধা-নেতৃত্ব
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার বিভিন্ন বিষয়ে নানা আলোচনা হচ্ছে, আগামী দিনে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার ভূমিকা বিষয়ে, প্রশ্ন উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘মেধা-নেতৃত্ব’ বিষয়ে, আলোচিত হচ্ছে ভবিষ্যৎ সংস্কারের নানা দিক। এর মধ্যে আমরা যদি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মেধা-নেতৃত্ব বিষয়টি আলোচনা-বলয়ের মধ্যে নিয়

ফরাসি বিপ্লব এবং এর প্রাসঙ্গিকতা
ফরাসি বিপ্লব (১৭৮৯-১৭৯৯) কোনো হঠাৎ আলোর ঝলকানি ছিল না, এটা ছিল একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া। ১০ বছর ঘটমান এ ঘটনাটি ছিল পশ্চিমা সভ্যতার বিবর্তনে একটি মাইলফলক। সেই মাইলফলকের তিনটি মাত্রিকতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

অনেক প্রত্যাশায় বদলের পক্ষে ব্রিটিশদের রায়
যুক্তরাজ্যে নির্বাচন হয়ে গেল গত বৃহস্পতিবার এবং ইতিমধ্যে সেই নির্বাচনের ফলও জানা গেছে। ৬৫০ আসনবিশিষ্ট ব্রিটিশ সংসদে ৪১২টি আসন পেয়ে লেবার পার্টি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করেছে। ১৪ বছর পরে তারাই এখন সরকার গঠন করবে। কনজারভেটিভ পার্টি গত সংসদের তুলনায় ২৪৪টি আসন হারিয়েছে এবং নতুন সংসদে তাদের আসনসংখ্যা

নজরুলের সাম্যচিন্তা এবং তার প্রাসঙ্গিকতা
কবি কাজী নজরুল ইসলামের বহুল পরিচিতি ‘বিদ্রোহী কবি’ হিসেবে, কিন্তু নজরুল উঁচুমার্গের ‘সাম্যবাদী কবি’ও বটেন। নজরুলের সাম্যচিন্তা তাঁর জীবনের বাস্তবতা থেকে উদ্ভূত। তাঁর শৈশব-কৈশোরের জীবন অভিজ্ঞতা, তাঁর যৌবনের যাপিত জীবন তাঁকে বাস্তব পৃথিবীর দারিদ্র্য, অসমতা ও অসাম্যের সঙ্গে পরিচিত করেছে অত্যন্ত নগ্নভাব

স্মৃতির নববর্ষ
পয়লা বৈশাখের এখনকার চালচিত্র থেকেই উঠে আসে স্মৃতি-অতীতের স্মৃতি। সেই স্মৃতির আলপনা-রেখার পথ ধরে মন চলে যায় সুদূর অতীতে। মনে পড়ে কত কথা, ৬০ বছর আগের কথা। ছবির মতো বরিশাল শহরের বেশির ভাগ রাস্তাই ছিল লাল সুরকির।

বান্দরবানে ব্যাংক ডাকাতি: বৃহত্তর পরিকল্পনার কোনো অংশ কি
খবরে দেখলাম যে, বান্দরবানের দুটো উপজেলা রুমা ও থানচিতে ১৭ ঘণ্টার মধ্যে দুটি ব্যাংকের তিনটি শাখায় হামলা করেছে অস্ত্রধারীরা। সোনালী ব্যাংক ও বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের শাখায় হামলা করে তারা সাড়ে ১৭ লাখ টাকা নিয়ে গেছে। ব্যাংকের একজন শাখা ব্যবস্থাপককে জিম্মি করে নেওয়া হয়েছে এবং পুলিশ ও আনসার সদস্যদের ১৪টি অস

অথঃ ‘স্যার’ সমাচার
আমার ছোটবেলায় আমাদের বাসায় ‘স্যার’ ছিলেন একজনই—আমার প্রয়াত পিতৃদেব। আমার বয়স যখন ১২-১৩, তত দিনে ভদ্রলোকের ১৫ বছরের শিক্ষকতা হয়ে গেছে। তাঁর ছাত্রকুল তখন ছড়িয়ে পড়েছে চারদিকে। যত্রতত্র: অফিসে-রাস্তায়, লঞ্চে-বাসে, বরিশালে-ঢাকায় গিজ গিজ করছে তাঁর ছাত্ররা। পাঠ্যপুস্তক রচনার কারণে সে বৃত্ত বৃহত্তর থেকে আরও

ফিরে দেখা
২০২৪ সালের ২৬ মার্চ বাংলাদেশ তার ৫৩তম স্বাধীনতা দিবস পার করছে। ১৯৭১ সালে ৯ মাসের একটি রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা ছিনিয়ে এনেছিলাম বিজয়ের লাল সূর্য। আমাদের স্বাধীনতা শুধু একটি ভূখণ্ডের নয়, নয় একটি মানবগোষ্ঠীর; সে বিজয় একটি চেতনার, একটি সংগ্রামের, একটি মূল্যবোধের

নারী মানেই আনাড়ি নয়
তিনটি কথা প্রথমেই বলে নেই। প্রথমত আমি শিবরাম চক্রবর্তীর পরম ভক্ত। তাঁর শব্দের খেলা আমার ভারি ভালো লাগে। ওই যে, ‘ধার করি আমরা উদ্ধার পাওয়ার জন্য’ কিংবা ‘স্বামী মানেই আসামি’। এবার ভাবলাম আমিও সে রকম একটু চেষ্টা করে দেখি না! বেশ ধস্তাধস্তির পরে বোঝা গেল, ও আমার কম্ম নয়। এখন যেমন ‘লেজেগোবরে’ অবস্থা আমার

বিদায় ২০২৩: ক্ষয়ে যাওয়া দিন ভরে রইল প্রাপ্তিতে
সময়ের বৃক্ষ থেকে আরও একটি পত্র ঝরে যাবে এক দিনের মধ্যেই, যবনিকাপাত হবে ২০২৩ সালের। শুরু হবে নতুন বছর, ২০২৪। পৃথিবীর ও বৃহত্তর মানবজীবনের পথপরিক্রমায় ৩৬৫ দিন নিশ্চিতভাবে পরমাণুসম ক্ষুদ্র, একটি দেশ বা সমাজের সার্বিক বিবর্তনেও একটি বছর তেমন কিছু নয়

অসাধারণ দূরদর্শিতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার
পেশাগত জীবনের বেশির ভাগই (সিকি শতাব্দীর ওপরে) আমি কাজ করেছি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উন্নয়নের প্রেক্ষাপটে। এই সিকি শতাব্দীতে বৈশ্বিক উন্নয়নের কতগুলো সন্ধিক্ষণ সারা পৃথিবীর জন্য অন্তত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এই যেমন ২০০০ সালের সহস্রাব্দ ঘোষণাপত্র

না, আমাদের আর দেখা হয়নি
১৯৭৫ সালের ১২ আগস্ট সন্ধ্যায় ওর সঙ্গে আমার শেষ দেখা, ওর সঙ্গে আমার শেষ ছবিও ওই দিনই। আমার এমএ পরীক্ষা চলছে তখন। অন্য সব পত্রের পরীক্ষা শেষ হয়ে গেছে, বাকি আছে শুধু অর্থমিতির, যে বিষয়টি অঙ্কে ঠাসা। অতএব দিনরাত পরিশ্রম চলছিল বিষয়টি ঝালিয়ে নেওয়ার। অন্য সবকিছুকেই নীলডাউন করিয়ে রাখা হয়েছিল আমার সলিমুল্লাহ
