
মুফতি আবু আবদুল্লাহ আহমদ
মুফতি আবু আবদুল্লাহ আহমদ
সকল লেখা

খলিফা ওমরের মানবিকতা ও সহাবস্থান নীতি
পৃথিবীবাসীকে দীর্ঘদিন ধরে শাসন করে যাওয়া শোষণমূলক সমাজব্যবস্থাকে পরাজিত করে আল্লাহ প্রদত্ত ইনসাফপূর্ণ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত করার যে মিশন মহানবী (সা.) শুরু করেছিলেন, তাঁর পরবর্তী খলিফাগণ তা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য বিশ্বব্যাপী সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় দ্বিতীয় খলিফা ওমর (রা.) রো

খতিবের যোগ্যতা ও গুণাবলি
মসজিদের ইমাম ও খতিব হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দায়িত্ব। ইসলামের প্রথম যুগে সাধারণত খলিফাগণই রাষ্ট্রের প্রধান মসজিদে ইমাম ও খতিবের দায়িত্ব পালন করতেন। পরবর্তী সময় থেকে যোগ্যতাসম্পন্ন দ্বীনদার আলেমগণ এই গুরুদায়িত্ব আঞ্জাম দিয়ে আসছেন।

মহানবীর বড় ৫ কূটনৈতিক সাফল্য
পবিত্র কোরআনের ভাষ্য অনুযায়ী মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)কে পাঠানোর প্রধান উদ্দেশ্য হলো মানবজাতিকে গোমরাহির অন্ধকার থেকে হিদায়াতের মাধ্যমে আলোর পথে নিয়ে আসা এবং পৃথিবীবাসীর ওপর চেপে বসা শোষণমূলক আইন ও সমাজব্যবস্থাকে পরাজিত করে আল্লাহর নির্দেশিত শোষণহীন ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজব্যবস্থা প্রতিৃষ্ঠা করা।

মুহাম্মদ (সা.) সর্বশেষ নবী ও রাসুল
আল্লাহর প্রেরিত নবী-রাসুলদের মধ্যে সর্বশেষ নবী হলেন হজরত মুহাম্মদ (সা.)। তাঁর পর থেকে কিয়ামত পর্যন্ত সমগ্র বিশ্বের মানব ও জিন জাতির জন্য তিনিই একমাত্র নবী ও রাসুল। তাঁর পরে আল্লাহ তাআলা অন্য কোনো নবী-রাসুল পাঠাননি, পাঠাবেন না। এটি পবিত্র কোরআন, বিশুদ্ধ হাদিস ও সব সাহাবির ইজমা (সর্বসম্মত অবস্থান) দ্ব

মহানবীর জীবনীচর্চা কেন প্রয়োজন
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা রাসুল (সা.)কে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘নিশ্চয়ই তুমি সুমহান চরিত্রের ওপর প্রতিষ্ঠিত।’ (সুরা কলম: ৪) অন্য আয়াতে রাসুল (সা.)-এর আদর্শই সবার জন্য অনুকরণীয় আদর্শ অভিহিত করে বলেন, ‘আল্লাহর রাসুলের মধ্যে তোমাদের জন্য রয়েছে উত্তম আদর্শ।’ (সুরা আহজাব: ২১)

জাকাত বা মসজিদের অর্থ থেকে ত্রাণ দেওয়া যাবে কি?
প্রশ্ন: বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর জানতে চাই। বন্যার্তদের জাকাত দেওয়া যাবে কি না। পূজার টাকার ত্রাণ গ্রহণ করা যাবে কি না। মসজিদের টাকা বন্যার্তদের দেওয়া যাবে কি না। অমুসলিমদের ত্রাণ দেওয়া যাবে কি না।

সমাজে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে করণীয়
মানুষকে সমাজবদ্ধ হয়ে বসবাস করতে হয়। তাই মানুষের ভালো থাকার জন্য সমাজ ভালো থাকা শর্ত। সমাজ নষ্ট হয়ে গেলে মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। নষ্ট সমাজে মানুষের জানমালের নিরাপত্তা থাকে না। চারদিকে বিরাজ করে ভীতি ও আতঙ্ক। পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও বিশ্বাস কমে যায়। সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে চুরি, ডাকাতি, অপহরণ, চাঁদাবাজ

ইসলামে প্রতিহিংসার স্থান নেই
কোনো সমাজ বা রাষ্ট্রে মানুষ প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধপরায়ণ হলে সেখানে শান্তি, নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা ব্যাহত হয়। দূরত্ব ও শত্রুতা বাড়ে। এ জন্য ইসলাম কঠিনভাবে তার নিন্দা করে। কারণ ইসলাম যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে চায়, প্রতিহিংসার চর্চা তার জন্য বিশাল বাধা।

ওমরাহর অফার দিয়ে পণ্য বিক্রি করা যাবে কি
সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখা যাচ্ছে, কিছু ধর্মীয় লাইব্রেরি বিজ্ঞাপন দিচ্ছে, যারা নির্দিষ্টসংখ্যক বই কিনবে, তাদের মধ্য থেকে লটারির মাধ্যমে একজনকে ওমরাহ করানো হবে। ওমরাহ করানোর খরচ কী প্রক্রিয়ায় বহন করা হবে, বিষয়টি স্পষ্ট নয়। ক্রেতাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হচ্ছে, নাকি বিক্রয়ের লভ্যাংশ থেকে খরচ নির্বাহ

যে অহংকারে ধ্বংস হয়েছিল আদ জাতি
মানবজাতির সুদীর্ঘ ইতিহাসে পৃথিবীর বুকে গড়ে উঠেছিল অসংখ্য সভ্যতা। আবার স্রষ্টার অবাধ্যতা, স্বেচ্ছাচারিতা, জুলুম, পাপাচার ইত্যাদির কারণে সেগুলোর বিনাশও ঘটেছিল। পবিত্র কোরআনে বর্ণিত আদ সভ্যতা সেগুলোর অন্যতম। হজরত ইসা আ.-এর আনুমানিক দুই বা তিন হাজার বছর আগে এ সভ্যতা প্রতিষ্ঠিত ছিল। আল্লাহ তাআলা তাদের ক

কোরআনে কি ৮০ শতাংশ কোটার কথা এসেছে
সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপক কোটা পদ্ধতির পক্ষে দলিল দিতে গিয়ে দাবি করেছেন, পবিত্র কোরআনের সুরা আনফালে উল্লেখ আছে, বিজয়ী বাহিনী দেশের সম্পদ, চাকরি, অর্থ ও ভূখণ্ডের ৮০ শতাংশের নিয়ন্ত্রণ পাবে, বাকি ২০ শতাংশ থাকবে দুস্থ-এতিমদের জন্য। পবিত্র কোরআনে কি আসলেই এমন কথা বলা হয়েছে? বিস্তারিত জানালে ক

কর্মকর্তা নিয়োগে খলিফা ওমরের নীতি
হজরত ওমর (রা.) ছিলেন একজন সফল রাষ্ট্রনায়ক। দীর্ঘ ১০ বছর (৬৩৪-৬৪৪ খ্রিষ্টাব্দ) তিনি ইসলামি রাষ্ট্রের খলিফা বা রাষ্ট্রপ্রধান ছিলেন। রাষ্ট্রের সর্বত্র সুশাসন প্রতিষ্ঠাই ছিল তাঁর প্রধান রাষ্ট্রনীতি। শাসনকাজ পরিচালনার সুবিধার্থে তিনি রাষ্ট্রকে কয়েকটি প্রদেশে বিভক্ত করেন এবং কেন্দ্রীয় সরকার নিয়ন্ত্রিত প্র

কোরবানির দিনে যা না জানলেই নয়
কোরবানির দিনে একজন ইমানদারের জন্য ইসলামের বেশ কিছু নির্দেশনা রয়েছে, তা তার মেনে চলা উচিত। এখানে তা সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো—

সমাজ সভ্যতায় হজ ও কোরবানির প্রভাব
হজ ও কোরবানি সম্পর্কে অনেকে প্রশ্ন করেন, হজে গিয়ে কী লাভ? সম্পদ অপচয় ছাড়া হজ থেকে কী অর্জিত হয়? আর কোরবানি পশুর প্রতি নিষ্ঠুরতা নয় কি? এর বিপরীতে এসব টাকা গরিব-দুঃখী মানুষের মধ্যে বণ্টন করে দেওয়াই জাতি হিসেবে আমাদের এগিয়ে যাওয়ার কারণ নয় কি? মূলত এসব প্রশ্নের বেশির ভাগই বিদ্বেষপ্রসূত। কারণ ইসলামে পৃথ

কেমন ছিল ইসলামপূর্ব যুগের কোরবানি
কোরবানি মানবজাতির সূচনাকাল থেকে চলে আসা পবিত্র ইবাদত। অতীতের সব নবী-রাসুলের শরিয়তেই কোরবানির বিধান ছিল। সময় ও পদ্ধতি ভিন্ন হলেও সব শরিয়তে কোরবানির মর্ম ছিল এক ও অভিন্ন। তা হলো, আল্লাহর দেওয়া সম্পদ তাঁর নামে, তাঁরই নির্দেশিত পদ্ধতিতে একমাত্র তাঁর জন্য উৎসর্গ করা। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘প্রত্যেক

হজের প্রেক্ষাপট ও আধ্যাত্মিক গুরুত্ব
হজ ইসলামের অন্যতম মৌলিক ফরজ বিধান। মানব জাতির ইবাদতের জন্য প্রথম নির্মিত ঘর পবিত্র কাবা শরিফকে কেন্দ্র করে এই বিধান পালিত হয়। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই মানব জাতির (ইবাদতের) জন্য প্রথম যে ঘর স্থাপিত হয়েছিল, তা তো মক্কায়। এটা বরকতময় ও বিশ্বজগতের দিশারি। এতে অনেক সুস্পষ্ট নিদর্শন আছে, য
